চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় নৃশংস খুনের শিকার হয়েছেন র্যাবের নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আসামি ধরতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি অফিসের ভেতরে এ হামলা হয়। এতে আক্রান্তদের মধ্যে র্যাবের আরও দুই সদস্য ও এক সোর্সকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। র্যাবের দুই সদস্য হলেন কনস্টেবল আরিফ ও নায়েক ইমাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, র্যাবের অভিযানের সময় দুর্বৃত্তরা প্রথমে আব্দুল মোতালেবের সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তার পায়ে গুলি করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই চারদিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা। এরপর লাঠি, রড, কাঠ- যা পেয়েছে তাই দিয়ে তাকে পিটিয়ে ঘটনাস্থলে হত্যা করে।
প্রায় চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় ও খাসজমি দখল, সন্ত্রাসী তৎপরতা, সংঘর্ষ ঘিরে আলোচনায় থাকা জঙ্গল সলিমপুর অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। প্রায় তিন হাজার ১০০ একর এলাকার বসতি ঘিরে রয়েছে বিস্তর জঙ্গল। প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি দখল করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন তাদের আস্তানা। বেশ কয়েকটি সশস্ত্র দল সেখানে প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরে বেড়েছে আধিপত্যের কোন্দল।
হামলার ঘটনার বিষয়ে র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আমাদের একটি অপারেশন টিম সলিমপুরে আসামি ধরতে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় ওই র্যাব সদস্য নিহত হন।’
র্যাব জানায়, জঙ্গল সলিমপুরে একটি মামলার সশস্ত্র আসামি লুকিয়ে আছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের ১৬ সদস্যের একটি দলে বিকেলে অভিযানে যায়। এসময় একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কার্যালয়ে আসামি লুকিয়ে ছিলেন বলে ধারণা করে সেখানে চারজন ঢুকলে অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা হয়।
র্যাবের চার সদস্য ভেতরে প্রবেশ করার পরই ২০-২৫ জন লোক চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। অত্যন্ত নৃশংসভাবে পেটালে তারা লুটিয়ে পড়েন। এর মধ্যে নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হামলার পরই র্যাবের বাকি সদস্যরা গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করেন। এরপর সলিমপুর-লিংক রোড এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার পরও র্যাব সদস্যরা গুলি চালাননি।
এ বিষয়ে র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হতে চাইছিলাম যে ভেতরে কোনো নিরীহ মানুষ আছেন কি না। আত্মরক্ষায় ন্যূনতম চেষ্টা ছাড়া সদস্যরা অস্ত্র ব্যবহার করেননি। হামলাটা ছিল পরিকল্পিত।’
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় নৃশংস খুনের শিকার হয়েছেন র্যাবের নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আসামি ধরতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি অফিসের ভেতরে এ হামলা হয়। এতে আক্রান্তদের মধ্যে র্যাবের আরও দুই সদস্য ও এক সোর্সকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। র্যাবের দুই সদস্য হলেন কনস্টেবল আরিফ ও নায়েক ইমাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, র্যাবের অভিযানের সময় দুর্বৃত্তরা প্রথমে আব্দুল মোতালেবের সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তার পায়ে গুলি করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই চারদিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা। এরপর লাঠি, রড, কাঠ- যা পেয়েছে তাই দিয়ে তাকে পিটিয়ে ঘটনাস্থলে হত্যা করে।
প্রায় চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় ও খাসজমি দখল, সন্ত্রাসী তৎপরতা, সংঘর্ষ ঘিরে আলোচনায় থাকা জঙ্গল সলিমপুর অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। প্রায় তিন হাজার ১০০ একর এলাকার বসতি ঘিরে রয়েছে বিস্তর জঙ্গল। প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি দখল করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন তাদের আস্তানা। বেশ কয়েকটি সশস্ত্র দল সেখানে প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরে বেড়েছে আধিপত্যের কোন্দল।
হামলার ঘটনার বিষয়ে র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আমাদের একটি অপারেশন টিম সলিমপুরে আসামি ধরতে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় ওই র্যাব সদস্য নিহত হন।’
র্যাব জানায়, জঙ্গল সলিমপুরে একটি মামলার সশস্ত্র আসামি লুকিয়ে আছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের ১৬ সদস্যের একটি দলে বিকেলে অভিযানে যায়। এসময় একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কার্যালয়ে আসামি লুকিয়ে ছিলেন বলে ধারণা করে সেখানে চারজন ঢুকলে অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা হয়।
র্যাবের চার সদস্য ভেতরে প্রবেশ করার পরই ২০-২৫ জন লোক চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। অত্যন্ত নৃশংসভাবে পেটালে তারা লুটিয়ে পড়েন। এর মধ্যে নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হামলার পরই র্যাবের বাকি সদস্যরা গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করেন। এরপর সলিমপুর-লিংক রোড এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার পরও র্যাব সদস্যরা গুলি চালাননি।
এ বিষয়ে র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হতে চাইছিলাম যে ভেতরে কোনো নিরীহ মানুষ আছেন কি না। আত্মরক্ষায় ন্যূনতম চেষ্টা ছাড়া সদস্যরা অস্ত্র ব্যবহার করেননি। হামলাটা ছিল পরিকল্পিত।’
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন