আবু সাঈদ হত্যায় ৩০ আসামির সাজা
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন-বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া তিনজন হলেন- তখনকার সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব। এছাড়া বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদ ও রংপুরের সাবেক পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ ৫ জনকে ১০ বছরসহ ৩০ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সেদিন পুলিশের গুলির মুখে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদ এ আন্দোলনের আইকন হিসেবে বিবেচিত হন। একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ড ২ আসামির। তারা হলেন- ১) মো. আমির হোসেন, সাবেক এএসআই (সশস্ত্র)/১৭৪ আরপিএমপি রংপুর। ২) সুজন চন্দ্র রায়, সাবেক কনস্টেবল/১১৭৫ আরপিএমপি, রংপুর। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৩ আসামির। তারা হলেন- ১) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার, কোতোয়ালী জোন, আরপিএমপি, রংপুর। ২) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র), সাবেক অফিসার ইনচার্জ, তাজহাট থানা, আরপিএমপি, রংপুর। ৩) বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব, এসআই (নিরস্ত্র), সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আরপিএমপি, রংপুর। ১০ বছরের সাজা হয়েছে ৫ জনের। তারা হলেন- ১) হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, সাবেক ভিসি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ২) মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, সাবেক পুলিশ কমিশনার, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, রংপুর। ৩) মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক, গণিত বিভাগ, বেরোবি। ৪) আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ, সহযোগী অধ্যাপক, লোক প্রশাসন বিভাগ, বেরোবি রংপুর। ৫) পোমেল বড়ুয়া, ছাত্রলীগ সভাপতি, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৫ বছরের সাজা হয়েছে ৮ জনের। তারা হলেন- ১) আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার, আরপিএমপি, রংপুর। ২) শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, আরপিএমপি, রংপুর। ৩) রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার, বেরোবি, রংপুর। ৪) এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৫) মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৬) মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, বেরোবি, রংপুর। ৭) ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন, সভাপতি, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, রংপুর। ৮) শরীফুল ইসলাম, সাবেক প্রক্টর, বেরোবি, রংপুর। ৩ বছরের সাজা হয়েছে ১১ জন আসামির। তারা হলেন- ১) হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সহকারী রেজিষ্ট্রার, বেরোবি। ২) মনিরুজ্জামান পলাশ, সেকশন অফিসার, বেরোবি। ৩) মাহাফুজুর রহমান শামীম, সাধারণ সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৪) ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, সহ-সভাপতি, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৫) আখতার হোসেন, সহসভাপতি, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৬) সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৭) ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, সাংগঠনিক সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৮) বাবুল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৯) মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, এমএলএসএস, বেরোবি, রংপুর। ১০) নূর আলম মিয়া, সিকিউরিটি গার্ড, বেরোবি, রংপুর। ১১) একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু, এমএলএসএস, বেরোবি, রংপুর। এদিকে, বেরোবি প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলকে যতদিন কারাগারে ছিলেন ততোদিনই সাজা দেয়া হয়েছে।
৯ ঘন্টা আগে