শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
মিররবাংলা
আলোচনায় রাষ্ট্রপতির ভাষণ

আলোচনায় রাষ্ট্রপতির ভাষণ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন  আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। যে সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি শপথ নিয়েছিলেন সেই সরকারের দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়েও কথা বলেন তিনি। নানা অনিয়ম তদন্তের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি।বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে ২০০১ সালের জুন মাসে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ প্রণয়ন করে। এর ফলে বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায়।’‘২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়, তার অনেক আগেই বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এবারও দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে বর্তমান সরকারের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।’ভাষণের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহিদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল অবিসংবাদিত নেতা এবং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অসামান্য নেতৃত্বের জন্য তিনবার নির্বাচিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।  তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে এক পর্যায়ে একটি ফ্যাসিবাদ-বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রবাসী তথা সকল শ্রেণি পেশার মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলসহ সকলের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে।’  রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হাজার হাজার শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কমপক্ষে ত্রিশ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। পাঁচ শতাধিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন।’তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে, মামলার জট কমাতে, ন্যায়বিচার প্রদানে হয়রানি দূর করতে, দুর্নীতি প্রতিরোধে বিচারিক পরিষেবা আধুনিকীকরণ, বিচারিক নিয়োগের জন্য আইন প্রণয়ন, বিচার বিভাগীয় কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কাজ করছে, তাই সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতিতে কঠোর অবস্থানে গ্রহণ করে জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক ও প্রতিরোধমূলক   কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব হুমকি সম্পূর্ণরূপে দমন করা হবে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন-‘সবার আগে বাংলাদেশ।’ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে।’ একটি সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রপতি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) জাতির কাছে দায়বদ্ধ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়-এ বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।’ ‘জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার সকল কার্যক্রমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চর্চার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয় চলছে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই গৌরবময় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। নবগঠিত সরকারের সামনে বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই বিরাট চ্যালেঞ্জ। পথ কঠিন হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই বাধা অতিক্রম অসম্ভব নয়। সরকারি ও বিরোধী দলগুলো ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে কাজ করলে খুব সহজেই দ্রুততার সঙ্গে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে।’ রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদ সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার, আধুনিক এবং দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।’রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে ঘরে-বাইরে শান্তি, স্বস্তি এবং নিরাপত্তা বোধ করেন এটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার সব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে বর্তমান সরকার অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকে চিহ্নিত করেছে। ফলে জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, ধারালো অস্ত্র ও হাতবোমা উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলবে। এ ছাড়া চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং প্রজাতন্ত্রের নিবেদিতপ্রাণ জনসেবকদের সহ যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন তাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সকল রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের অংশগ্রহণ, সেই সাথে বাংলাদেশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসাহী অংশগ্রহণ সমানভাবে প্রশংসনীয়, কারণ তারা ভবিষ্যতের জন্য একটি উজ্জ্বল ও স্থায়ী উদাহরণ স্থাপন করেছে।’রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, ব্যবসা ও বাণিজ্য, ব্যাংকিং, প্রশাসন, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্পসহ সকল ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং পরিকল্পনা তুলে ধরেন।সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে যথাযথ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায়, বর্তমানে দেশে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা এবং স্নাতক (পাস) স্তর এবং সমমানের পর্যন্ত উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু রয়েছে। বর্তমান সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায়েও অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’ অর্থনীতি বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে একটি অস্থিতিশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল রয়েছে। রেমিট্যান্সসহ বেশ কয়েকটি সূচক ইতিবাচক প্রবণতা দেখাতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধিও হার দাঁড়িয়েছে ৩.৪৯ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে, মাথাপিছু জাতীয় আয় ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। সরকার আশা করছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় হবে।’তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সংঘাত, অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি এবং জিডিপির তুলনায় রাজস্বের অনুপাত কম থাকার কারণে অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মুদ্রাস্ফীতি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৯.৯৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগামী মাসগুলিতে মুদ্রাস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, তিনি বলেন।’মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘গত বছর, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ছিল ৪৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, রপ্তানি ৮.৬০ শতাংশ বেড়ে ৪৮.৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৬.৮৩ শতাংশ বেড়ে ৩০ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং বিনিময় হার ছিল প্রতি মার্কিন ডলারে ১২২.৩০ টাকা।’রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে, সুদের হার যৌক্তিক করতে এবং জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এই লক্ষ্যে একটি ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।’তিনি বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা, তদারকি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ক্ষমতায়নের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করা হবে। ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চ খেলাপি ঋণ সমস্যা পর্যালোচনা করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমা খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। গত পনেরো বছরে পুঁজিবাজারে অনিয়ম তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।’ ভাষণ শেষে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ছেড়ে যান। এরপর সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ (রোববার) বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’– সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান।রাষ্ট্রপতি এর মধ্যদিয়েই সংসদের অধিবেশনে ঢোকেন এবং স্পিকারের পাশে বসেন। সংসদে হইচই করতে থাকেন বিরোধীদল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। এর মধ্যেই বক্তব্য শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার বক্তব্য চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। তখন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।
২৩ ঘন্টা আগে

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ মিরপুরে

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে হেসেখেলে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টাইগারদের কাছে রীতিমতো আত্মসমর্পণ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট টিম।বুধবার (১১ মার্চ) সফরকারী দল টসে হেরে ব্যাট করতে নামে। নাহিদ রানার আগুনে স্পেলে বাংলাদেশ শুরুতেই অন্যরকম বার্তা দেয় পাকিস্তানকে। ৬৯ রানের মধ্যেই প্রথম পাঁচ উইকেট হারায় পাকিস্তান। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নেন নাহিদ। বাকি পাঁচ উইকেট ভাগাভাগি করেন তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। বোলারদের  দাপটে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। সব মিলিয়ে ১১৪ রান করে তারা।মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান।১১৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তানজিদের ঝড়ো ফিফটিতে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। তানজিদের সাথে ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ফেরেন সাইফ হাসান। এরপর তানজিদের সাথে ৬৭ বলে ৮২ রানের জুটি গড়েন শান্ত। তখনই ম্যাচ চলে আসে একদম হাতের নাগালে। ৩২ বলে নিজের পঞ্চম ফিফটি করেন তানজিদ। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৭ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। শান্ত করেন ৩৩ বলে ২৭ রান।মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রায় ১১ বছর পর ৫ উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার। এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের দিনে নাহিদ রানা বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে প্রতিপক্ষের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নেন। একে একে তিনি তুলে নেন ফারহান, শামিল হুসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার উইকেট। এদিন ১০ ওভারে ২৯ রানে ৩ উইকেট নেন মিরাজ।প্রথম ম্যাচে ২০৯ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলেন মেহেদী হাসান মিরাজরা।পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাকি কাজটা সারালেন তানজিদ হাসান তামিম।

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ মিরপুরে
৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৪২ এএম
জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই সংস্কার। আপনি কি  এ বিষয়ে একমত?

জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই সংস্কার। আপনি কি এ বিষয়ে একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন