‘জুলাই যোদ্ধা’ কারিনার অকাল প্রয়াণ
লিভারের সংক্রমণে অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার মারা গেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভারতের চেন্নাইতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার সামনের সারিতে ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় পড়ালেখা করা কারিনা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও কিছুদিন ধরে অভিনয়ে নিয়মিত হচ্ছিলেন। ৩১ বছর বয়সী কারিনার অকাল প্রয়াণে তার সহকর্মীসহ স্বজনরা ভেঙ্গে পড়েছেন। কারিনার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে কারিনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। কায়সার হামিদ লিখেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।’ ‘আমার মেয়ের কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ লিভারসংক্রান্ত জটিলতায় কয়েকদিন ধরে সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। পাশাপাশি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। তবে সে পর্যায়ে আর যেতে পারেননি তারা। শনিবার (১৬ মে) কারিনার মরদেহ দেশে আনার কথা রয়েছে। কারিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা।