শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
মিররবাংলা

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে ‘অদম্য’ ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো চুক্তি না করলে অথবা হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের ওপর ‘নরক’ নামিয়ে আনা হবে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ট্রাম্পের এ হুঁশিয়ারির পর ইরান নমনীয়তা দেখায়নি। তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে- তেহরানে হামলা হলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ‘স্মরণ করুন যখন আমি ইরানকে একটি চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে- তাদের ওপর নরক নেমে আসার আগে ৪৮ ঘণ্টা আছে। ঈশ্বরের গৌরব হোক!’ ট্রাম্পের এ হুঁশিয়ারির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ৬ এপ্রিল, সোমবার। অন্যদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ‘অনমনীয়’ মনোভাব দেখিয়ে আসছেন। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ফের অদম্য মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ তাদের প্রচেষ্টার জন্য। আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অবৈধ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী অবসানের শর্তাবলী নিয়েই শুধু আমরা ভাবিত।’ ইরানের নেতৃবৃন্দ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য নীতিগতভাবে দরজা খোলা রাখলেও ট্রাম্পের হুমকিতে নতি স্বীকার করতে রাজি নন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রবেশ করলেও শান্তি আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে আর এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন। একবার কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন তো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোমা মেরে ইরানকে ‘প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন। তিনি ২১ মার্চ ঘোষণা করেন যে, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দেয়, তবে তিনি দেশটির বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থাপনা নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। হুমকির মাধ্যমে ইরানকে টলাতে না পেরে ২৩ মার্চ তিনি সুর কিছুটা নরম করে জানান যে, দুই দেশের মধ্যে খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি জ্বালানি অবকাঠামোতে যেকোনো ধরণের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এরপর ২৭ মার্চ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি তাদের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হামলা আরও ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখছেন। এই ঘোষণার ফলে নতুন সময়সীমা নির্ধারিত হয় ছয়ই এপ্রিল পর্যন্ত। অন্যদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা-সমঝোতার কথা বরাবরই নাকচ করে আসছে ইরান। 

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে ‘অদম্য’ ইরান