মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি পায়নি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। এ অবস্থায় জাহাজটি শারজাহে ফিরে গেছে বলে জানিয়েছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।
সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়, ইরানে হামলাসহ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ৪০ দিন ধরে আটকে থাকা জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ৩৭ হাজার টন ফসফেট সার নিয়ে জাহাজটির যাওয়ার কথা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে। পথে প্রায় ৪০ ঘণ্টা চলে শুক্রবার সকালে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ইরান সরকারের কাছে অনুমতি চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, ইরান সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুমতি আদায়ের প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে। ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এখনো হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাহাজটিকে আপাতত শারজাহ বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের মজুত আছে। জাহাজটি প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধন করতে পারে। তবে তার জন্য ইঞ্জিন পুরোদমে চালু রাখতে হয়। রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল শক্ত রাখার জন্য আমরা ইতিমধ্যে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করেছি। এ ছাড়াও বেসিকের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।’
বিএসসি’র তথ্যমতে, ভারত থেকে পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার সূচি ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। কিন্তু জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করলেও নিরাপত্তার কারণে শারজাহয় ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
বিষয় : ইরান হরমুজ প্রণালী বাংলার জয়যাত্রা জাহাজ

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি পায়নি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। এ অবস্থায় জাহাজটি শারজাহে ফিরে গেছে বলে জানিয়েছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।
সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়, ইরানে হামলাসহ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ৪০ দিন ধরে আটকে থাকা জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ৩৭ হাজার টন ফসফেট সার নিয়ে জাহাজটির যাওয়ার কথা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে। পথে প্রায় ৪০ ঘণ্টা চলে শুক্রবার সকালে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ইরান সরকারের কাছে অনুমতি চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, ইরান সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুমতি আদায়ের প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে। ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এখনো হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাহাজটিকে আপাতত শারজাহ বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের মজুত আছে। জাহাজটি প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধন করতে পারে। তবে তার জন্য ইঞ্জিন পুরোদমে চালু রাখতে হয়। রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল শক্ত রাখার জন্য আমরা ইতিমধ্যে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করেছি। এ ছাড়াও বেসিকের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।’
বিএসসি’র তথ্যমতে, ভারত থেকে পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার সূচি ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। কিন্তু জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করলেও নিরাপত্তার কারণে শারজাহয় ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

আপনার মতামত লিখুন