সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬
সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬
মিররবাংলা

সেই মাসুদ গ্রেপ্তার ভারতে


মিরর রিপোর্ট
মিরর রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬

সেই মাসুদ গ্রেপ্তার ভারতে
ফয়সাল করিম মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদসহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে ভারতের পুলিশ।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রোববার (৮ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফয়সাল করিম মাসুদ ছাড়াও আলমগীর হোসেন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের কথা জানায় এসটিএফ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক অভিযানে শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং আলমগীর হোসেন (৩৪) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে পুলিশের কাছে ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য ছিল। তারা সুযোগ পেলে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকে। এরপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে এবং সর্বশেষ বনগাঁও সীমান্তে আসে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি


এসটিএফ বলছে, ফয়সাল করিম ও সহযোগী আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে আসে বলে তথ্য মিলেছে। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে শেষ পর্যন্ত বনগাঁয় যায়। রোববার আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।


গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে গুলিবিদ্ধি হন অটোরিকশায় থাকা ওসমান শরীফ হাদি। একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে কাছ থেকে হাদির মাথায় গুলি করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় তখন পুলিশ দাবি করেছিল, হাদিকে গুলি করা মোটরসাইকেলের পেছনে ছিলেন ফয়সাল এবং সেটি চালাচ্ছিলেন আলমগীর।

ভারতে দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, 'আনুষ্ঠানিকভাবে ওরা আমাদেরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে আমরা জানতাম যে ওরা ভারতে গেছে।'

আলোচিত এ হত্যার পর ফয়সাল করিম মাসুদ একাধিক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। আরব আমিরাতের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ছবিও দেখান তিনি। যদিও পুলিশ দাবি করে আসছিল, মাসুদের অবস্থান ভারতের মেঘালয়ে। অবশেষে ভারত থেকেই তার গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেল।

বিষয় : ভারত ইনকিলাব মঞ্চ ওসমান হাদি ফয়সাল করিম মাসুদ গ্রেপ্তার

আপনার মতামত লিখুন

মিররবাংলা

সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬


সেই মাসুদ গ্রেপ্তার ভারতে

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদসহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে ভারতের পুলিশ।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রোববার (৮ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফয়সাল করিম মাসুদ ছাড়াও আলমগীর হোসেন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের কথা জানায় এসটিএফ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক অভিযানে শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং আলমগীর হোসেন (৩৪) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে পুলিশের কাছে ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য ছিল। তারা সুযোগ পেলে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকে। এরপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে এবং সর্বশেষ বনগাঁও সীমান্তে আসে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি


এসটিএফ বলছে, ফয়সাল করিম ও সহযোগী আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে আসে বলে তথ্য মিলেছে। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে শেষ পর্যন্ত বনগাঁয় যায়। রোববার আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।


গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে গুলিবিদ্ধি হন অটোরিকশায় থাকা ওসমান শরীফ হাদি। একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে কাছ থেকে হাদির মাথায় গুলি করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় তখন পুলিশ দাবি করেছিল, হাদিকে গুলি করা মোটরসাইকেলের পেছনে ছিলেন ফয়সাল এবং সেটি চালাচ্ছিলেন আলমগীর।

ভারতে দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, 'আনুষ্ঠানিকভাবে ওরা আমাদেরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে আমরা জানতাম যে ওরা ভারতে গেছে।'

আলোচিত এ হত্যার পর ফয়সাল করিম মাসুদ একাধিক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। আরব আমিরাতের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ছবিও দেখান তিনি। যদিও পুলিশ দাবি করে আসছিল, মাসুদের অবস্থান ভারতের মেঘালয়ে। অবশেষে ভারত থেকেই তার গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেল।


মিররবাংলা

সম্পাদক ও প্রকাশক- মাসুদুল আলম তুষার
কপিরাইট © ২০২৬ মিররবাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত