বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
মিররবাংলা

হরমুজ প্রণালি ‘ফের বন্ধ’


মিরর ডেস্ক
মিরর ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালি ‘ফের বন্ধ’
গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। কার্যত নানা শর্ত মেনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে সীমিত জাহাজ।

মার্কিন এ অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’। 

১৮ এপ্রিল (শনিবার) এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’ 

যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হরমুজ প্রণালিতে কোনো অবরোধ দেয়নি; তবে ইরানি বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজগুলোর চলাচলের ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে না দেবে, ততক্ষণ এ কড়াকড়ি বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে ইরান। 

এদিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জাহাজটির নাম সানমার হেরাল্ড। হামলার পর জাহাজটি ও এর নাবিকরা নিরাপদ রয়েছে। তবে এই ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারত। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

এর আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করায় জ্বালানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালি পুরোপুরিভাবে খুলে দেয় ইরান। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সের এক পোস্টে এ কথা জানান। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। এই পদক্ষেপের কারণে ইরানকে ধন্যবাদ জানায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। 

কিন্তু প্রণালিটিতে মার্কিন অবরোধ বহাল রাখায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চারটি কঠোর শর্ত জারি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। কার্যত একদিনের মধ্যেই ফের বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি। নতুন সমঝোতা ছাড়া এ সংকট কাটবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৩টি জাহাজকে মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে ইরানে ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল অবরোধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৩টি জাহাজ মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা মেনে গতিপথ পরিবর্তন করে ইরানের দিকে ফিরে গেছে।

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও কিছুক্ষণ পর তা কার্যত আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইরান সাময়িকভাবে কড়াকড়ি শিথিল করার সংক্ষিপ্ত সময়ে অন্তত ৯টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। 

বিষয় : ইরান হরমুজ প্রণালি

আপনার মতামত লিখুন

মিররবাংলা

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজ প্রণালি ‘ফের বন্ধ’

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। কার্যত নানা শর্ত মেনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে সীমিত জাহাজ।

মার্কিন এ অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’। 

১৮ এপ্রিল (শনিবার) এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’ 

যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হরমুজ প্রণালিতে কোনো অবরোধ দেয়নি; তবে ইরানি বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজগুলোর চলাচলের ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে না দেবে, ততক্ষণ এ কড়াকড়ি বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে ইরান। 

এদিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জাহাজটির নাম সানমার হেরাল্ড। হামলার পর জাহাজটি ও এর নাবিকরা নিরাপদ রয়েছে। তবে এই ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারত। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

এর আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করায় জ্বালানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালি পুরোপুরিভাবে খুলে দেয় ইরান। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সের এক পোস্টে এ কথা জানান। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। এই পদক্ষেপের কারণে ইরানকে ধন্যবাদ জানায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। 

কিন্তু প্রণালিটিতে মার্কিন অবরোধ বহাল রাখায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চারটি কঠোর শর্ত জারি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। কার্যত একদিনের মধ্যেই ফের বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি। নতুন সমঝোতা ছাড়া এ সংকট কাটবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৩টি জাহাজকে মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে ইরানে ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল অবরোধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৩টি জাহাজ মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা মেনে গতিপথ পরিবর্তন করে ইরানের দিকে ফিরে গেছে।

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও কিছুক্ষণ পর তা কার্যত আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইরান সাময়িকভাবে কড়াকড়ি শিথিল করার সংক্ষিপ্ত সময়ে অন্তত ৯টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। 


মিররবাংলা

সম্পাদক ও প্রকাশক- মাসুদুল আলম তুষার
কপিরাইট © ২০২৬ মিররবাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত