শঙ্কা পেরিয়ে মাঠে ভোটের লড়াই
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু ভোট গ্রহণ। চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। এবার ভোটের মাঠে বিশৃঙ্খলা ও কারচুপি ঠেকাতে বিভিন্ন বাহিনীর সাড়ে ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন আছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।গত বছরের ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিইসি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে নানা কারণে জনমনে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। নির্বাচন হবে কিনা, -এমন প্রশ্ন ও সংশয় ছিল শেষপর্যন্ত। সেসব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু ব্যালটের লড়াই। এ ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক গতিপথ।এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১,২৩২ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটার আছেন ৫ কোটির বেশি। অন্যদিকে মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। ফলাফল নির্ধারণে তরুণ ও নারী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।সারা দেশে মোট ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সেগুলোকে ভাগ করা হয়েছে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ভোটকেন্দ্রে। সাধারণ ভোটকেন্দ্র ২১,২৭৩টি এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ২১,৫০৬টি।জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২৯৯টি আসনে ভোট হচ্ছে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মোট প্রার্থী সংখ্যা ২,২৮০ জন, যার মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১,৭৫৫ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। পুরুষ প্রার্থী ১,৯৪৬ জন (রাজনৈতিক দল ১,৬৯২, স্বতন্ত্র ২৫৩) এবং নারী প্রার্থী ৮৩ জন (রাজনৈতিক দল ৬৩, স্বতন্ত্র ২০)।এবারের নির্বাচনে ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে ইসি। ফলে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।ভোট উপলক্ষে সারাদেশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য । এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার। ৫ জেলার ১৭ আসনে থাকবে ৫ হাজার নৌবাহিনীর সদস্য। বিমানবাহিনীর সদস্য থাকবে সাড়ে ৩ হাজার। বিজিবির থাকবে ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন। কোস্টগার্ড থাকবে ৩ হাজার ৫৮৫ জন। পুলিশের সদস্য থাকবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন। র্যাব থাকবে ৯ হাজার ৩৪৯ জন। আনসার থাকবে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন। বিএনসিসির সদস্য থাকবে ১ হাজার ৯২২ জন।ভোট গ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা করা হবে। ফলাফলের স্বাক্ষরিত কপি এজেন্টদের সরবরাহ করা হবে।