রোববার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
রোববার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
মিরর বাংলা

তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দ্রুতই


মিরর রিপোর্ট
মিরর রিপোর্ট
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৫

তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দ্রুতই
হাইকোর্ট ভবন। ছবি: সংগৃহীত

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে করা আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। নির্বাচনকালীন দায়িত্বপালনের জন্য বিশেষ এ সরকার ব্যবস্থা ফেরানো সম্ভব হবে কীনা, তা জানা যাবে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর)। এদিন বিষয়টি নিয়ে আপিলের রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ রায়ের এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

জাতীয় সংসদের মাধ্যমে ২০১১ সালের ৩০ জুন 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বিলোপ করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও আইনী পদক্ষেপ নেয়নি কেউ। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রায় পুনর্বিবেচনার জন্য সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি আবেদন করেন। অন্য চারজন হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম. হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া এবং জাহরা রহমান। এরপর ১৬ অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

এ ছাড়া, গত বছরের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও একই আবেদন দাখিল করেন। পরে নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছর একটি আবেদন করেন।

এর আগে  তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আপিলের শুনানি শুরু হয় গত ২১ অক্টোবর। নির্বাচনকালীন 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' ফেরানোর বিষয়ে  ধারাবাহিক শুনানি হয় গত ২, ৪, ৫ ও ৬ নভেম্বর এবং ২২, ২৩, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শেষ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। 

আপিল বিভাগে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় সমাজে এমনভাবে কুঠারাঘাত করেছে যা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সমাজব্যবস্থাকে। মৃত ব্যক্তি এসে রাতের ভোট দেবার মতো অবাস্তব ঘটনা দেখেছে জাতি।

গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম. সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি ও রুল প্রদানের পর হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রিটটি খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয় এবং ২০০৫ সালে রিট আবেদনকারীরা আপিল দায়ের করেন। আপিল বিভাগে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে।

ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ অন্যান্য পরিবর্তন আনা হয় পঞ্চদশ সংশোধনী আইনে, যা ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

মিরর বাংলা

রোববার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫


তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দ্রুতই

প্রকাশের তারিখ : ১১ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে করা আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। নির্বাচনকালীন দায়িত্বপালনের জন্য বিশেষ এ সরকার ব্যবস্থা ফেরানো সম্ভব হবে কীনা, তা জানা যাবে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর)। এদিন বিষয়টি নিয়ে আপিলের রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ রায়ের এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

জাতীয় সংসদের মাধ্যমে ২০১১ সালের ৩০ জুন 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বিলোপ করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও আইনী পদক্ষেপ নেয়নি কেউ। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রায় পুনর্বিবেচনার জন্য সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি আবেদন করেন। অন্য চারজন হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম. হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া এবং জাহরা রহমান। এরপর ১৬ অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

এ ছাড়া, গত বছরের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও একই আবেদন দাখিল করেন। পরে নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছর একটি আবেদন করেন।

এর আগে  তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আপিলের শুনানি শুরু হয় গত ২১ অক্টোবর। নির্বাচনকালীন 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' ফেরানোর বিষয়ে  ধারাবাহিক শুনানি হয় গত ২, ৪, ৫ ও ৬ নভেম্বর এবং ২২, ২৩, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শেষ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। 

আপিল বিভাগে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় সমাজে এমনভাবে কুঠারাঘাত করেছে যা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সমাজব্যবস্থাকে। মৃত ব্যক্তি এসে রাতের ভোট দেবার মতো অবাস্তব ঘটনা দেখেছে জাতি।

গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম. সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি ও রুল প্রদানের পর হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রিটটি খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয় এবং ২০০৫ সালে রিট আবেদনকারীরা আপিল দায়ের করেন। আপিল বিভাগে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে।

ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ অন্যান্য পরিবর্তন আনা হয় পঞ্চদশ সংশোধনী আইনে, যা ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশ করা হয়।


মিরর বাংলা

সম্পাদক ও প্রকাশক- মাসুদুল আলম তুষার
কপিরাইট © ২০২৫ মিরর বাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত