ভোটের লড়াইয়ে প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে অনন্য এক বিজয়ের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে ২০০ আসনের বেশি পেতে চলেছে বিএনপি। অবশেষে এ ভোটের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্ধারিত হতে চলেছে দেশের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক গতিপথ।
সারা দেশে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে ফলাফল গণনা। বেসরকারিভাবে বেশিরভাগ আসনের ফল ইতোমধ্যে ঘোষণা হয়েছে।
২৯৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বশেষ ২৭৫ আসনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার জোটের শরিক দল ১৯৫ আসনে জয়ী হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার শরিক দল পেয়েছে ৬৭ আসন। এছাড়া স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য দল পেয়েছে ১৩টি আসন।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১,২৩২ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটার ছিল ৫ কোটির বেশি। অন্যদিকে মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। ফলাফল নির্ধারণে তরুণ ও নারী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২৯৯টি আসনে ভোট হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মোট প্রার্থী সংখ্যা ২,২৮০ জন, যার মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১,৭৫৫ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। পুরুষ প্রার্থী ১,৯৪৬ জন (রাজনৈতিক দল ১,৬৯২, স্বতন্ত্র ২৫৩) এবং নারী প্রার্থী ৮৩ জন (রাজনৈতিক দল ৬৩, স্বতন্ত্র ২০)।
এবারের নির্বাচনে ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি দল অংশ নেয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে ইসি। ফলে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
ভোট উপলক্ষে সারাদেশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মোতায়েন করা হয় মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য । এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার। ৫ জেলার ১৭ আসনে ছিল ৫ হাজার নৌবাহিনীর সদস্য। বিমানবাহিনীর সদস্য ছিল সাড়ে ৩ হাজার। বিজিবি ছিল ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন। কোস্টগার্ড ছিল ৩ হাজার ৫৮৫ জন। পুলিশের সদস্য ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন। এছাড়া র্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন ও ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার মোতায়েন করা হয়।
ভোট গ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা করা হয়। পরে ফলাফলের স্বাক্ষরিত কপি এজেন্টদের সরবরাহ করা হয়।
বিষয় : ভোট গণভোট বিএনপি সংসদ নির্বাচন জামায়াতে ইসলামী

রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোটের লড়াইয়ে প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে অনন্য এক বিজয়ের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে ২০০ আসনের বেশি পেতে চলেছে বিএনপি। অবশেষে এ ভোটের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্ধারিত হতে চলেছে দেশের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক গতিপথ।
সারা দেশে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে ফলাফল গণনা। বেসরকারিভাবে বেশিরভাগ আসনের ফল ইতোমধ্যে ঘোষণা হয়েছে।
২৯৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বশেষ ২৭৫ আসনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার জোটের শরিক দল ১৯৫ আসনে জয়ী হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার শরিক দল পেয়েছে ৬৭ আসন। এছাড়া স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য দল পেয়েছে ১৩টি আসন।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১,২৩২ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটার ছিল ৫ কোটির বেশি। অন্যদিকে মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। ফলাফল নির্ধারণে তরুণ ও নারী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২৯৯টি আসনে ভোট হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মোট প্রার্থী সংখ্যা ২,২৮০ জন, যার মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১,৭৫৫ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। পুরুষ প্রার্থী ১,৯৪৬ জন (রাজনৈতিক দল ১,৬৯২, স্বতন্ত্র ২৫৩) এবং নারী প্রার্থী ৮৩ জন (রাজনৈতিক দল ৬৩, স্বতন্ত্র ২০)।
এবারের নির্বাচনে ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি দল অংশ নেয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে ইসি। ফলে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
ভোট উপলক্ষে সারাদেশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মোতায়েন করা হয় মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য । এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার। ৫ জেলার ১৭ আসনে ছিল ৫ হাজার নৌবাহিনীর সদস্য। বিমানবাহিনীর সদস্য ছিল সাড়ে ৩ হাজার। বিজিবি ছিল ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন। কোস্টগার্ড ছিল ৩ হাজার ৫৮৫ জন। পুলিশের সদস্য ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন। এছাড়া র্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন ও ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার মোতায়েন করা হয়।
ভোট গ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা করা হয়। পরে ফলাফলের স্বাক্ষরিত কপি এজেন্টদের সরবরাহ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন