রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
মিরর বাংলা
জনসমুদ্রে খালেদা জিয়ার বিদায়

জনসমুদ্রে খালেদা জিয়ার বিদায়

অগণিত মানুষের চোখের জল, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বিদায় নিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।বুধবার বেলা ৩টা ২ মিনিটে জাতীয় সংসদের সামনে কার্যত জনসমুদ্রের মধ্যে তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভেনিউ ছাড়িয়ে আশপাশের সব সড়ক, অলিগলি থেকে অজস্র মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন।নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা পাওয়া খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছর। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী; আর বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার। গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে আসা খালেদা জিয়া বহুবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন।অকৃত্রিম ভালোবাসায় জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠা খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে উপস্থিত হন কয়েক লাখ মানুষ। জানাজায় অংশ নেওয়া বহু মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকে হাউমাউ করে কেঁদেছেন। কেউবা নিরবে চোখের পানি মুছেছেন।প পুরো দেশকে শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে অনন্ত পথের যাত্রী হয়েছেন খালেদা জিয়া।বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা তিনটার পরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম প্রান্তে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পড়ান বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব আবদুল মালেক। আর সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য নারীদের জন্য রাখা হয় বিশেষ ব্যবস্থা।এর আগে পরিবারের তরফে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান প্রয়াতের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।তারেক রহমান বলেন, “আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। আমি আজকে এখানে উপস্থিত সকল ভাইয়েরা এবং বোনেরা-যারা উপস্থিত আছেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় যদি আপনাদের কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।“একই সাথে উনি জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় উনার কোনো ব্যবহারে, উনার কোনো কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা যাতে উনাকে বেহেশত দান করেন।”জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বাম পাশে দাঁড়ান তারেক রহমান, তারপরে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং তারপরে দাঁড়ান নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার।আর সরকারপ্রধানের ডান পাশে দাঁড়ান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, তারপরে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং তারপরে ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।এছাড়া জানাজায় অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকাজুড়ে লাখ লাখ মানুষ জানাজায় অংশ নেন। নির্ধারিত স্থানে জায়গা না পেয়ে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন সড়কে দাঁড়িয়ে জানাজার নামাজ আদায় করেন। এর আগে দুপুর ১২টার পরে খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছায়। দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে তার কফিন জানাজাস্থলে নেওয়া হয়।জানাজার পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এ সময় খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত রাজনীতিবিদরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দাফনকাজ নির্বিঘ্নে শেষ করতে সেখানে নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছেন ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তাব বাতিলের ব্যাখ্যা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শরীরচর্চা ও সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ প্রকল্পটির পরিকল্পনায় ত্রুটি থাকায় সচিব কমিটির সুপারিশে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি থেকে সরে এসেছে।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শরীরচর্চা ও সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব বাতিলের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে।এতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত ছিল, সারাদেশের ২ হাজার ৫০০ ক্লাস্টারে সমসংখ্যক শরীরচর্চা ও সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সচিব কমিটির মতে, এত অল্প সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো কার্যকর সুফল পাওয়া যাবে না, বরং এতে বৈষম্য তৈরি হবে।বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ক্লাস্টারভিত্তিক নিয়োগ বাস্তবায়িত হলে একই শিক্ষককে ২০টিরও বেশি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে হতো। এতে নিয়মিত শ্রেণিকাজ পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে কমিটি মত দিয়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে অর্থের সংস্থান তৈরি হলে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শরীরচর্চা ও সঙ্গীত শিক্ষকের পদ সৃজন এবং সে অনুযায়ী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তাব বাতিলের ব্যাখ্যা
১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন