শিরীন শারমিন আটক
জাতীয় সংসদের প্রথম নারী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে। তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে রয়েছেন। ‘ক্লিন ইমেজের’ শিরীন শারমিনকে আটকের খবরে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলে মনে করেন অনেকে। সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে দাবি করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার সকালে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তিনি এখন ডিবির হেফাজতে আছেন।’ ডিবি হেফাজতে শিরীন শারমিন চৌধুরী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পরিবার সদস্যদের নিয়ে সেনানিবাসে অবস্থান নেন। তিনিসহ আশ্রয় গ্রহণকারী রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল সেনাবাহিনী। তাদের অনেকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে। কেউবা দেশের বাইরে চলে গেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে শিরীন শারমিন চৌধুরী অবস্থান নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে চলছিল নানা গুঞ্জন। তিনি গুমের শিকার বলেও প্রচার করেন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতেই শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ডিবি ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে আটকের দাবি করেছে। তবে কেন তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য দেননি ডিবি কর্মকর্তারা। ডিবির যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন,‘শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কী কী মামলা আছে, সেই বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে।’ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সহিংসতার একটি ঘটনায় রংপুরে শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট তাকেসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন চৌধুরী। রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসা শিরীন শারমিন টানা স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের পতন পর্যন্ত। পরে সংসদ অকার্যকর হলে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর থেকেই তার খোঁজ মিলছিল না।