রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
মিরর বাংলা

এনসিপি নেত্রীর লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ


মিরর রিপোর্ট
মিরর রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

এনসিপি নেত্রীর লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
এনসিপি নেত্রী জান্নাতারা রুমী। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

রাজধানীর জিগাতলার নারী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাতারা রুমীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। পুলিশ এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও স্বজনরা একে ‘খুন’ আখ্যায়িত করেছেন।

৩০ বছর বয়সী জান্নাতারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তিনি জিগাতলার ওই হোস্টেলের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকেই তার লাশ উদ্ধার করে।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, হোস্টেলের গৃহকর্মী সকালে ডাকাডাকি করেও জান্নাতারার কোনো সাড়া না পেয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন। এ সময় হার্ডবোর্ডের দরজার ছিটকিনি খুলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো জান্নাতারাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। হোস্টেল থেকে ঘটনাটি থানায় জানানো হলে পুলিশ জান্নাতারার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জান্নাতারার দুবার বিয়ে হয়েছিল এবং প্রতিবারই তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। পারিবারিক অশান্তি থাকায় তিনি বিষণ্নতা থেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হচ্ছে। জান্নাতারার কক্ষের টেবিলে বিষণ্নতামুক্ত থাকার কিছু ট্যাবলেট পাওয়া গেছে।

জান্নাতারার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার নজিপুর পৌরসভার পত্নীতলায়। তার বাবা পেশায় কৃষক। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জান্নাতারা দ্বিতীয় ছিলেন। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে জান্নাতারার চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান বলেন, জান্নাতারার দুই ঘরে এক ছেলে (৪) ও এক মেয়ে (২) রয়েছে। ছেলে–মেয়েরা তাদের নিজ নিজ বাবার কাছে থাকে। দ্বিতীয়বার বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পরই জান্নাতারা বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এই বিষণ্নতা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হচ্ছে।

জান্নাতারা সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র মেডিকেল কলেজ থেকে নার্সিং পাস করেছিলেন এবং ঢাকায় থাকছিলেন।

স্বজনরা জানান, জান্নাতারা এনসিপির ধানমন্ডি থানা শাখার যুগ্ম সমন্বয়ক ছিলেন। সম্প্রতি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মধ্যবয়স্ক এক নারীকে লাঠি দিয়ে আঘাতের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর অনলাইনে হয়রানি ও হুমকি পাচ্ছিলেন জান্নাতারা।

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, ‘রুমির (জান্নাতারা রুমি) ঝুলন্ত মরদেহ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কত বড় একটি শত্রুর বিপক্ষে আমরা লড়াই করেছি। আওয়ামী লীগের পেজ থেকে রুমিকে হিট লিস্টে আছো বলে বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই পরিষ্কার কমেন্টগুলো থাকা সত্ত্বেও অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রের পক্ষে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। রুমির মৃত্যুর জন্য এর দায়ভার রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে।’

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা জানান, গত মাসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জিয়ার কবর খুঁড়তে চাওয়া রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজনকে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিয়েছিলেন জান্নাতারা। এর পর থেকে আওয়ামী লীগ জান্নাতারাকে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছিল। এ কারণে জান্নাতারা রাতে আত্মহত্যা করেছে।

তারেক রেজা আরও বলেন, ‘এটাকে আমরা আত্মহত্যা হিসেবে দেখতে রাজি নই, এটা খুন। যারা আমার বোনের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের জীবন আমরা শান্তিতে কাটাতে দেব না।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে জান্নাতারার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান। সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জান্নাতারার গলায় দাগ রয়েছে। তার মাথা, কপাল ও গালসহ শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

সন্ধ্যায় স্বজনেরা জান্নাতারার মরদেহ নওগাঁয় নিয়ে গেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

মিরর বাংলা

রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬


এনসিপি নেত্রীর লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

রাজধানীর জিগাতলার নারী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাতারা রুমীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। পুলিশ এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও স্বজনরা একে ‘খুন’ আখ্যায়িত করেছেন।

৩০ বছর বয়সী জান্নাতারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তিনি জিগাতলার ওই হোস্টেলের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকেই তার লাশ উদ্ধার করে।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, হোস্টেলের গৃহকর্মী সকালে ডাকাডাকি করেও জান্নাতারার কোনো সাড়া না পেয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন। এ সময় হার্ডবোর্ডের দরজার ছিটকিনি খুলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো জান্নাতারাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। হোস্টেল থেকে ঘটনাটি থানায় জানানো হলে পুলিশ জান্নাতারার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জান্নাতারার দুবার বিয়ে হয়েছিল এবং প্রতিবারই তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। পারিবারিক অশান্তি থাকায় তিনি বিষণ্নতা থেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হচ্ছে। জান্নাতারার কক্ষের টেবিলে বিষণ্নতামুক্ত থাকার কিছু ট্যাবলেট পাওয়া গেছে।

জান্নাতারার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার নজিপুর পৌরসভার পত্নীতলায়। তার বাবা পেশায় কৃষক। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জান্নাতারা দ্বিতীয় ছিলেন। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে জান্নাতারার চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান বলেন, জান্নাতারার দুই ঘরে এক ছেলে (৪) ও এক মেয়ে (২) রয়েছে। ছেলে–মেয়েরা তাদের নিজ নিজ বাবার কাছে থাকে। দ্বিতীয়বার বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পরই জান্নাতারা বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এই বিষণ্নতা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হচ্ছে।

জান্নাতারা সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র মেডিকেল কলেজ থেকে নার্সিং পাস করেছিলেন এবং ঢাকায় থাকছিলেন।

স্বজনরা জানান, জান্নাতারা এনসিপির ধানমন্ডি থানা শাখার যুগ্ম সমন্বয়ক ছিলেন। সম্প্রতি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মধ্যবয়স্ক এক নারীকে লাঠি দিয়ে আঘাতের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর অনলাইনে হয়রানি ও হুমকি পাচ্ছিলেন জান্নাতারা।

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, ‘রুমির (জান্নাতারা রুমি) ঝুলন্ত মরদেহ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কত বড় একটি শত্রুর বিপক্ষে আমরা লড়াই করেছি। আওয়ামী লীগের পেজ থেকে রুমিকে হিট লিস্টে আছো বলে বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই পরিষ্কার কমেন্টগুলো থাকা সত্ত্বেও অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রের পক্ষে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। রুমির মৃত্যুর জন্য এর দায়ভার রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে।’

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা জানান, গত মাসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জিয়ার কবর খুঁড়তে চাওয়া রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজনকে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিয়েছিলেন জান্নাতারা। এর পর থেকে আওয়ামী লীগ জান্নাতারাকে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছিল। এ কারণে জান্নাতারা রাতে আত্মহত্যা করেছে।

তারেক রেজা আরও বলেন, ‘এটাকে আমরা আত্মহত্যা হিসেবে দেখতে রাজি নই, এটা খুন। যারা আমার বোনের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের জীবন আমরা শান্তিতে কাটাতে দেব না।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে জান্নাতারার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান। সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জান্নাতারার গলায় দাগ রয়েছে। তার মাথা, কপাল ও গালসহ শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

সন্ধ্যায় স্বজনেরা জান্নাতারার মরদেহ নওগাঁয় নিয়ে গেছেন।


মিরর বাংলা

সম্পাদক ও প্রকাশক- মাসুদুল আলম তুষার
কপিরাইট © ২০২৬ মিরর বাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত