রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. কবীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, উৎপাদন শুরু করতে প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স মিলেছে। ফলে উৎপাদন শুরু করতে আর কোনো বাধা নেই। এ মাসের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হতে পারে। এর মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে হতে পারে।
প্রসঙ্গত, জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন ও পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরুর প্রায় তিন মাসের মধ্যেই কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল রূপপুর প্রকল্পে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডের সময় নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে লোডিং শুরু করা যায়নি। তবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা ঘুরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করার পর লাইসেন্স দেওয়া হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি প্রবেশের পর অন্তত ছয় মাস ধরে পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলবে। এ সময় ধাপে ধাপে পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক অনুমতি নিতে হবে। এতে সেপ্টেম্বরের আগে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর তেমন সম্ভাবনা নেই।
বিষয় : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বায়েরা

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. কবীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, উৎপাদন শুরু করতে প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স মিলেছে। ফলে উৎপাদন শুরু করতে আর কোনো বাধা নেই। এ মাসের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হতে পারে। এর মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে হতে পারে।
প্রসঙ্গত, জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন ও পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরুর প্রায় তিন মাসের মধ্যেই কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল রূপপুর প্রকল্পে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডের সময় নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে লোডিং শুরু করা যায়নি। তবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা ঘুরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করার পর লাইসেন্স দেওয়া হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি প্রবেশের পর অন্তত ছয় মাস ধরে পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলবে। এ সময় ধাপে ধাপে পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক অনুমতি নিতে হবে। এতে সেপ্টেম্বরের আগে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর তেমন সম্ভাবনা নেই।

আপনার মতামত লিখুন