শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মিরর বাংলা

রোজায় কেন মাথাব্যথা বাড়ে


মিরর ডেস্ক
মিরর ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রোজায় কেন মাথাব্যথা বাড়ে
প্রতীকী ছবি

রোজার মাসে ইফতারের পর অনেকের মাথাব্যথা হয়। কখনও কপালে টনটন করে, কখনও মাথার পেছনে চাপ অনুভূত হয়, আবার কারও কারও চোখের ওপর দিয়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। হরেক রকমের এ মাথাব্যথার রয়েছে ঘরোয়া প্রতিকার।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোজার মাসে ইফতারের পর পরই যে মাথাব্যথা শুরু হয় তাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। এটি সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের হয়। মূলত এ ব্যথা কপালে অনুভূত হয়। এ ধরনের ব্যথার সঠিক কারণ জেনে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এটি অনেকাংশে এড়ানো যায়।

চিকিৎসকদের মতে, ইফতারের পর মাথাব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ পানিশূন্যতা। সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। অনেকে মনে করেন ইফতারে প্রচুর পানি গ্রহণ করলেই হবে। আসলে দিনভর পানির অভাব মাথার রক্তনালী সংকুচিত করে ব্যথা তৈরি করে। যা থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় লাগতে পারে।

অনেকের মাথাব্যথা হতে পারে অভ্যাসের কারণে। যারা নিয়মিত চা-কফি পান করেন, রোজার সময় শরীর ক্যাফিন না পেলে তারা মাথাব্যথায় ভুগতে পারেন। সাধারণত ক্যাফিন নেওয়ার ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর এই ব্যথা শুরু হয়। আবার রক্তে শর্করার স্বল্পতার জন্য মাথাব্যথা হতে পারে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে গ্লুকোজ কমে যায়, যা মস্তিষ্কের ‘রিসেপ্টর’গুলোকে উত্তেজিত করে। 

যাদের আগে থেকে মাইগ্রেইনের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে রোজা এই ব্যথাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। যাদের মাইগ্রেইন আছে, তাদের ক্ষেত্রে রোজা ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।

মাথাব্যথা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে- পর্যাপ্ত পানি পান করা। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি পান করতে হবে। একসঙ্গে অনেক পানি গ্রহণ সমস্যা না কমিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে। আর যারা নিয়মিত চা-কফি পান করেন, রোজার সময় তারা ধীরে ধীরে ক্যাফিনের মাত্রা কমিয়ে আনলে উপকার পাবেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, মাথাব্যথা কমাতে বিশ্রাম খুব জরুরি। রোজার মাসে ঘুমের ছন্দ ঠিক থাকে না। তাই ইফতার ও সেহরির পর যতটা সম্ভব ঘুমিয়ে নিতে হবে। আর দুপুরে আধাঘণ্টা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ নিতে পারলে ক্লান্তি কমার পাশাপাশি মাথাব্যথা কমাতে পারে। তবে যাদের মাইগ্রেইন আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রতিরোধমূলক ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।

রোজার মাসে মাথাব্যথা সাধারণ একটা সমস্যা। তবে ব্যথা যদি খুব তীব্র হয়, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, বমি হয়, বিভ্রান্তি দেখা দেয়, জ্বর হয় বা শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যায়- তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

মিরর বাংলা

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


রোজায় কেন মাথাব্যথা বাড়ে

প্রকাশের তারিখ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

রোজার মাসে ইফতারের পর অনেকের মাথাব্যথা হয়। কখনও কপালে টনটন করে, কখনও মাথার পেছনে চাপ অনুভূত হয়, আবার কারও কারও চোখের ওপর দিয়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। হরেক রকমের এ মাথাব্যথার রয়েছে ঘরোয়া প্রতিকার।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোজার মাসে ইফতারের পর পরই যে মাথাব্যথা শুরু হয় তাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। এটি সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের হয়। মূলত এ ব্যথা কপালে অনুভূত হয়। এ ধরনের ব্যথার সঠিক কারণ জেনে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এটি অনেকাংশে এড়ানো যায়।

চিকিৎসকদের মতে, ইফতারের পর মাথাব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ পানিশূন্যতা। সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। অনেকে মনে করেন ইফতারে প্রচুর পানি গ্রহণ করলেই হবে। আসলে দিনভর পানির অভাব মাথার রক্তনালী সংকুচিত করে ব্যথা তৈরি করে। যা থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় লাগতে পারে।

অনেকের মাথাব্যথা হতে পারে অভ্যাসের কারণে। যারা নিয়মিত চা-কফি পান করেন, রোজার সময় শরীর ক্যাফিন না পেলে তারা মাথাব্যথায় ভুগতে পারেন। সাধারণত ক্যাফিন নেওয়ার ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর এই ব্যথা শুরু হয়। আবার রক্তে শর্করার স্বল্পতার জন্য মাথাব্যথা হতে পারে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে গ্লুকোজ কমে যায়, যা মস্তিষ্কের ‘রিসেপ্টর’গুলোকে উত্তেজিত করে। 

যাদের আগে থেকে মাইগ্রেইনের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে রোজা এই ব্যথাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। যাদের মাইগ্রেইন আছে, তাদের ক্ষেত্রে রোজা ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।

মাথাব্যথা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে- পর্যাপ্ত পানি পান করা। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি পান করতে হবে। একসঙ্গে অনেক পানি গ্রহণ সমস্যা না কমিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে। আর যারা নিয়মিত চা-কফি পান করেন, রোজার সময় তারা ধীরে ধীরে ক্যাফিনের মাত্রা কমিয়ে আনলে উপকার পাবেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, মাথাব্যথা কমাতে বিশ্রাম খুব জরুরি। রোজার মাসে ঘুমের ছন্দ ঠিক থাকে না। তাই ইফতার ও সেহরির পর যতটা সম্ভব ঘুমিয়ে নিতে হবে। আর দুপুরে আধাঘণ্টা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ নিতে পারলে ক্লান্তি কমার পাশাপাশি মাথাব্যথা কমাতে পারে। তবে যাদের মাইগ্রেইন আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রতিরোধমূলক ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।

রোজার মাসে মাথাব্যথা সাধারণ একটা সমস্যা। তবে ব্যথা যদি খুব তীব্র হয়, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, বমি হয়, বিভ্রান্তি দেখা দেয়, জ্বর হয় বা শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যায়- তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।


মিরর বাংলা

সম্পাদক ও প্রকাশক- মাসুদুল আলম তুষার
কপিরাইট © ২০২৬ মিরর বাংলা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত