কোটা নিয়ে বিতর্ক কেন

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় সারা বিশ্বে কোটা সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রচলিত। বাংলাদেশেও মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই এই ব্যবস্থা শুরু হয়। তবে ২০১৮ সালে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে সরকার কোটা প্রথা বাতিলও করে। তবে সম্প্রতি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রতিবাদে আবারও শুরু হয়েছে আন্দোলন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোটা নিয়ে বিতর্কের কোনও কারণ নেই। তবে কোন ক্ষেত্রে, কারা কতটুকু পিছিয়ে আছেন, কত শতাংশ কোটা রাখা প্রয়োজন, তার হিসেবে মিলিয়ে কোটা পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। এই হিসাব সরকারকেই করতে হবে। যৌক্তিকভাবে কোটা পুনর্বিন্যাস না করায় আগেও আন্দোলন হয়েছে। আবার আন্দোলনের পর যথাযথভাবে সংস্কার না হওয়ায় এবং বর্তমানে আদালতের রায় হওয়ায় কোটা বাতিল চেয়ে আন্দোলন করা হচ্ছে। একই আন্দোলন থেকে আবার প্রতিবন্ধী ও নারী কোটা সংরক্ষণেরও দাবি করা হচ্ছে।

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের দাবি, কোটা কখনোই স্থায়ী হয় না, অন্তত চার-পাঁচ বছর পরপর সংস্কার হওয়া দরকার। কয়েক বছর পরপর দেখতে হয়, কোটা কতটা কার্যকর আছে। আর এই সংরক্ষিত কোটা সবসময় মেধার ‍মূল্যায়নে অর্ধেকের কম হতে হবে, ৫০ শতাংশের বেশি সংবিধানসম্মত নয়। সংস্কারের আন্দোলন যৌক্তিক। তবে আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আন্দোলন করাও যায় না।

মুক্তিযুদ্ধের পর চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার শুরু
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উপহার হিসেবে কোটা চালু করেছিলেন। যদিও সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উপহারকে সরাসরি কোটা বলার সুযোগ কম। ওই সময় সরকারি কর্মচারী নিয়োগে মাত্র ২০ শতাংশ নেওয়া হয়েছিল মেধায় (সাধারণ), ৪০ শতাংশ জেলা কোটা এবং ১০ শতাংশ ছিল নারী কোটা। আর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উপহার হিসেবে কোটা সংরক্ষণ করা ছিল ৩০ শতাংশ।

১৯৭৬ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ জেলা কোটা থেকে ২০ শতাংশ কমিয়ে সাধারণদের জন্য ২০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করা হয়, মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে ১৯৭২ সালের সমান ৩০ শতাংশ কোটা রাখা হয়। নারীদের জন্য ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষিত থেকে যায়।

২০১৮ সালের আন্দোলনকারী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ছিল, কোনও পরিসংখ্যান ছাড়াই ১৯৭৬ সালের পর আবারও ১৯৮৫ সালে কোটা সংস্কার করা হয়। ওই বছর কোটা সংস্কার করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে পাঁচ শতাংশ বাড়িয়ে সাধারণদের জন্য ৪৫ শতাংশ নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটা আগের মতোই ৩০ শতাংশ রাখা হয়। এছাড়া জেলা কোটা ১০ শতাংশ ও নারীদের জন্য ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করা হয় আগের মতোই। আর প্রথমবারের মতো উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য পাঁচ শতাংশ কোটা রাখা হয়। কিন্তু কোনও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কোটা ব্যবস্থার এ বিভাজন হয়নি। শুধু তাই নয়, কোটায় প্রার্থী না থাকলেও কোটার বাইরে শূন্যপদে কাউকে নিয়োগ দেওয়াও হয়নি। উল্টো অবৈধ সুযোগ নিয়ে অমুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি দেওয়ার অভিযোগও এসেছে অনেকবার।

পরে ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য নতুনভাবে কোটা ব্যবস্থা চালু করেন। সবশেষ ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলাভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করা হয়। দেশের সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে ও মেয়ে, নাতি-নাতনি কোটা, জেলা কোটা, উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা, পোষ্য কোটা ও নারী কোটাসহ বিভিন্ন কোটা রাখা হয়।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটার বিন্যাস
বর্তমানে সরকারি চাকরির নিয়োগে কোটার বিন্যাস হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ (ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনি), নারী ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী নিয়োগের বিধান রয়েছে। এর বাইরে বাকি ৪৫ শতাংশ সাধারণদের জন্য বরাদ্দ।

