গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার মামলার রায়ের দিন নির্ধারণের তারিখ ঘিরে দেশ জুড়ে চাপা উদ্বেগ-আতঙ্ক বিরাজমান। বৃহস্পতিবার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এদিন আওয়ামী লীগের নেতারা ঢাকায় লকডাউন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকার সড়কে বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
উদ্বেগ আতঙ্কের কারণে গতকাল রাজধানীতে সাধারণ মানুষ ও যান চলাচলের পরিমাণ ছিল অন্য দিনের চেয়ে কম। এ পরিস্থিতিতে রাজধানীর অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস নেয়ার তথ্য জানিয়েছে।
সারা দেশে গত কয়েকদিন ধরে অন্তত অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, অন্তত ২০টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কিছু স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বেশ কিছু স্থান থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ১৩ই নভেম্বর লকডাউন পালনের ঘোষণা দেন। দলটির নেতাকর্মীরাও এ নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথম দিকে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও নানা ঘটনার পর তারাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার নজরদারি চলছে। সাদা পোশাকের সদস্যসহ দেশ জুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, ডিবি, র্যাব সদস্য দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা ও আশেপাশের জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। থানায় থানায় দেয়া হয়েছে কড়া বার্তা। সারা দেশ থেকেই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দেশবাসীর জন্য নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মেসে বাসায় হোটেলে নতুন অতিথি যাচাই-বাছাই করে তোলার কথাও বলা হয়েছে। সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউনের পর কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের সূত্র বলছে, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়সহ প্রধান প্রধান সরকারি অফিসগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছাড়াও রাজধানীর বনানী, উত্তরা, বাড্ডা, পল্টন ও ধানমণ্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কূটনৈতিক পাড়াসহ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরসহ সম্পূর্ণ ধানমণ্ডি এলাকায় নজরদারি করা হচ্ছে।
এদিকে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীসহ ঢাকায় ১২ প্লাটুন ও আশপাশের জেলায় দুই প্লাটুনসহ মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বাসেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ও ১৩ই নভেম্বর) সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সশরীরের পরিবর্তে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। দুইদিন পর আবার সশরীরে ক্লাস নেয়া হতে পারে বলেও শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দেয়া নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিরাপত্তা শঙ্কার পরিবর্তে ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করেছে। সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে অনলাইনে ক্লাস নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি, ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। এর মধ্যে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেবে।

রোববার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রকাশের তারিখ : ১৩ নভেম্বর ২০২৫
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার মামলার রায়ের দিন নির্ধারণের তারিখ ঘিরে দেশ জুড়ে চাপা উদ্বেগ-আতঙ্ক বিরাজমান। বৃহস্পতিবার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এদিন আওয়ামী লীগের নেতারা ঢাকায় লকডাউন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকার সড়কে বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
উদ্বেগ আতঙ্কের কারণে গতকাল রাজধানীতে সাধারণ মানুষ ও যান চলাচলের পরিমাণ ছিল অন্য দিনের চেয়ে কম। এ পরিস্থিতিতে রাজধানীর অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস নেয়ার তথ্য জানিয়েছে।
সারা দেশে গত কয়েকদিন ধরে অন্তত অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, অন্তত ২০টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কিছু স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বেশ কিছু স্থান থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ১৩ই নভেম্বর লকডাউন পালনের ঘোষণা দেন। দলটির নেতাকর্মীরাও এ নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথম দিকে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও নানা ঘটনার পর তারাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার নজরদারি চলছে। সাদা পোশাকের সদস্যসহ দেশ জুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, ডিবি, র্যাব সদস্য দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা ও আশেপাশের জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। থানায় থানায় দেয়া হয়েছে কড়া বার্তা। সারা দেশ থেকেই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দেশবাসীর জন্য নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মেসে বাসায় হোটেলে নতুন অতিথি যাচাই-বাছাই করে তোলার কথাও বলা হয়েছে। সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউনের পর কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের সূত্র বলছে, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়সহ প্রধান প্রধান সরকারি অফিসগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছাড়াও রাজধানীর বনানী, উত্তরা, বাড্ডা, পল্টন ও ধানমণ্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কূটনৈতিক পাড়াসহ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরসহ সম্পূর্ণ ধানমণ্ডি এলাকায় নজরদারি করা হচ্ছে।
এদিকে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীসহ ঢাকায় ১২ প্লাটুন ও আশপাশের জেলায় দুই প্লাটুনসহ মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বাসেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ও ১৩ই নভেম্বর) সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সশরীরের পরিবর্তে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। দুইদিন পর আবার সশরীরে ক্লাস নেয়া হতে পারে বলেও শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দেয়া নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিরাপত্তা শঙ্কার পরিবর্তে ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করেছে। সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে অনলাইনে ক্লাস নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি, ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। এর মধ্যে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেবে।

আপনার মতামত লিখুন