শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
মিররবাংলা

মিয়ানমারের ক্ষমতায় ‘সামরিক জান্তা’


মিরর ডেস্ক
মিরর ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

মিয়ানমারের ক্ষমতায় ‘সামরিক জান্তা’
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের ‘সামরিক জান্তা প্রধান’ মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পর তিনি ‘নতুন মোড়কে’ শাসন অব্যাহত রাখছেন। 

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়,  শুক্রবার (১০ এপ্রিল)  ৬৯ বছর বয়সী মিন অং হ্লাইং শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠানে চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানের আগে রাজধানী নেইপিদোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়; হোটেলগুলোতে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল মোতায়েন এবং পার্লামেন্ট এলাকায় একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়। 

শপথ পাঠ শেষে দেওয়া ভাষণে মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘মিয়ানমার আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরেছে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।’ তার সরকার সামাজিক পুনর্মিলন, ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য ‘উপযুক্ত সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করবে বলে জানান তিনি। 

মিয়ানমারের নববর্ষ উৎসব ‘থিংগ্যান’ শুরুর আগে তিনি সামরিক প্রধানের পদ থেকে সরে এসে নতুন সরকারের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন। শুক্রবার শপথ নেওয়া ৩০ জন মন্ত্রীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। এদের অনেকেই অভ্যুত্থান-পরবর্তী জান্তা সরকারের অংশ ছিলেন এবং ১০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। 

দেশটির গণতন্ত্রপন্থী পর্যবেক্ষকরা এই পরিবর্তনকে সামরিক শাসনের একটি ‘নতুন মোড়ক’ হিসেবে দেখছেন। 

সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে মিন অং হ্লাইং ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারপ্রধান অং সান সু চিকে উৎখাত করেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নেত্রীকে আটক করা হয় এবং এর পর থেকেই দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পাঁচ বছর ধরে একচ্ছত্র শাসনের পর মিন অং হ্লাইং একটি নির্বাচন আয়োজন করেন, যা চলতি বছর  জানুয়ারিতে শেষ হয়। 

জান্তা সরকার এই নির্বাচনকে ‘জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া’ এবং পুনর্মিলনের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরছে। অথচ ওই নির্বাচনে সু চির দলকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনে ‘সামরিকপন্থী’ বেসামরিক মিত্রদের সহজ জয়ের পর তাকে প্রেসিডেন্ট পদে বসানো হয়। এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সমর্থক ছিল চীন। এখন বেইজিংয়ের সঙ্গে স্থগিত অবকাঠামো প্রকল্পগুলো পুনরুজ্জীবিত করার আলোচনা শুরু হয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রী পরিষদের শপথের আগে সু চির প্রশাসনের কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে চাকরি ছেড়ে দেওয়া সরকারি কর্মচারীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

মিয়ানমারের এই শাসকগোষ্ঠী আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশের কাছে একঘরে হয়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে তারা বৈধতার আবরণ তৈরি করে বিদেশি বিনিয়োগসহ আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে চায়। নতুন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং আসিয়ানের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে’ কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সময়ই মিয়ানমারে সামরিক শাসন বিরাজ করছে। ২০১১ সালে শুরু হওয়া এক দশকের গণতান্ত্রিক পর্বে সামরিক বাহিনী কিছুটা ক্ষমতা ছাড়লেও ২০২০ সালের নির্বাচনে সু চির দলের বিপুল বিজয়ের পর নিজেদের প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা আবার ক্ষমতা দখল করে। বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত অং সান সু চি ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকে ২২ হাজারের বেশি মানুষ কারাগারে বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স। 

বিষয় : মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং সামরিক

আপনার মতামত লিখুন

মিররবাংলা

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


মিয়ানমারের ক্ষমতায় ‘সামরিক জান্তা’

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মিয়ানমারের ‘সামরিক জান্তা প্রধান’ মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পর তিনি ‘নতুন মোড়কে’ শাসন অব্যাহত রাখছেন। 

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়,  শুক্রবার (১০ এপ্রিল)  ৬৯ বছর বয়সী মিন অং হ্লাইং শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠানে চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানের আগে রাজধানী নেইপিদোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়; হোটেলগুলোতে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল মোতায়েন এবং পার্লামেন্ট এলাকায় একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়। 

শপথ পাঠ শেষে দেওয়া ভাষণে মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘মিয়ানমার আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরেছে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।’ তার সরকার সামাজিক পুনর্মিলন, ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য ‘উপযুক্ত সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করবে বলে জানান তিনি। 

মিয়ানমারের নববর্ষ উৎসব ‘থিংগ্যান’ শুরুর আগে তিনি সামরিক প্রধানের পদ থেকে সরে এসে নতুন সরকারের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন। শুক্রবার শপথ নেওয়া ৩০ জন মন্ত্রীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। এদের অনেকেই অভ্যুত্থান-পরবর্তী জান্তা সরকারের অংশ ছিলেন এবং ১০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। 

দেশটির গণতন্ত্রপন্থী পর্যবেক্ষকরা এই পরিবর্তনকে সামরিক শাসনের একটি ‘নতুন মোড়ক’ হিসেবে দেখছেন। 

সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে মিন অং হ্লাইং ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারপ্রধান অং সান সু চিকে উৎখাত করেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নেত্রীকে আটক করা হয় এবং এর পর থেকেই দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পাঁচ বছর ধরে একচ্ছত্র শাসনের পর মিন অং হ্লাইং একটি নির্বাচন আয়োজন করেন, যা চলতি বছর  জানুয়ারিতে শেষ হয়। 

জান্তা সরকার এই নির্বাচনকে ‘জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া’ এবং পুনর্মিলনের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরছে। অথচ ওই নির্বাচনে সু চির দলকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনে ‘সামরিকপন্থী’ বেসামরিক মিত্রদের সহজ জয়ের পর তাকে প্রেসিডেন্ট পদে বসানো হয়। এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সমর্থক ছিল চীন। এখন বেইজিংয়ের সঙ্গে স্থগিত অবকাঠামো প্রকল্পগুলো পুনরুজ্জীবিত করার আলোচনা শুরু হয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রী পরিষদের শপথের আগে সু চির প্রশাসনের কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে চাকরি ছেড়ে দেওয়া সরকারি কর্মচারীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

মিয়ানমারের এই শাসকগোষ্ঠী আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশের কাছে একঘরে হয়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে তারা বৈধতার আবরণ তৈরি করে বিদেশি বিনিয়োগসহ আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে চায়। নতুন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং আসিয়ানের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে’ কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সময়ই মিয়ানমারে সামরিক শাসন বিরাজ করছে। ২০১১ সালে শুরু হওয়া এক দশকের গণতান্ত্রিক পর্বে সামরিক বাহিনী কিছুটা ক্ষমতা ছাড়লেও ২০২০ সালের নির্বাচনে সু চির দলের বিপুল বিজয়ের পর নিজেদের প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা আবার ক্ষমতা দখল করে। বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত অং সান সু চি ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকে ২২ হাজারের বেশি মানুষ কারাগারে বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স। 


মিররবাংলা

সম্পাদক ও প্রকাশক- মাসুদুল আলম তুষার
কপিরাইট © ২০২৬ মিররবাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত