শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
মিররবাংলা

মার্কিন বোয়িং কিনতে চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে ঢাকার একটি হোটেলে এই চুক্তি হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে সরবরাহ শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো বহর হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ১০টি ওয়াইড-বডির ‘৭৮৭ ড্রিমলাইনার’ এবং ৪টি ন্যারো-বডির ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ মডেলের উড়োজাহাজ। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘এসব নতুন উড়োজাহাজ জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত। যা  বিমানের বহর আধুনিকীকরণ, অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। এ চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে। পাশাপাশি পর্যটন খাতের বিকাশ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’ বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বলেন, ‘এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। নতুন এই উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। এসব উড়োজাহাজ প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীসেবায় উন্নত সুবিধা দেবে।’ চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেইন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, ‘জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপি সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি অত্যাধুনিক ও যাত্রীবান্ধব এয়ারলাইন্স হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে বহরে আধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ সংযোজন ছিল অত্যন্ত জরুরি।’ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে ক্রয়াদেশ দেওয়ার কথা জানান তৎকালীন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। পরে ৩০ ডিসেম্বর বিমান পরিচালনা পর্ষদে ১৪টি বোয়িং কেনার ‘নীতিগত’ সিদ্ধান্ত হয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়ে এ ব্যাপারে আপত্তি করেনি। তারই সূত্রে এ চুক্তি সই। 

মার্কিন বোয়িং কিনতে চুক্তি