যে অপরাধে গ্রেপ্তার ওলি
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। জেন-জি বিক্ষোভকারীদের দমন অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে চায় নতুন সরকার। নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ও তার মন্ত্রিপরিষদ শপথ নেওয়ার মাত্র এক দিন পরই শনিবার (২৮ মার্চ) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি মানেই প্রতিশ্রুতি এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে আটক করেছি। এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়; এটি ন্যায়বিচারের শুরু মাত্র। আমি বিশ্বাস করি, এখন দেশ একটি নতুন পথে এগোবে।’ এ ঘটনায় কে পি শর্মা ওলি দাবি করেছেন, তাকে প্রতিহিংসামূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’ কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল পুলিশ ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকার বাসা থেকে কে পি শর্মা ওলিকে আটক করে। ওলির সঙ্গে তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাঠমান্ডু থেকে এএফপি জানায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন-জি বিক্ষোভকারীদের দমন অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে সদ্যসাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করা হয়েছেো। এ বিক্ষোভের মুখে ৭৪ বছর বয়সী ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন। এতে তার সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনের পর ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তারা একদিন আগে সরকার গঠন করেছে। কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী বলেন, ‘শনিবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ নেপালের সহিংসতা তদন্তে গঠিত কমিশন জানিয়েছে, গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলনে অন্তত ৭৬ জন নিহত হন। প্রথম দিনের বিক্ষোভে অন্তত ২০ জন তরুণ নিহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার জেরে নেপালে ওই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, তবে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের কারণে বহুদিন ধরেই জনমনে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। বিশেষ করে সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন তরুণরা। দ্বিতীয় দিনেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। পার্লামেন্ট ও সরকারি অফিসগুলোতে আগুন দেওয়া হয়। ফলে ওলি সরকারের পতন ঘটে। এরপর নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কি স্বল্প সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত তদন্ত কমিশন সুপারিশ করেছে, ওলি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গুলি চালানোর কোনো আদেশ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা প্রমাণিত হয়নি। তবে গুলি থামাতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে কোনো প্রচেষ্টা নেওয়া হয়নি এবং তাদের অবহেলাজনিত আচরণের কারণে বেশ কিছু শিশু প্রাণ হারিয়েছে।’ বালেন্দ্র শাহ নির্বাচনে জয়লাভ করার পর বিক্ষোভের সহিংসতা তদন্তে একটি প্যানেল গঠন করা হয়। শুক্রবার বালেন্দ্র শাহের সভাপতিত্বে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।