হারিকেন বেরিল, ধ্বংসযজ্ঞের শঙ্কা

0
9

আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট হারিকেন বেরিল ‘‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’’ ঝড়ে পরিণত হয়েছে। প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দিকে ধেয়ে যাওয়া হারিকেন বেরিল ইতোমধ্যে ক্যাটাগরি-৩ ঝড়ে পরিণত হয়েছে। এর ফলে এই ঝড় ক্যারিবীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ১৭৯ থেকে ২০৯ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ নিয়ে তাণ্ডব চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) বলেছে, রোববার ভোর রাত থেকে সোমবার সকালের দিকে হারিকেন বেরিল ক্যারিবীয় অঞ্চলের উইন্ডওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জে প্রাণঘাতী বাতাসের গতিবেগ নিয়ে আঘাত হানতে পারে। গত শুক্রবার আটলান্টিকে সৃষ্ট এই ঝড় ইতোমধ্যে প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে অত্যন্ত বিপজ্জনক ঝড়ে রূপ নিয়েছে।
এনএইচসির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের চলতি মৌসুমের প্রথম এই হারিকেন রোববার সকালে বার্বাডোসের প্রায় ৬৭৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে।
আটলান্টিকে জুন মাসের প্রথম দিকে বড় ধরনের হারিকেন সৃষ্টির এই ঘটনা অনেকটা বিরল বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।
সোমবারের মধ্যে বেরিল ক্যাটাগরি-৪ হারিকেনে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তারা। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হারিকেন বেরিলের আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ১৭৯ থেকে ২০৯ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সেই সময় ওই অঞ্চলে বিপর্যয়কর ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে, হারিকেন বেরিলের তাণ্ডবের আশঙ্কায় বার্বাডোস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট, গ্রেনাডাইন দ্বীপপুঞ্জ, গ্রানাডা এবং টোবাগোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার বলেছে, এসব দ্বীপে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেরিলের আঘাতের সময় ক্যারিবীয় দ্বীপগুলোতে জোয়ারের স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় ৯ ফুট বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, পূর্ব আটলান্টিক মহাসাগর লাগোয়া উইন্ডওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জে সবার আগে আঘাত হানতে পারে ঝড়টি। এরপর ডমিনিকা, মার্টিনিক, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রানাডাইনস ও গ্রেনাডার দিকে ধেয়ে যেতে পারে। এ সময় ওই অঞ্চলে প্রবল শক্তিতে আঘাত হানতে যাওয়া এই ঝড় প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় উচ্চ ঢেউয়ের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় আলবার্তোর পর আটলান্টিক মহাসাগরে বেরিলই চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় ঝড়। এর আগে, গত ২০ জুন উত্তর-পূর্ব মেক্সিকোতে আঘাত হানে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় আলবার্তো। সেই ঝড়ের প্রবল তাণ্ডবে দেশটিতে চারজনের প্রাণহানি ঘটে।
বার্বাডোসের আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা হারিকেন বেরিলের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে। হারিকেনটি দ্বীপের দক্ষিণে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকার ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঝড়ের প্রভাবে বার্বাডোসসহ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আটলান্টিক মহাসাগর লাগোয়া অঞ্চলে হারিকেনের মৌসুম ১ জুন থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলে। চলতি বছরে ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি হারিকেন আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তারা।
এর আগে, গত মাসে ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) চলতি মৌসুম সম্পর্কে সবচেয়ে ভয়াবহ সতর্কতা জারি করে। পূর্বাভাসবিদরা বলেছেন, ২০২৪ সালে অন্তত ২৫টি ঝড় আঘাত হানতে পারে। এসব ঝড়ের মধ্যে আট থেকে ১৩টি হারিকেনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া এসব ঝড়ের মধ্যে চার থেকে সাতটি যেকোনও জায়গায় শক্তিশালী হয়ে ক্যাটাগরি-৩ বা আরও তীব্র হারিকেনে রূপ নিতে পারে। যা স্বাভাবিক সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি। সমুদ্রের তাপমাত্রা রেকর্ড উষ্ণ হয়ে ওঠার কারণে ওই অঞ্চলে ঘনঘন হারিকেনের সৃষ্টি হচ্ছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here