মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
মিররবাংলা

‘সামনে অত্যন্ত কঠিন সময়’

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ‘সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে’ উল্লেখ করে তিনি একটি সফল সরকার পরিচালনা করতে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন। রোববার (৩১ মে ) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকলের (নেতা-কর্মী-সমর্থক) উদ্দেশে বলতে চাই, সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে সামনের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও। এমন সময় হেসে-খেলে পার করলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।’‘ক্ষতি হয়ত ব্যক্তি পর্যায়ে হবে না; ক্ষতি হবে দেশের, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। কাজেই আসুন, শহীদ জিয়া যেভাবে দেশকে গঠন করতে চেয়েছিলেন, যেভাবে সামনে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলের; আমরা সে ধারা বজায় রেখেই দেশ পরিচালনার চেষ্টা করি। সরকার সরকারের কাজ করবে। আপনি সরকারি দলেরই একজন কর্মী। সরকার তখনই সফল হতে পারবে যখন আপনি প্রত্যেকটি কার্যক্রমে সহযোগিতা করবেন। সঠিক কাজে সঠিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক সরকার। বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল যাদের নীতি আছে, আদর্শ আছে এবং ম্যানিফেস্টোও আছে। এই ম্যানিফেস্টো দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলাম ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে। জনগণ তা দেখেছে, শুনেছে ও বুঝেছে। এরপর তারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছেন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য। শুধু এমপি-মন্ত্রীরা পরিশ্রম করলেই সফলতা আসবে না। সারাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সকল নেতাকর্মী যখন কর্মসূচিগুলোকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠে নামবেন তখন তা সম্ভব হবে।’বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। গত ১৭ বছরে বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ গণতন্ত্রকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, জাতি তার সাক্ষী।’বাবার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দিয়েই বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনত। বাংলাদেশ মানেই তাকে বুঝত অনেকে। একজন সন্তান হিসেবে এটি আমাকে গর্বিত করে।’অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মনি এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এছাড়া অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন জিয়াউর রহমানের জীবন ও অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দলের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

‘সামনে অত্যন্ত কঠিন সময়’