প্রতি বছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় যে ঈদ জামাত হবে তা এ ময়দানের ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। তিন লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জামাতে অংশ নেবেন বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা। প্রায় দুই শ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে চলা দেশের সবচেয়ে বড় এ ঈদ জামাতের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করবে ১১০০ পুলিশ সদস্য। ঈদ জামাতে আগত মুসল্লিদের নির্ধারিত প্রবেশপথ ব্যতীত অন্য পথ ব্যবহার না করা, কোন প্রকার ব্যাগ, ধারালো অস্ত্র বা সন্দেহজনক কোন কিছু বহন না করার জন্য নিষেধ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, অনেক আগে এ মাঠে অনুষ্ঠিত এক ঈদুল ফিতরের জামাতে কাতার গুণে ১ লাখ ২৫ হাজার মুসল্লির উপস্থিতি দেখা যায়। তখন থেকে এ ঈদগাহ ময়দানটিকে ‘সোয়া লাখিয়া ঈদগাহ ময়দান’ হিসেবে লোকজন ডাকতে শুরু করেন। যা পরবর্তীতে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান হিসেবেই পরিচিত হয়ে ওঠে। এ মাঠে প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের জামাতে অংশ নিতে দেশ-বিদেশের তিন লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ছুটে আসেন। কিশোরগঞ্জের হয়বত নগর সাহেব বাড়ির পূর্ব পুরুষ শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ তার নিজস্ব তালুকে নরসুন্দা নদীর তীরে ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ৭ একর জমির ওপর ঈদগাহ ময়দান প্রতিষ্ঠা করেন। তার ইমামতিতে এ ঈদগাহ ময়দানে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবার অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। এ জামাতে ইমামতি করবেন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিজিবির নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বলা হয়, বিজিবি সীমান্তে নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্বপালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নির্ভরযোগ্যভাবে দায়িত্বপালন পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের সর্ববৃহৎ এই ঈদ জামাতে আগত মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টিসহ নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ২০১৬ সালে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। সে বিষয়টিকে সামনে রেখে এবারও নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে শোলাকিয়া। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও র্যাবের কর্মকর্তারা দফায় দফায় পরিদর্শন করেছেন শোলাকিয়া ময়দান। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে শোলাকিয়া ময়দানকে। ঈদের দিন শোলাকিয়ায় বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শোলাকিয়ায় এবার সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যসহ মোট ১১০০ জন পুলিশ, র্যাবের ৬টি টিম(প্রতি টিমে ৬ জন করে), ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী ও ৫ প্লাটুন আনসার সদস্য কাজ করবে। এছাড়াও নিরাপত্তায় মাঠে ৪টি ওয়াচটাওয়ার করা হয়েছে এরমধ্যে ২টি পুলিশ ও ২টি র্যাবে ব্যবহার করবে। মাঠসহ আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঈদের দিন মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে থাকবে ১৩ টি আর্চওয়ে, থাকবে ড্রোন ক্যামেরাও। ঈদেরদিন এখানে ফায়ার সার্ভিস কাজ করবে। ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম থাকবে। ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ২৮টি প্রবেশ পথে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা আগত মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করে ঈদগাহের ঢোকার ব্যবস্থা করবে। ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঈদের আগের দিন থেকে শহরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদের দিন মুসল্লিদেরকে শুধুমাত্র জায়নামাজ নিয়ে মাঠে আসার অনুরোধ করেছেন।