রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬
রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬
মিররবাংলা

তেল রেশনিং কেন


মিরর রিপোর্ট
মিরর রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬

তেল রেশনিং কেন
প্রতীকী ছবি

দেশে পেট্রোল ও অকটেন আমদানির প্রয়োজন হয় না। নিজস্ব উৎস থেকে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন রয়েছে পর্যাপ্ত, তাই এই দুটি জ্বালানির ক্ষেত্রেও সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। আর আমদানি করা জ্বালানি ডিজেলের মজুত আছে পর্যাপ্ত , যা ১ লাখ টনের বেশি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট করেই বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলেছি-তেল নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের কাছে মজুত আছে, আমরা নিয়মিত পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ করছি। মানুষ তেল নিতে গেলে তেল পাবে। সারারাত লাইন দিয়ে থাকারও কোনো প্রয়োজন নেই।

রেশনিং প্রশ্নে তিনি জানান, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নিশ্চিত না হওয়ায় সরকার সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত আকারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে তা দেখে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, আমরা কাতার থেকে এলএনজি আনি। এর বাইরে বিকল্প ব্যবস্থাও আছে। আমরা সেগুলো নিয়েও কাজ করছি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংকট না হয়। বর্তমানে দেশে এলএনজি, এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো সংকট না হয়, সে জন্য সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে।

এ সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমান উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে মাসে ৩.৮০ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বিপিসির কাছে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুদ আছে। এর বাইরে ২.৮০ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত হয়েছে। ২.৮০ লাখ টন ডিজেলের মধ্যে কিছু তেল ইতিমধ্যে আসা শুরু হয়েছে। কিছু সমুদ্রে জাহাজে রয়েছে এবং কিছু জাহাজীকরণ অবস্থায় আছে। ফলে মার্চ মাসে বাংলাদেশে ডিজেলের সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এছাড়া, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করায় আপাতত গ্যাস সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানান কর্মকর্তারা।

চলতি মার্চ মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের আমদানি নিশ্চিত করেছে সরকার। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), যার কিছু অংশ ইতিমধ্যে দেশে আসতে শুরু করেছে। এর বাইরে আরও ১ লাখ টন ডিজেল আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

এছাড়া, জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেন আমদানি করার প্রয়োজন হয় না। নিজস্ব উৎস থেকে উৎপাদিত পেট্রোল ও অকটেন দিয়েই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটে। তাই এই দুটি জ্বালানির ক্ষেত্রেও সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

বিষয় : জ্বালানি তেল বিপিসি পেট্রল অকটেন পেট্রোল

আপনার মতামত লিখুন

মিররবাংলা

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬


তেল রেশনিং কেন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

দেশে পেট্রোল ও অকটেন আমদানির প্রয়োজন হয় না। নিজস্ব উৎস থেকে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন রয়েছে পর্যাপ্ত, তাই এই দুটি জ্বালানির ক্ষেত্রেও সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। আর আমদানি করা জ্বালানি ডিজেলের মজুত আছে পর্যাপ্ত , যা ১ লাখ টনের বেশি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট করেই বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলেছি-তেল নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের কাছে মজুত আছে, আমরা নিয়মিত পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ করছি। মানুষ তেল নিতে গেলে তেল পাবে। সারারাত লাইন দিয়ে থাকারও কোনো প্রয়োজন নেই।

রেশনিং প্রশ্নে তিনি জানান, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নিশ্চিত না হওয়ায় সরকার সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত আকারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে তা দেখে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, আমরা কাতার থেকে এলএনজি আনি। এর বাইরে বিকল্প ব্যবস্থাও আছে। আমরা সেগুলো নিয়েও কাজ করছি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংকট না হয়। বর্তমানে দেশে এলএনজি, এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো সংকট না হয়, সে জন্য সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে।

এ সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমান উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে মাসে ৩.৮০ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বিপিসির কাছে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুদ আছে। এর বাইরে ২.৮০ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত হয়েছে। ২.৮০ লাখ টন ডিজেলের মধ্যে কিছু তেল ইতিমধ্যে আসা শুরু হয়েছে। কিছু সমুদ্রে জাহাজে রয়েছে এবং কিছু জাহাজীকরণ অবস্থায় আছে। ফলে মার্চ মাসে বাংলাদেশে ডিজেলের সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এছাড়া, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করায় আপাতত গ্যাস সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানান কর্মকর্তারা।

চলতি মার্চ মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের আমদানি নিশ্চিত করেছে সরকার। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), যার কিছু অংশ ইতিমধ্যে দেশে আসতে শুরু করেছে। এর বাইরে আরও ১ লাখ টন ডিজেল আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

এছাড়া, জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেন আমদানি করার প্রয়োজন হয় না। নিজস্ব উৎস থেকে উৎপাদিত পেট্রোল ও অকটেন দিয়েই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটে। তাই এই দুটি জ্বালানির ক্ষেত্রেও সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।


মিররবাংলা

সম্পাদক ও প্রকাশক- মাসুদুল আলম তুষার
কপিরাইট © ২০২৬ মিররবাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত