কারাগারে শিরীন শারমিন চৌধুরী
জাতীয় সংসদের প্রথম নারী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটকের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লালবাগ এলাকার সহিংসতা ও ভাঙচুরের একটি মামলায়।‘ক্লিন ইমেজের’ শিরীন শারমিনকে আটক করার ঘটনায় দেশে-বিদেশে তুমুল প্রতিক্রিয়া চলছে। ভোররাতে আটকের পর মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরের দিকে আদালতে হাজির করা হয় সদ্যসাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তার দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আজিমপুর সরকারি কলোনী এলাকায় সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে পরিকল্পনা ও নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও তিনি অনেক প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে। তবে আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে যেতে পারেন এবং তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে ৩ নম্বর আসামি করা হয় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। মামলাটি দায়ের করা হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগে। এতে দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারা সংযুক্ত রয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আজিমপুর সরকারি কলোনী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের চোখে গুলি লেগে দৃষ্টিশক্তি হারানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পরিবার সদস্যদের নিয়ে ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থান নেন। তিনিসহ আশ্রয় গ্রহণকারী রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল সেনাবাহিনী। তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে, কেউবা দেশের বাইরে চলে গেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে শিরীন শারমিন চৌধুরী অবস্থান নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে চলছিল নানা গুঞ্জন। তিনি গুমের শিকার বলেও প্রচার করেন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতেই শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ডিবি ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে আটকের দাবি করেছে। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন চৌধুরী। রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসা শিরীন শারমিন টানা স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের পতন পর্যন্ত। পরে সংসদ অকার্যকর হলে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর থেকেই তার খোঁজ মিলছিল না।