সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মিররবাংলা

সুফি সাধক নিহত ‘মব’ সন্ত্রাসে


মিরর রিপোর্ট
মিরর রিপোর্ট
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

সুফি সাধক নিহত ‘মব’ সন্ত্রাসে
সুফি সাধক আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর। ছবি: সংগৃহীত

কয়েক বছর আগের ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল করা হয় শুক্রবার। কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে পরদিন প্রচারনা চলে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজার বিরুদ্ধে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে বসবাসকারী ‘বাবা শামীম জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিত এ সুফি সাধকের দরবারে হামলার পরিকল্পনায় বৈঠক হয় শনিবার সকালে। আর দুপুরে তৌহিদী জনতার পরিচয়ে শতাধিক যুবক-কিশোর হামলে পড়ে সেখানে। পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা করা হয় শামীম রেজাকে। 

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড়ে অবস্থিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ এভাবেই আক্রান্ত হয়। এ সময় দরবার শরিফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। 


স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শতাধিক লোকজন পীর শামীম ও তার তিন সহযোগীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামীমকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরবারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। 

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তৌহিদুল হাসান তুহিন বিকেলে বলেন, ‘আহত অবস্থায় চার জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ 

ঘটনা সম্পর্কে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, ‌‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পীরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, তাতে কোরআন নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য আছে। কিন্তু ভিডিওটি অনেক আগের। সেটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার মানুষ সেখানে হামলা চালান। শামীমকে পুলিশ উদ্ধার করলেও বিক্ষুব্ধ লোকজনের তুলনায় পুলিশ কম ছিল। এজন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন স্থানীয় লোকজন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কারা কীভাবে ভিডিওটি নতুন করে সামনে আনলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ 


দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।’ 

কুষ্টিয়ায় এ মব সন্ত্রাসের ঘটনায় গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এবি পার্টি, উদীচী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ পীর শামীম রেজা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। 

বিষয় : পীর শামীম জাহাঙ্গীর কুষ্টিয়া সুফি মব

আপনার মতামত লিখুন

মিররবাংলা

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬


সুফি সাধক নিহত ‘মব’ সন্ত্রাসে

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কয়েক বছর আগের ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল করা হয় শুক্রবার। কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে পরদিন প্রচারনা চলে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজার বিরুদ্ধে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে বসবাসকারী ‘বাবা শামীম জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিত এ সুফি সাধকের দরবারে হামলার পরিকল্পনায় বৈঠক হয় শনিবার সকালে। আর দুপুরে তৌহিদী জনতার পরিচয়ে শতাধিক যুবক-কিশোর হামলে পড়ে সেখানে। পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা করা হয় শামীম রেজাকে। 

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড়ে অবস্থিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ এভাবেই আক্রান্ত হয়। এ সময় দরবার শরিফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। 


স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শতাধিক লোকজন পীর শামীম ও তার তিন সহযোগীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামীমকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরবারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। 

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তৌহিদুল হাসান তুহিন বিকেলে বলেন, ‘আহত অবস্থায় চার জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ 

ঘটনা সম্পর্কে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, ‌‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পীরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, তাতে কোরআন নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য আছে। কিন্তু ভিডিওটি অনেক আগের। সেটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার মানুষ সেখানে হামলা চালান। শামীমকে পুলিশ উদ্ধার করলেও বিক্ষুব্ধ লোকজনের তুলনায় পুলিশ কম ছিল। এজন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন স্থানীয় লোকজন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কারা কীভাবে ভিডিওটি নতুন করে সামনে আনলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ 


দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।’ 

কুষ্টিয়ায় এ মব সন্ত্রাসের ঘটনায় গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এবি পার্টি, উদীচী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ পীর শামীম রেজা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। 


মিররবাংলা

সম্পাদক ও প্রকাশক- মাসুদুল আলম তুষার
কপিরাইট © ২০২৬ মিররবাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত