সিকিমের বরফ, পাহাড় আর ঝর্ণার অপরূপ দৃশ্য যে কারো মন কাড়বে এক নিমিষেই

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, সিকিম ঘুরে এসে ॥ অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মন মজে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুর্লভ। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য সিকিম, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মনোরম ক্যানভাস। এখানকার বরফ, পাহাড় আর ঝর্ণার অপরূপ দৃশ্য যে কারো মন কাড়বে এক নিমিষেই। কিন্তু সৌন্দর্য-সুষমা মন্ডিত এ রাজ্যটি এতোদিন বাংলাদেশীদের জন্য ছিল নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় সিকিমের অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অবগাহন করতে বাংলাদেশীরা ছুটছে দলে দলে। পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ এই চারটি জেলা নিয়ে সিকিম রাজ্য। চীন, নেপাল ভূটান ঘেঁষা ভারতের এই ছোট রাজ্যে বরফ, পাহাড় আর ঝর্ণা ধারার অপরূপ সৌন্দর্যের দেখা মিলবে সেখানে। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ১৭ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত সিকিম শীতকালে হয়ে ওঠে বরফাবৃত ইউরোপের সুইজারল্যান্ড। গ্যাংটক, ছাংগু লেক, নতুন বাবা মন্দির, লাচুং, চুংথাং, জিরো পয়েন্ট, ইয়ুমথাং ভ্যালীর সৌন্দর্যে অভিভূত দেশি, বিদেশি পর্যটকরা। উঁচু পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে উঁকি মারে ঝর্ণা ধারা। নান্দনিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের নানা স্থাপনাও। সিকিমের দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ের গাঁ বেয়ে হাজার হাজার ফুট ওপরে ওঠার জন্য পিচ ঢালা রাস্তা ও আছড়ে পড়া ঝর্ণাসহ পাথর বিছানো স্বচ্ছ পানির নদীর টানে ছুটে যাচ্ছে বহু বাংলাদেশী। সরকার উদ্যোগ নিলে সিকিমের মতই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বাংলাদেশও হতে পারে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। দিন দিন বাড়ছে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা পর্যটকের সংখ্যা। সাম্প্রতিক এক তথ্যমতে বিদেশ থেকে ভারতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যে বাংলাদেশীরা সংখ্যা গুরু। কলকাতার উপ দূতাবাসের তথ্যমতে, ৮০ ভাগ বাংলাদেশীই পর্যটন ভিসায় ভারত ভ্রমণ করে থাকেন।


এবার আমাদের গন্তব্য ছিল বরফের রাজ্য সিকিম। সেখানে যেতে হলে শিলিগুড়ির সিকিম হাউস অথবা সিকিমের সীমান্ত রাংপো থেকে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয়। সে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে আমি ও আমার বন্ধু শেখ রাসেল এবং চট্টগ্রামের জামালখান থেকে এক দম্পতি মোট চারজনের দলটা সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে গিয়ে ঢাকার চার সদস্যের একটি পরিবার নিয়ে মোট আটজনে রূপ নিল (খরচ বিবেচনায় সিকিম ঘোরার জন্য আটজনের দল হচ্ছে ‘উৎকৃষ্ট’)। আমরা শিলিগুড়ি থেকে এক্স্রপ্লোর ইন্ডিয়া নামের একটি ট্রুরিজম কোম্পানি থেকে প্যাকেজ গ্রহন করে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক, উত্তর সিকিমের লাচুং, জিরো পয়েন্ট (উচ্চতা ১৫ হাজার ৫০৩ ফুট), ইয়ুমথাং উপত্যকা (উচ্চতা ১১ হাজার ৮০০ ফুট), দক্ষিণ সিকিমের ছাংগু লেক (উচ্চতা ১২ হাজার ৩১৩ ফুট) সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করি। পর্যটকদের জন্য এসব দর্শনীয় স্থান ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে বরফের কারনে অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। এসব স্থানে যাওয়ার সড়কে ১ থেকে আড়াই ফুট পর্যন্ত বরফ জমে যোগাযোগে বিঘœ ঘটায়।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *