স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর নামে মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে আলভীর কথিত প্রেমিকা ইফফাত আরা তিথিকেও।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় যাহের আলভীর বাসা থেকে তার স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে ‘আত্মহত্যা’ বলে মেনে নিলেও স্বজনরা প্ররোচনার অভিযোগ এনেছেন ইকরার স্বামীর বিরুদ্ধে।ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ রাতেই পল্লবী থানায় ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ অভিযোগ এনে মামলা করেন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।আত্মহত্যায় প্ররোচনার এ মামলায় আলভীর সঙ্গে তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলি ও অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথিকে আসামি করা হয়েছে।স্বজনরা জানান, আলভী ও ইকরা বিয়ে করেন ২০১০ সালে। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করা হয়। বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।ইকরার লাশ উদ্ধারের সময় যাহের আলভী শুটিংয়ের জন্য দেশের বাইরে ছিলেন।সংবাদ জেনে তিনি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, 'আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি নেপালে শুটিংয়ে ছিলাম। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মত অবস্থায় নেই। আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।'ইকরার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে জোর আলোচনা চলে তার স্বামী যাহের আলভীর প্রেম-পরকীয়া নিয়ে। ইকরার সর্বশেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তার কিছু ইঙ্গিত মেলে। আলভী তার অধিকাংশ নাটকের সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির জন্মদিন পালন করতে নেপাল গেছেন, এমন অভিযোগ ঘিরেই ইকরার আত্মহত্যা বলে প্রচার পায়।পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান বলেন, ‘মামলা হয়েছে। তদন্তে সব রকম তথ্যকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’