ঘরে বসেই হোক ঈদের গান!

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট :: ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে অসাম্প্রদায়িক একটি উৎসব। ঈদুল ফিতর আর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর সৃষ্টি “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” এই গান অভিন্ন একটি মালা। বলা চলে এই গান ছাড়া ঈদ আনন্দ অসম্পূর্ন থেকে যায়। তাইতো ঈদুল ফিতর সামনে রেখে জনপ্রিয় এই গানটিকে নতুন এবং ভিন্ন মাত্রায় দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে তরুণ মিউজিক কম্পোজার সমীরণ দেওয়ান।


করোনা মহামারীতে বিশ্ব যেখানে ঘর বন্দী সেখানে ২১ জন কন্ঠ শিল্পী নিয়ে করা হয়েছে এই সংগীত আয়োজন। নিজ নিজ ঘরে বসেই গান গেয়েছেন শিল্পীরা। এই গানে কন্ঠ দিয়েছেন নজরুল সংগীত শিল্পী মাহমুদুল হাসান, শান্ত্রীয় সংগীত শিল্পী তাপস দত্ত, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী নাঈমা নাজ ও আশিকুর রহমান, এটিএন তারকা ও শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী রেজওয়ানুল হক, এটিএন তারকা মৃদুলা সমদ্দার, চ্যানেল আই সেরা কন্ঠ (২০১৭) ঐশী এবং শ্রাবন্তী ধর ও বিটু শীল। এছাড়াও অন্তর, পিন্টু, মীম, বৈশাখী, শিখা, অন্তরা, আকাশ, পিংকি, অংশুক, সুদীপ্ত ও মিলন গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন। এই গানটিতে একাতœতা প্রকাশ করেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক ড. কামালউদ্দিন কবির। গানটিতে বিশেষ ভূমিকায় অংশ নিয়েছেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও অভিনেতা হাসান মাহাদী লাল্টু।
গানটির কম্পোজার সমীরণ দেওয়ান বলেন, আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে গান। সকল ধর্মীও আচার-অনুষ্ঠানের সাথে মিশে আছে গান। আর সেই ভাবনা থেকেই এই গানটির আয়োজন করা। বর্তমান পরিস্থিতে দাঁড়িয়ে এতজন শিল্পীকে নিয়ে কাজটি করা আমার পক্ষে মোটেই সহজ ছিলো না। সবার কাছে মাইক্রোফোন না থাকায় কেউ কেউ মোবাইলে রেকর্ড করে পাঠিয়েছিলেন আমাকে গানটা। তাই কাজটি সম্পন্ন করা আমার জন্য বেশ কঠিন ছিলো। গানটার মিউজিক আমি কিছুটা কাওয়ালি ধাঁচে করার চেষ্টা করেছি। আসলে করোনার এই মহামারির মধ্যে শহর বা গ্রামে যে যেখানে আছি ঘরে বসেই ঈদের আনন্দ কিছুটা ভাগাভাগি করে নিতে এই উদ্যোগ। সকল শিল্পীদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি কাজটিতে অংশগ্রহন করার জন্য, বিশেষ করে আমার শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ও কামালউদ্দীন কবির স্যার এবং শিক্ষক সমতুল্য যারা অংশগ্রহন করেছেন সবার প্রতি। আশা করি শ্রোতাদের গানটি ভাল লাগবে।


গানটি সম্পর্কে মাহমুদুল হাসান বলেন, মহামারির এই কালে মনে হচ্ছিলো সবকিছু যেন স্থিমিত হয়ে গেল। এরই মাঝে একদিন ফোন এলো সমীরণের। ঈদের গান করবে। বেশকিছুদিন ধরেই সংগীত কম্পোজিশনের কাজ করছে। সংগীতের প্রতি ওর নিষ্ঠা দেখে মনে হয়েছে ভালো কিছুই হবে। শ্রোতাদের ভালো লাগলেই ওর পরিশ্রম সার্থক হবে।
ঐশী বলেন, ঘরে বসে সবার সাথে এই গানে শামিল হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সমীরণ দাদাকে ধন্যবাদ যে এমন একটা সময়ে এতজনকে নিয়ে এই গানটি গাইবার আয়োজন করেছেন। সমীরণ দাদার সাথে এটা আমার দ্বিতীয় কাজ। এর আগে দাদার কথা এবং সুরে একটি গান রেকর্ড করেছি। সেটা শীঘ্রই রিলিজ হবে আশা করছি।


এছাড়া গানটি সম্পর্কে তাপস দত্ত বলেন, কোভিড ১৯ বৈশ্বিক মহামারীর কারণে পৃথিবীর অন্যান্য সকল দেশের ও সকল জাতির বিভিন্ন কর্মকান্ড এবং বিভিন্ন উৎসবের মতোই আমাদের বাঙ্গালীদের বাংলা নববর্ষ উৎসব এবং ঈদ উৎসব ব্যাহত। এরই মধ্যে একদিন সমীরণ এই গানটি গাইতে বললো। ওর এরকম একটা সুন্দর উদ্যোগের কথা শুনে খুশী হলাম। গানটির সংগীতায়োজনও খুব ভালো লাগলো। আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে।


এই গানটি ছাড়াও সমীরণ দেওয়ান বেশ কিছু মৌলিক গান শ্রোতাদের শীঘ্রই উপহার দেবেন বলে জানা গেছে। ঈদের এই গানটি ঈদের আগের দিন রিলিজ করা হবে।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *