দেশজুড়ে বেড়েই চলেছে হামের ভয়াবহতা। সরকার বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরির করলেও থেমে নেই শিশু মৃত্যু। রাজনৈতিক দায় চাপানোর কৌশলের মাঝেই প্রতিদিন বাড়ছে ‘হামের উপসর্গ নিয়ে’ মৃত্যু।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, গত ১৯ দিনে দেশে ‘সন্দেহজনক হাম রোগে’ ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ‘হামের উপসর্গ নিয়ে’ আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৭ জন। সবমিলিয়ে গত ১৫ই মার্চ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৯২ জনে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ‘হাম নিশ্চিত’ রোগীর সংখ্যা ৪২ জন। তাদের নিয়ে গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ‘হাম নিশ্চিত’ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭১ জনে।
চলতি বছর হাম রোগে কতো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা জানা যায়নি। ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগটি ছড়িয়েছে বলে স্বীকার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পর শুধু মার্চ মাসেই শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
রাজধানীর মহাখালী ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছর ৫৬০ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। যেখানে গত বছর ১২ মাসে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৯ জন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিস্থিতিও গুরুতর। সেখানে আলাদা আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ এবং নোয়াখালীতে গত ১৫ দিনে ৩০০-এর বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা টিকা গ্রহণ না করাকে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। হাম রোগ দ্রুত ছড়ায় এবং শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। হামের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, তাই মূলত জটিলতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করা হয়। সেজন্য আগেভাগে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইপিআই পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর বিশেষ হাম টিকা ক্যাম্পেইন হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে এই ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এটি সম্ভব হয়নি। এছাড়া গত বছর স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম তিনবার ব্যাহত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, হামের টিকার কেন্দ্রীয় মজুদ প্রায় শেষ। মাঠ পর্যায়ে মাত্র এক মাসের টিকা আছে। তবে বিশেষ ক্যাম্পেইনের জন্য নতুন টিকা ইতোমধ্যেই দেশে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। দ্রুতই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে পারে।

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
দেশজুড়ে বেড়েই চলেছে হামের ভয়াবহতা। সরকার বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরির করলেও থেমে নেই শিশু মৃত্যু। রাজনৈতিক দায় চাপানোর কৌশলের মাঝেই প্রতিদিন বাড়ছে ‘হামের উপসর্গ নিয়ে’ মৃত্যু।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, গত ১৯ দিনে দেশে ‘সন্দেহজনক হাম রোগে’ ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ‘হামের উপসর্গ নিয়ে’ আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৭ জন। সবমিলিয়ে গত ১৫ই মার্চ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৯২ জনে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ‘হাম নিশ্চিত’ রোগীর সংখ্যা ৪২ জন। তাদের নিয়ে গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ‘হাম নিশ্চিত’ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭১ জনে।
চলতি বছর হাম রোগে কতো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা জানা যায়নি। ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগটি ছড়িয়েছে বলে স্বীকার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পর শুধু মার্চ মাসেই শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
রাজধানীর মহাখালী ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছর ৫৬০ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। যেখানে গত বছর ১২ মাসে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৯ জন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিস্থিতিও গুরুতর। সেখানে আলাদা আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ এবং নোয়াখালীতে গত ১৫ দিনে ৩০০-এর বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা টিকা গ্রহণ না করাকে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। হাম রোগ দ্রুত ছড়ায় এবং শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। হামের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, তাই মূলত জটিলতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করা হয়। সেজন্য আগেভাগে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইপিআই পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর বিশেষ হাম টিকা ক্যাম্পেইন হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে এই ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এটি সম্ভব হয়নি। এছাড়া গত বছর স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম তিনবার ব্যাহত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, হামের টিকার কেন্দ্রীয় মজুদ প্রায় শেষ। মাঠ পর্যায়ে মাত্র এক মাসের টিকা আছে। তবে বিশেষ ক্যাম্পেইনের জন্য নতুন টিকা ইতোমধ্যেই দেশে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। দ্রুতই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন