রাজধানীর পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ তারিক সাইফ মামুনকে। দীর্ঘদিন কারাবাস শেষে প্রকাশ্যে ফেরা আলোচিত মামুনকে কারা এবং কেন হত্যা করেছে তা নিয়ে চলছে আলোচনা, অনুসন্ধান। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর নানা তথ্য জানালেও এখনো অজানা মামুনের 'প্রকৃত খুনি'।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। তারা হলেন- রুবেল ও ইব্রাহিম। গ্রেপ্তারকৃত দুজনই পেশাদার শুটার হিসেবে কাজ করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে। তারাই মামুনকে হত্যায় অংশ নেয়া দুই শুটার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সোমবার পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে তারিক সাইফ মামুনকে (৫০) হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামুন রাজধানীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। পুরোনো একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার পর সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে সূত্রাপুরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, দুজন ব্যক্তি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের প্রবেশমুখে এসে ওই ব্যক্তিকে পেছন থেকে গুলি করে। বেশ কয়েকটি গুলি করার পর ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তারা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। গুলি ছোড়া তাদের দুজনেরই মাথায় কালো টুপি ও মুখে মাস্ক ছিল।
তারিক সাইফ মামুন। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তাদের হাসপাতালের সামনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। শব্দ শুনে দৌড়ে এসে দেখি হাসপাতালের মেইন গেটের সামনে ওই ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি দেখে তাকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে নিয়ে আসি। পরে সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কারা গুলি করেছে সেটা তিনি দেখেননি বলেও জানান।
ফাইজুল হক অপু নামে মামুনের পরিচিত একজন বলেন, গুলি করে যাকে হত্যা করা হয়েছে, তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন। সকালে মামুনের ফোন থেকে তাকে কল করে ঘটনাটি জানানো হয়। এরপর তিনি কাকরাইল থেকে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে মামুনের পরিচয় শনাক্ত করেন।
উল্লেখ্য, দুই বছর আগেও রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় মামুনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
নিহত মামুনের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বলেন, আমাদের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোকজন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও ইমনের লোকজন মামুনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় মামুনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় একদল সন্ত্রাসী। সেই গুলি লেগেছিল মোটরসাইকেল আরোহী ভুবন চন্দ্র শীলের মাথায়। ২৫ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভুবন চন্দ্র শীল মারা যান। পরে জানা যায় মামুনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছিলেন কারাবন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমনের লোকজন। সেই গুলি লেগেছিল ভুবনের মাথায়।

বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীর পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ তারিক সাইফ মামুনকে। দীর্ঘদিন কারাবাস শেষে প্রকাশ্যে ফেরা আলোচিত মামুনকে কারা এবং কেন হত্যা করেছে তা নিয়ে চলছে আলোচনা, অনুসন্ধান। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর নানা তথ্য জানালেও এখনো অজানা মামুনের 'প্রকৃত খুনি'।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। তারা হলেন- রুবেল ও ইব্রাহিম। গ্রেপ্তারকৃত দুজনই পেশাদার শুটার হিসেবে কাজ করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে। তারাই মামুনকে হত্যায় অংশ নেয়া দুই শুটার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সোমবার পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে তারিক সাইফ মামুনকে (৫০) হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামুন রাজধানীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। পুরোনো একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার পর সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে সূত্রাপুরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, দুজন ব্যক্তি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের প্রবেশমুখে এসে ওই ব্যক্তিকে পেছন থেকে গুলি করে। বেশ কয়েকটি গুলি করার পর ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তারা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। গুলি ছোড়া তাদের দুজনেরই মাথায় কালো টুপি ও মুখে মাস্ক ছিল।
তারিক সাইফ মামুন। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তাদের হাসপাতালের সামনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। শব্দ শুনে দৌড়ে এসে দেখি হাসপাতালের মেইন গেটের সামনে ওই ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি দেখে তাকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে নিয়ে আসি। পরে সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কারা গুলি করেছে সেটা তিনি দেখেননি বলেও জানান।
ফাইজুল হক অপু নামে মামুনের পরিচিত একজন বলেন, গুলি করে যাকে হত্যা করা হয়েছে, তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন। সকালে মামুনের ফোন থেকে তাকে কল করে ঘটনাটি জানানো হয়। এরপর তিনি কাকরাইল থেকে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে মামুনের পরিচয় শনাক্ত করেন।
উল্লেখ্য, দুই বছর আগেও রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় মামুনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
নিহত মামুনের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বলেন, আমাদের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোকজন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও ইমনের লোকজন মামুনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় মামুনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় একদল সন্ত্রাসী। সেই গুলি লেগেছিল মোটরসাইকেল আরোহী ভুবন চন্দ্র শীলের মাথায়। ২৫ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভুবন চন্দ্র শীল মারা যান। পরে জানা যায় মামুনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছিলেন কারাবন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমনের লোকজন। সেই গুলি লেগেছিল ভুবনের মাথায়।

আপনার মতামত লিখুন