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, বিভিন্ন করপোরেশন ও দফতরে সরাসরি নিয়োগে জেলার জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলা কোটা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ২০০১ সালের আদমশুমারির পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলাওয়ারি কোটা ঠিক করে সরকার।

২০১০ সালের ৫ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত পরিপত্রে বলা হয়, জেলা কোটার (১০ শতাংশ) সব পদ জেলার প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ সম্ভব না হলে জেলা কোটা জাতীয় মেধা তালিকা থেকে পূরণ করতে হবে। বিভিন্ন জেলার জন্য বরাদ্দ কোটায় যোগ্য প্রার্থী বিবেচিত না হলে, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশেষ কোটার প্রার্থীদের দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও উপজাতীয়দের জন্য জাতীয় মেধা তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। এরপর বিশেষ কোটার অধীন স্ব-স্ব কোটার প্রার্থীদের তালিকা থেকে তা পূরণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এক্ষেত্রে জেলার কোটাও চলে যাচ্ছে অন্য কোটায়, এতে তৈরি হয়েছে দুর্নীতির ক্ষেত্র। এসব কারণেই কোটার বিরুদ্ধে বারবার আন্দোলন হতে দেখা গেছে।

২০১৮ সালে তুমুল আন্দোলনে কোটা বাতিল

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাত জন। আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৫ জুন হাই কোর্ট মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

এরপর সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় নেমেছেন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা।

পূর্বঘোষিত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালনে রবিবার (৭ জুলাই) আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামতে শুরু করলে এসব এলাকার আশপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে যানজট। এতে সাধারণ সাধারণ মানুষের চলাচলে সৃষ্টি হয় চরম ভোগান্তি।

নারী, প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর জন্য কোটা চায় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল এবং নারী, প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর জন্য কোটা বহাল রেখে এই প্রথার ‘যৌক্তিক সংস্কার’ দাবি করেছে ৭ বাম ছাত্র সংগঠনের মোর্চা ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা যখন সমস্ত কোটা বাতিলের বিভ্রান্তিকর ঘোষণা দেন, তখন আমরা বামপন্থি প্রগতিশীল সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলাম। কোটা সংস্কার আন্দোলনে তৎকালীন সুবিধাবাদী, আপসকামী নেতৃত্ব তাদের সংকীর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে শেখ হাসিনার দুরভিসন্ধিমূলক ঘোষণা মেনে নেয়।

কোটাবিরোধী আন্দোলন ষড়যন্ত্র কিনা

কোটাবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা ও শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধরী নওফেল বলেন, ‘আমি এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলতে চাই, অনেক সময় জনপ্রিয় অনেক বিষয়কে পুঁজি করে ষড়যন্ত্রকারীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। সেই ফাঁদে যেন আমরা পা না দেই। প্রথমত এটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালতের সিদ্ধান্তের পরে নির্বাহী বিভাগের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবশ্যই ফ্লেক্সিবিলিটি থাকে। সেটার জন্য অবশ্যই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে, সেটি সমাধান না হওয়ার আগেই একটি বিচারাধীন বিষয়ে হঠাৎ করে আমি রাস্তায় নেমে গেলাম, রাস্তাঘাট সব ব্লক করে দিলাম, স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রশ্ন থাকতে পারে, এর পেছনে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র আছে কিনা? কারণ স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করার জন্য অনেকেই অনেকভাবে অনেক জায়গায় উসকানি দেয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ৭৫ পরবর্তী সময় থেকে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, প্রগতিশীল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বারংবার এমন একটা অবস্থার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। যেখানে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীরা বারবার এগিয়ে যায়। সেই ধরনের কোনও প্রচেষ্টা হচ্ছে কিনা সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’

বিশিষ্টজনরা যা বলছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘২০১৮ সালে যখন আন্দোলন হলো, তখন সরকারের পক্ষ থেকে কোটা রহিত করা হলো। বিগত কয়েক বছর সেভাবেই সরকারি নিয়োগগুলো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিষয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রিট করায় আবারও সেই কোটা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোটা প্রথা রহিত করার সিদ্ধান্ত যেহেতু সরকারের। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিলও করেছে।’

তরুণ প্রজন্মের ছেলে-মেয়ে ও চাকরি প্রত্যাশীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কারের কথা বলছে, সংস্কার হতে পারে। কিন্তু যেহেতু বিষয়টি এখনও বিচারাধীন, তারা অপেক্ষা করতে পারতো।’
এই আন্দোলনে কার কাছে দাবি জানানো হচ্ছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘দাবি যদি সরকারের কাছে হয়ে থাকে, সরকার তো কোটা প্রথা রহিত রাখতে আপিল করেছে। অতএব এই সময় হঠাৎ করে আন্দোলন করা জনমনে বিভ্রান্তি, জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করার এখন প্রয়োজন বলে আমার মনে হয় না। যেহেতু সরকার আন্দোলনকারীদের পক্ষে আপিল করেছে, সেহেতু আদালতের রায় আসার পর আন্দোলনকারীরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে করণীয় চিন্তা করা যেতো। আমি ব্যক্তিগভাবে মনে করি, সব সময় সমাজের পিছিয়ে কিছু জনগোষ্ঠী থাকে তাদের এগিয়ে নিয়ে আসা এবং সুচিন্তা, সুবিবেচনা প্রসূতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার আছে।’

কোটার যথাযথ প্রয়োগের বিষয় উল্লেখ করে উদাহরণ তুলে ধরে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আছেন, ছাত্র আছেন; যারা কোটার সুবিধা নিয়েছেন। যে একবার ভর্তির ক্ষেত্রে সুযোগ পান তাহলে চাকরির ক্ষেত্রে আবার চান, সেটা ঠিক হবে না। যদি কেউ ভর্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করে, তাহলে চাকরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন না। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধার পরিবার যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল এখানে নানাভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে ক্যাটাগরি করা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে প্রয়োগ করা হয়। এখন যেটা দরকার আন্দোলনকারী ও সরকার বিষয়টি আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে যাওয়া। সব পরিস্থিতিই আলোচনা করে সমাধান করা যেতে পারে, সেটিই হওয়া উচিত। মেধাবীরা চাকরি পাক সেটা আমরা অবশ্যই চাইবো। একইসঙ্গে সমাজে যারা পিছিয়ে পড়া, তারা যেন সামনে আসতে পারে, সেটাও দেখা দরকার।’

মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধারা কোটার সুবিধা পাননি। সে কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা চালু করা হলো। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের তখন আর বয়স ছিল না। তাই তাদের সন্তানদের জন্য উন্মুক্ত করা হলো, পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের কোটা সুবিধার আওতায় আনা হলো। এখন যদি মুক্তিযোদ্ধাদের কোটার প্রয়োজন না পড়ে কিংবা মুক্তিযোদ্ধারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সুযোগ প্রয়োজন নেই। তবে যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তাদের প্রয়োজন আছে। তবে কোটার বিন্যাস বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হওয়া উচিত।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা দেওয়া হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান দেখাতে। এখানে চাকরি দেওয়াটা বড় বিষয় না। যদি আমাদের শিক্ষার্থীরা এটি বুঝতে না পারে, তাহলে তাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। যে মানুষটি জানতো মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে তিনি আর ফেরত নাও আসতে পারেন, তারপরও একটি রাষ্ট্র তৈরিতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তার পরবর্তী প্রজন্মকে সচ্ছল রাখা এই সম্মানটি দিতে হবে। তা না হলে আত্মত্যাগের জন্য ভবিষ্যতে কেউ থাকবে না। প্রতিবন্ধী ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষকে এগিয়ে নিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কোটা রাখা হয়। ধরেন একজন প্রতিবন্ধী, তাকে যারা দেখাশোনা করেন, তারা কেউ বেঁচে নেই। তাহলে এই মানুষটিকে দেখবে কে? রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার ভরণপোষণ দেওয়া। তার জন্য এটি করবো না। অথচ সমাজের সচ্ছল মানুষ রাজউকের কাছে থেকে টাকার জোরে জমি কিনে নিলো, এই জমি তো দেশের সব জনগণের। তিনি তো প্রতিবন্ধীর কোটার চেয়েও বেশি সুবিধা নিলেন, তার বিরুদ্ধে তো আন্দোলন হয় না।’

‘সরকার কোটা রহিত করেছে, আদালত কোটা পুনর্বহাল করতে বলেছে, সরকার কোটা আন্দোলনকারীরা যা যাচ্ছে তার পক্ষেই আপিল করেছে, তাহলে তো আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন উদ্দেশ্যে প্রণোদিত’, উল্লেখ করেন অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান।

কোটাবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার নেই। আদলতের রায় হাতে পাইনি। আদালতের রায় এবং সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে বিধি যা চূড়ান্ত হবে আমরা তাই বাস্তবায়ন করবো।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here