ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
নানা গুঞ্জন ও গুজবের পর রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টার্গেট হামলায় বেশ কয়েকজন স্বজনসহ খামেনি নিহত হন। ভয়াবহ এ হামলায় আলী খামেনির মেয়ে, জামাই, নাতি ও একজন পূত্রবধু প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ প্রায় ৪০ জন ইরানি কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার সকালে তেহরানে ইসরায়েলি হামলার পর সেখানকার একটি স্যাটেলাইট ইমেজ সংগ্রহ করে বিবিসি ভেরিফাই। যাতে দেখা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় বা লিডারশিপ হাউজের একটি অংশে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাই রেজুলেশনের ছবিটি ধারণ করেছে এয়ারবাস। এতে দেখা যায় ওই জায়গায় ভবনগুলো পোড়া অবস্থায় রয়েছে, ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। ছবির অবস্থান সকালে তেহরানে ধারণ করা যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে মিল রয়েছে।
এদিকে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস। এক বিবৃতিতে তারা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলে হামলা চালাবে বলে জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'অধিকৃত অঞ্চল এবং আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান আর কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হবে।'
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানায়। তবে ৮৬ বছর বয়েসী খামেনি কিভাবে মারা গেলেন এবং কে তার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে সেসব নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি। এ বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন।
পরবর্তীতে ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে কে থাকবেন তা নির্ধারণ করবেন বিশেষজ্ঞমণ্ডলী বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামে ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ।
বিষয় : ইরান আলী খামেনি ইসরায়েল আয়াতুল্লাহ

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
নানা গুঞ্জন ও গুজবের পর রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টার্গেট হামলায় বেশ কয়েকজন স্বজনসহ খামেনি নিহত হন। ভয়াবহ এ হামলায় আলী খামেনির মেয়ে, জামাই, নাতি ও একজন পূত্রবধু প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ প্রায় ৪০ জন ইরানি কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার সকালে তেহরানে ইসরায়েলি হামলার পর সেখানকার একটি স্যাটেলাইট ইমেজ সংগ্রহ করে বিবিসি ভেরিফাই। যাতে দেখা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় বা লিডারশিপ হাউজের একটি অংশে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাই রেজুলেশনের ছবিটি ধারণ করেছে এয়ারবাস। এতে দেখা যায় ওই জায়গায় ভবনগুলো পোড়া অবস্থায় রয়েছে, ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। ছবির অবস্থান সকালে তেহরানে ধারণ করা যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে মিল রয়েছে।
এদিকে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস। এক বিবৃতিতে তারা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলে হামলা চালাবে বলে জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'অধিকৃত অঞ্চল এবং আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান আর কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হবে।'
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানায়। তবে ৮৬ বছর বয়েসী খামেনি কিভাবে মারা গেলেন এবং কে তার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে সেসব নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি। এ বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন।
পরবর্তীতে ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে কে থাকবেন তা নির্ধারণ করবেন বিশেষজ্ঞমণ্ডলী বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামে ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ।

আপনার মতামত লিখুন