শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
মিররবাংলা

অর্থনীতি

পেট্রোল পাম্প বন্ধের শঙ্কা

দেশের সমস্ত পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়া ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এ পরিস্থিতি বলে সংগঠনটি দাবি করেছে। জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরেও পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন গাড়ির। সরকার ঘোষিত রেশনিং ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর। বেশিরভাগ পাম্প দাবি করছে তাদের চাহিদামতো তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকরা লাইনে অপেক্ষায় থেকে ফিরছেন আক্ষেপ নিয়ে। অনেক স্থানে ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা।এমন পরিস্থিতিতে রোববার (২২ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে সমস্যা ও শঙ্কার কথা।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। কারণ, কোম্পানি থেকে পাওয়া দৈনিক তেল দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় বিরামহীন দায়িত্ব পালনের অভ্যাস না থাকায় শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়ছেন পাম্পে কর্মরতরা। সবমিলিয়ে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যেকোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একেকজন দৈনিক একাধিকবার তেল নিতে আসছেন বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি থেকে বলা হয়, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তেল বিক্রি করছে পাম্পগুলো। কিন্তু, অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে ১০ বারের মতো তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েই বারবার তেল নিতে আসছেন। এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে মব সৃষ্টি করে পেট্রোল পাম্প খুলিয়ে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালীন লাঠিসোঁটা নিয়ে সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা সব পেট্রোল পাম্প মালিকদের ভাগ্যেই ঘটতে চলেছে। এখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, বর্তমানে জ্বালানি তেলের ঘাটতির সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেট্রোল পাম্পের নিরাপত্তাবিষয়ক ইস্যুগুলো আরও বেশি সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। ট্যাংকারগুলো পথে লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনও পথ খোলা নেই বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

পেট্রোল পাম্প বন্ধের শঙ্কা