বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
মিররবাংলা

মায়ের পদক মেয়ের হাতে দিলেন প্রধানমন্ত্রী


মিরর রিপোর্ট
মিরর রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মায়ের পদক মেয়ের হাতে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কারটি নাতনি জাইমা রহমানের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৪ টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। 

এ বছর পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ‘দাদু’র মরণোত্তর পুরস্কারটি গ্রহণ করেন নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য। খালেদা জিয়াসহ মরণোত্তর সন্মাননা পেয়েছেন সাতজন। মরণোত্তর পদকপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজ সেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও  মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান। 

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আঠারো ক্যারেটের ৫০ গ্রামের একটি স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, তিন লাখ টাকা ও  একটা সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। 

বার্তা সংস্থা বাসস জানায়,  প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্হলে এসে পৌঁছান দুপুর ৩টা ৫৮ মিনিটে, ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআান থেকে তেলোয়াত করেন, হাফিজ কারী হাবিবুর রহমান। এরপর একে একে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান এবং খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংসদ, বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মেজর জলিলের পক্ষে তার কন্যা ব্যারিস্টার সারা জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে তার মেয়ে ড. তাসনিম আরিফা সিদ্দিকৗ ,জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে তার স্বামী মনসুর হেলাল, বশির আহমেদের পক্ষে তার হুমায়ারা বশির এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে তার কন্যা তাবাসুম শাহনাজ। 

বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজ সেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার নেন। 

অধ্যাপক জহুরুল করিমের পক্ষে তার পুত্র হারুনুর রশীদ এবং একেএম হানিফ, জোবেরা রহমান, সাইদুল হক, মোহাম্মদ আবদুল বাকী, এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবদুল মুকিত মজমুদার প্রত্যেকে নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নেন। 

এ বছর যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে তা হলো, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা বিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে। 

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আদনান কবির, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, এসওএস শিশু পল্লীর ন্যাশনাল ডাইরেক্টর ড. এনামুল হক এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র প্যারামেডিক বিউটি রানী সাহা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেন। 

বিষয় : খালেদা জিয়া তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কার জাইমা রহমান

আপনার মতামত লিখুন

মিররবাংলা

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


মায়ের পদক মেয়ের হাতে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৪ টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। 

এ বছর পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ‘দাদু’র মরণোত্তর পুরস্কারটি গ্রহণ করেন নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য। খালেদা জিয়াসহ মরণোত্তর সন্মাননা পেয়েছেন সাতজন। মরণোত্তর পদকপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজ সেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও  মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান। 

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আঠারো ক্যারেটের ৫০ গ্রামের একটি স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, তিন লাখ টাকা ও  একটা সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। 

বার্তা সংস্থা বাসস জানায়,  প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্হলে এসে পৌঁছান দুপুর ৩টা ৫৮ মিনিটে, ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআান থেকে তেলোয়াত করেন, হাফিজ কারী হাবিবুর রহমান। এরপর একে একে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান এবং খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংসদ, বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মেজর জলিলের পক্ষে তার কন্যা ব্যারিস্টার সারা জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে তার মেয়ে ড. তাসনিম আরিফা সিদ্দিকৗ ,জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে তার স্বামী মনসুর হেলাল, বশির আহমেদের পক্ষে তার হুমায়ারা বশির এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে তার কন্যা তাবাসুম শাহনাজ। 

বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজ সেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার নেন। 

অধ্যাপক জহুরুল করিমের পক্ষে তার পুত্র হারুনুর রশীদ এবং একেএম হানিফ, জোবেরা রহমান, সাইদুল হক, মোহাম্মদ আবদুল বাকী, এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবদুল মুকিত মজমুদার প্রত্যেকে নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নেন। 

এ বছর যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে তা হলো, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা বিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে। 

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আদনান কবির, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, এসওএস শিশু পল্লীর ন্যাশনাল ডাইরেক্টর ড. এনামুল হক এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র প্যারামেডিক বিউটি রানী সাহা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেন। 


মিররবাংলা

সম্পাদক ও প্রকাশক- মাসুদুল আলম তুষার
কপিরাইট © ২০২৬ মিররবাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত