সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
মিররবাংলা

রামিসা হত্যা মামলায় চার্জশিট


মিরর রিপোর্ট
মিরর রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬

রামিসা হত্যা মামলায় চার্জশিট

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। 

রোববার (২৪ মে) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন। 

চার্জশিটে বলা হয়েছে, হত্যার শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে রামিসাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীকালে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। এ ছাড়া আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে তার মাথাটি রাখা ছিল।

আবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। সেই সঙ্গে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে খণ্ডিত মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়। 

ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। ওইদিনই বাসা থেকে স্বপ্নাকে ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২০ মে এ মামলায় আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মূল আসামি সোহেল রানা। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া ওইদিন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। 

দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক মো. অহিদুজ্জামান। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের মামলা বদলির আদেশ দেন।

পরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার অভিযোগ আমলে নেন। এরপর মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১ জুন দিন ধার্য করেন। 

ঢাকার পল্লবীতে গত মঙ্গলবার ৮ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাজধানীর এ নৃশংস ঘটনায় সারাদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় দ্রুত  তদন্ত শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জব্দকৃত আলামতের ভিত্তিতে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে পল্লবীতে রামিসাদের বাসায় যান তারেক রহমান। তিনি রামিসার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস দেন। 

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার এ ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে জোর আলোচনা চলছে। 

বিষয় : হত্যা শিশু রামিসা শিশু ধর্ষণ চার্জশিট

আপনার মতামত লিখুন

মিররবাংলা

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


রামিসা হত্যা মামলায় চার্জশিট

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। 

রোববার (২৪ মে) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন। 

চার্জশিটে বলা হয়েছে, হত্যার শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে রামিসাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীকালে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। এ ছাড়া আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে তার মাথাটি রাখা ছিল।

আবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। সেই সঙ্গে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে খণ্ডিত মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়। 

ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। ওইদিনই বাসা থেকে স্বপ্নাকে ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২০ মে এ মামলায় আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মূল আসামি সোহেল রানা। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া ওইদিন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। 

দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক মো. অহিদুজ্জামান। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের মামলা বদলির আদেশ দেন।

পরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার অভিযোগ আমলে নেন। এরপর মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১ জুন দিন ধার্য করেন। 

ঢাকার পল্লবীতে গত মঙ্গলবার ৮ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাজধানীর এ নৃশংস ঘটনায় সারাদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় দ্রুত  তদন্ত শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জব্দকৃত আলামতের ভিত্তিতে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে পল্লবীতে রামিসাদের বাসায় যান তারেক রহমান। তিনি রামিসার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস দেন। 

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার এ ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে জোর আলোচনা চলছে। 


মিররবাংলা

সম্পাদক ও প্রকাশক- মাসুদুল আলম তুষার
কপিরাইট © ২০২৬ মিররবাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত