বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
মিররবাংলা

কেন বাড়ল তেলের দাম


মিরর রিপোর্ট
মিরর রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

কেন বাড়ল তেলের দাম

সরকার ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে। বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। কিন্তু কেন বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধি নিয়ে চলছে এক ধরণের লুকোচুরি। 

এবছর ফেব্রুয়ারির শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে। তখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বাড়লেও বাংলাদেশে স্থির থাকে। এপ্রিলের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথাও জানায় সরকার। তবে মাঠ পর্যায়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দাম বাড়াতেই এসব নাটকীয়তা বলে সমালোচনা শুরু হয়। অবশেষে অতীতের রীতি-রেওয়াজ ভেঙ্গে সরকার মাসের ১৮ তারিখে আকস্মিক ঘোষণা দেয় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অকটেনের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ডিজেল ১১৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হবে। নতুন দাম রোববার থেকে কার্যকর হবে। 

আকস্মিক এ মূল্যবৃদ্ধির আগে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা ও পেট্রোলের মূল্য ১১৬ টাকা ছিল। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় 'মূল ঘটনা' নয়, তাহলে আগেই তা করা হতো। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন ঘটেছে, ঠিক সে সময়েই বাংলাদেশ দাম বাড়াচ্ছে। মূলত জ্বালানি খাতে 'ভর্তুকির চাপ' কমাতে ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আর সেটি করতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই ভর্তুকি সীমিত করার কথা বলে আসছে। আইএমএফ বাংলাদেশের জন্য যে ঋণ অনুমোদন করেছিল তার পরবর্তী কিস্তি পাওয়া নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তারই সূত্রে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে এ খাতে ভর্তুকি সীমিত দেখানোর চেষ্টা করছে বলে অনেকের মত। চলমান ঋণ প্যাকেজের ১.৩ বিলিয়ন ডলার ও বাজেট সহায়তা হিসেবে আরো ২ বিলিয়ন ডলার আইএমএফের কাছে প্রত্যাশা করছে সরকার। 

তবে জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যয় ও ভোক্তা পর্যায়ের সামগ্রিক ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির তথ্য অনুসারে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে মূল হলো ডিজেল, যা মোট জ্বালানি তেলের ৬৩ শতাংশ। বিশেষ করে কৃষি ও পরিবহন খাতে বিপুল পরিমাণ ডিজেলের যোগান দিতে হয়। আর জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেল শতভাগ আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সময়মতো জাহাজ আসতে না পারায় এর যোগানে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তবে প্রতিবেশি দেশ ভারতের সহযোগিতায় সরকার পরিস্থিতি সামালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে, মানুষ ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে মূলত অকটেন ও পেট্রোলের জন্য। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসে সাধারণত জ্বালানি তেল হিসেবে অকটেন ব্যবহৃত হয়। সরবরাহ করা মোট জ্বালানি তেলের ৬ শতাংশ অকটেন। মূলত চাহিদার বেশিরভাগ অকটেন মেলে দেশীয় উৎস থেকে। দেশে বর্তমানে অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই। আর দেশে জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ৭ শতাংশ পেট্রোল, যার শতভাগ দেশে উৎপাদিত হয়। সেক্ষেত্রে অকটেন ও পেট্রালের সংকট এবং দাম বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে বেশি। 

বিষয় : জ্বালানি তেল বিপিসি অকটেন পেট্রোল ডিজেল

আপনার মতামত লিখুন

মিররবাংলা

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


কেন বাড়ল তেলের দাম

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সরকার ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে। বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। কিন্তু কেন বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধি নিয়ে চলছে এক ধরণের লুকোচুরি। 

এবছর ফেব্রুয়ারির শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে। তখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বাড়লেও বাংলাদেশে স্থির থাকে। এপ্রিলের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথাও জানায় সরকার। তবে মাঠ পর্যায়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দাম বাড়াতেই এসব নাটকীয়তা বলে সমালোচনা শুরু হয়। অবশেষে অতীতের রীতি-রেওয়াজ ভেঙ্গে সরকার মাসের ১৮ তারিখে আকস্মিক ঘোষণা দেয় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অকটেনের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ডিজেল ১১৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হবে। নতুন দাম রোববার থেকে কার্যকর হবে। 

আকস্মিক এ মূল্যবৃদ্ধির আগে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা ও পেট্রোলের মূল্য ১১৬ টাকা ছিল। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় 'মূল ঘটনা' নয়, তাহলে আগেই তা করা হতো। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন ঘটেছে, ঠিক সে সময়েই বাংলাদেশ দাম বাড়াচ্ছে। মূলত জ্বালানি খাতে 'ভর্তুকির চাপ' কমাতে ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আর সেটি করতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই ভর্তুকি সীমিত করার কথা বলে আসছে। আইএমএফ বাংলাদেশের জন্য যে ঋণ অনুমোদন করেছিল তার পরবর্তী কিস্তি পাওয়া নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তারই সূত্রে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে এ খাতে ভর্তুকি সীমিত দেখানোর চেষ্টা করছে বলে অনেকের মত। চলমান ঋণ প্যাকেজের ১.৩ বিলিয়ন ডলার ও বাজেট সহায়তা হিসেবে আরো ২ বিলিয়ন ডলার আইএমএফের কাছে প্রত্যাশা করছে সরকার। 

তবে জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যয় ও ভোক্তা পর্যায়ের সামগ্রিক ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির তথ্য অনুসারে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে মূল হলো ডিজেল, যা মোট জ্বালানি তেলের ৬৩ শতাংশ। বিশেষ করে কৃষি ও পরিবহন খাতে বিপুল পরিমাণ ডিজেলের যোগান দিতে হয়। আর জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেল শতভাগ আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সময়মতো জাহাজ আসতে না পারায় এর যোগানে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তবে প্রতিবেশি দেশ ভারতের সহযোগিতায় সরকার পরিস্থিতি সামালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে, মানুষ ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে মূলত অকটেন ও পেট্রোলের জন্য। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসে সাধারণত জ্বালানি তেল হিসেবে অকটেন ব্যবহৃত হয়। সরবরাহ করা মোট জ্বালানি তেলের ৬ শতাংশ অকটেন। মূলত চাহিদার বেশিরভাগ অকটেন মেলে দেশীয় উৎস থেকে। দেশে বর্তমানে অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই। আর দেশে জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ৭ শতাংশ পেট্রোল, যার শতভাগ দেশে উৎপাদিত হয়। সেক্ষেত্রে অকটেন ও পেট্রালের সংকট এবং দাম বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে বেশি। 


মিররবাংলা

সম্পাদক ও প্রকাশক- মাসুদুল আলম তুষার
কপিরাইট © ২০২৬ মিররবাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত