সাভারের ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে সবুজ নিজ এলাকায় পরিচিত চোর, ছিনতাইকারী হিসেবে। তবে পরিবারের দাবি, সবুজ মানসিকভাবে অসুস্থ।
পুলিশের কাছে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পর সবুজকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভবঘুরের বেশে দীর্ঘদিন সাভার এলাকায় ঘুরে বেড়ানো ‘সম্রাট’ পরিচয় লুকিয়ে হত্যাসহ অপরাধমূলক কাজ করে বেড়াচ্ছিলেন বলে অভিযোগ, অথচ সাভার থানার পাশেই ছিল তার অবস্থান- এ নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। গ্রামের বাড়িতে তার যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে স্থানীয় সূত্রে। গ্রেপ্তারের সময় সবুজ নিজের নাম সম্রাট, বাবার নাম সালাম ও মায়ের নাম রেজিয়া বলে দাবি করে। তাদের সাভার ব্যাংক কলোনি এলাকায় বাড়ি আছে বলেও জানান।
ঢাকা জেলার পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার করা সবুজ শেখ স্থানীয় কাউন্সিলর মশিউর রহমান খান সম্রাটের নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘সম্রাট’ পরিচয়ে চলাফেরা করতেন। গ্রেপ্তারের সময় তার দেওয়া ঠিকানা ও পারিবারিক তথ্যের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে অনুসন্ধানে তার প্রকৃত পরিচয় জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘সবুজ শেখ একজন বিকৃত রুচির ও সাইকোপ্যাথ প্রকৃতির মানুষ। সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করলেও একেক সময় একেক ধরনের কারণ দেখিয়েছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশ জানায়, ছয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সবুজকে গত সোমবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ দাবি করেছেন, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারীদের তিনি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যেতেন। এরপর তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হতেন। পরে ওই নারীরা অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করলে বা কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়ালে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হত্যা করতেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামের পান্না শেখ ও মমতাজ বেগমের দ্বিতীয় সন্তান সবুজ শেখ। নিজ এলাকায় তিনি মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী ও চোর হিসেবে পরিচিত। সবুজের চার বোনের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়ে গেছে, একজন এখনও অবিবাহিত। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই ঢাকায় রঙের কাজ করেন, ছোট ভাই অটোরিকশা চালান।
গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, সবুজ ছিনতাই, অটোরিকশা ও সাইকেল চুরির মতো বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। চুরি-ছিনতাই করে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতেন, আবার গোপনে বাড়িতে ফিরতেন। সর্বশেষ এক মাস আগে সবুজ দুদিন বাড়িতে অবস্থান করেন। তারপর ঢাকায় চলে যান।
সবুজের মা মমতাজ বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছোটবেলায় এমন ছিল না, কিন্তু কয়েক বছর ধরে সবুজ একা একা কথা বলে, গালাগাল করে। পরিবারের কেউ জানে না, সে কোথায় যায় বা কী করে। এক বছর আগে সে একটি মেয়েকে স্ত্রী বলে বাড়ি নিয়ে এসেছিল, তবে মেয়েটিও পাগল বলে মনে হয়েছে।’
সাভার মডেল থানা পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের তিন-চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসেন সবুজ। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবক অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে প্রথমে যুবককে দোতলায় নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে নিচতলায় ওই তরুণীকেও হত্যা করে দুজনের মরদেহ একসঙ্গে দোতলার টয়লেটে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন সবুজ। পরে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এক ব্যক্তিকে মরদেহ কাঁধে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ফুটেজের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা তরুণীর পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। পুলিশ জানায়, নিহত তরুণীর নাম তানিয়া আক্তার। তার বাবা মৃত জসিম। মানসিক প্রতিবন্ধী তানিয়া রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন এবং গত ১ জানুয়ারি থেকে তানিয়া নিখোঁজ ছিলেন।
সাভারের স্থানীয়রা জানান, সবুজ কয়েক বছর ধরে থানার সামনে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজা মোড় এলাকায় ঘোরাফেরা ও রাতযাপন করতেন। তাকে পুলিশের পোশাক ও ক্যাপ পরে ঘুরে বেড়াতেও দেখা গেছে। তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক। কিছুদিন আগে তার গতিবিধি সন্দেহজনক দেখে সেনাক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করেন। পরে সাভার মডেল থানার ওসি জুয়েল মিঞা তাকে ছেড়ে দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফাইজুর খান জানান, প্রায় আট মাস আগে সবুজ শেখ কাশিমপুর-২ কারাগারে বন্দি ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কারাগারে তার বেপরোয়া ও সহিংস আচরণে বিব্রত ছিলেন কারা কর্তৃপক্ষ। তবে সবুজ কারাগার থেকে কবে ও কীভাবে মুক্তি পেলেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক বৃদ্ধার অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর পরিচয় আসমা বেগম হিসেবে শনাক্ত হয়। এর পর ২০২৫ সালের আগস্ট, অক্টোবর ও ডিসেম্বরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে একাধিক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরা ও আলোর ব্যবস্থা জোরদার করে। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি দুটি আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে বড় অগ্রগতি আসে এবং সিরিয়াল কিলার সবুজকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
বিষয় : সিরিয়াল কিলার

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬
সাভারের ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে সবুজ নিজ এলাকায় পরিচিত চোর, ছিনতাইকারী হিসেবে। তবে পরিবারের দাবি, সবুজ মানসিকভাবে অসুস্থ।
পুলিশের কাছে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পর সবুজকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভবঘুরের বেশে দীর্ঘদিন সাভার এলাকায় ঘুরে বেড়ানো ‘সম্রাট’ পরিচয় লুকিয়ে হত্যাসহ অপরাধমূলক কাজ করে বেড়াচ্ছিলেন বলে অভিযোগ, অথচ সাভার থানার পাশেই ছিল তার অবস্থান- এ নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। গ্রামের বাড়িতে তার যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে স্থানীয় সূত্রে। গ্রেপ্তারের সময় সবুজ নিজের নাম সম্রাট, বাবার নাম সালাম ও মায়ের নাম রেজিয়া বলে দাবি করে। তাদের সাভার ব্যাংক কলোনি এলাকায় বাড়ি আছে বলেও জানান।
ঢাকা জেলার পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার করা সবুজ শেখ স্থানীয় কাউন্সিলর মশিউর রহমান খান সম্রাটের নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘সম্রাট’ পরিচয়ে চলাফেরা করতেন। গ্রেপ্তারের সময় তার দেওয়া ঠিকানা ও পারিবারিক তথ্যের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে অনুসন্ধানে তার প্রকৃত পরিচয় জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘সবুজ শেখ একজন বিকৃত রুচির ও সাইকোপ্যাথ প্রকৃতির মানুষ। সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করলেও একেক সময় একেক ধরনের কারণ দেখিয়েছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশ জানায়, ছয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সবুজকে গত সোমবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ দাবি করেছেন, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারীদের তিনি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যেতেন। এরপর তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হতেন। পরে ওই নারীরা অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করলে বা কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়ালে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হত্যা করতেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামের পান্না শেখ ও মমতাজ বেগমের দ্বিতীয় সন্তান সবুজ শেখ। নিজ এলাকায় তিনি মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী ও চোর হিসেবে পরিচিত। সবুজের চার বোনের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়ে গেছে, একজন এখনও অবিবাহিত। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই ঢাকায় রঙের কাজ করেন, ছোট ভাই অটোরিকশা চালান।
গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, সবুজ ছিনতাই, অটোরিকশা ও সাইকেল চুরির মতো বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। চুরি-ছিনতাই করে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতেন, আবার গোপনে বাড়িতে ফিরতেন। সর্বশেষ এক মাস আগে সবুজ দুদিন বাড়িতে অবস্থান করেন। তারপর ঢাকায় চলে যান।
সবুজের মা মমতাজ বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছোটবেলায় এমন ছিল না, কিন্তু কয়েক বছর ধরে সবুজ একা একা কথা বলে, গালাগাল করে। পরিবারের কেউ জানে না, সে কোথায় যায় বা কী করে। এক বছর আগে সে একটি মেয়েকে স্ত্রী বলে বাড়ি নিয়ে এসেছিল, তবে মেয়েটিও পাগল বলে মনে হয়েছে।’
সাভার মডেল থানা পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের তিন-চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসেন সবুজ। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবক অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে প্রথমে যুবককে দোতলায় নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে নিচতলায় ওই তরুণীকেও হত্যা করে দুজনের মরদেহ একসঙ্গে দোতলার টয়লেটে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন সবুজ। পরে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এক ব্যক্তিকে মরদেহ কাঁধে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ফুটেজের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা তরুণীর পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। পুলিশ জানায়, নিহত তরুণীর নাম তানিয়া আক্তার। তার বাবা মৃত জসিম। মানসিক প্রতিবন্ধী তানিয়া রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন এবং গত ১ জানুয়ারি থেকে তানিয়া নিখোঁজ ছিলেন।
সাভারের স্থানীয়রা জানান, সবুজ কয়েক বছর ধরে থানার সামনে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজা মোড় এলাকায় ঘোরাফেরা ও রাতযাপন করতেন। তাকে পুলিশের পোশাক ও ক্যাপ পরে ঘুরে বেড়াতেও দেখা গেছে। তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক। কিছুদিন আগে তার গতিবিধি সন্দেহজনক দেখে সেনাক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করেন। পরে সাভার মডেল থানার ওসি জুয়েল মিঞা তাকে ছেড়ে দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফাইজুর খান জানান, প্রায় আট মাস আগে সবুজ শেখ কাশিমপুর-২ কারাগারে বন্দি ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কারাগারে তার বেপরোয়া ও সহিংস আচরণে বিব্রত ছিলেন কারা কর্তৃপক্ষ। তবে সবুজ কারাগার থেকে কবে ও কীভাবে মুক্তি পেলেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক বৃদ্ধার অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর পরিচয় আসমা বেগম হিসেবে শনাক্ত হয়। এর পর ২০২৫ সালের আগস্ট, অক্টোবর ও ডিসেম্বরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে একাধিক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরা ও আলোর ব্যবস্থা জোরদার করে। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি দুটি আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে বড় অগ্রগতি আসে এবং সিরিয়াল কিলার সবুজকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

আপনার মতামত লিখুন