ইবির ভিসি বানানোর টেন্ডার : টাকার বস্তা নিয়ে আরেফিন এবারো মাঠে

জাহাঙ্গীর আলম খাঁন স্টাফ রিপোর্টারঃ

ভিসি বানানোর টেন্ডার নিয়ে এবারও আরেফিন টাকার বস্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। প্রতিবার ভিসি নিয়োগের সময় হলে তদবিরে মাঠে নামেন বহু কুককর্মের হোতা মাহাবুবুল আরেফিন। টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারীর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ন আচারণের কথোপকথনের অডিও ক্লিপ প্রকাশ হয়ে গেলে তোলপাড় শুরু হয় শিক্ষক সহ সর্বমহলে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আব্দুল হাকিম সরকার দুর্নীতির দায়ে পদত্যাগ করলে নতুন ভিসি হওয়ার প্রতিযোগিতায় মাঠে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এই প্রতিযোগিতায় টিকে যান প্রফেসর হারুণ অর রশিদ আসকারী। মাহাবুবুল আরেফিন প্রফেসর আসকারীর হয়ে মাঠে নামেন। প্রথমে আইন বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর সেলিম তোহা ভিসি এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হারুণ অর রশিদ আসকারীর নাম ট্রেজারার হিসেবে আলোচনায় আসলেও শেষ পর্যন্ত ভিসি হন প্রফেসর আসকারী। প্রফেসর মাহাবুবুল আরেফিন ড. আসকারীর প্রধান সিপাহশালা হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও পরবর্তীতে ভিসির চেয়ারে বসার পর থেকে প্রফেসর আসকারীর প্রধান শত্র“তে পরিণত হন। প্রফেসর আসকারী শক্ত হাতে সবকিছু নিয়ন্ত্রন শুরু করেন। সুযোগ চেয়ে না পাওয়ায় মাহাবুবুল আরেফিনের চক্ষুশূল হন ভিসি প্রফেসর আসকারী। সম্প্রতি সময়ে প্রফেসর আসকারী বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করেন মাহাবুবুল আরেফিন। ২০ আগষ্ঠ ভিসি হিসেবে প্রফেসর আসকারীর মেয়াদ শেষ হয়। গত মাসের শুরু থেকে ভিসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দিতে শুরু করেন মাহাবুবুল আরেফিন। প্রফেসর হারুণ অর রশিদ আসকারী ভিসি হওয়ার আগে মাহাবুবুল আরেফিন প্রফেসর আসকারীর পক্ষে মাঠে নামায় শুরু হয় প্রোভিসি প্রফেসর শাহিনুর রহমানের সাথে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব। প্রফেসর শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় তিনি মাহাবুল আরেফিন সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেন। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি বিপক্ষে অবস্থান নেয়া শিক্ষকরা জানান, আরেফিন টাকার বস্তা নিয়ে ঢাকায় গিয়ে তদবির করে ভিসি হিসেবে হারুণ অর রশিদ আসকারীকে চেয়ারে বসান। এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আসকারী বিরোধী শিক্ষকদের চাঁদায় গড়ে উঠেছে ফান্ড। আর সেই ফান্ডের টাকা উড়ছে কুষ্টিয়ার সংবাদকর্মীদের মাঝে। একাধিক সংবাদকর্মী জানিয়েছেন ভিসির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে নগদ নারায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে তাদের। মাহাবুবুল আরেফিন তাদের টাকার প্রস্তাব করেছেন বলে তারা জানিয়েছেন। এদিকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মাহাবুবুল আরেফিন ঢাকায় গিয়েছেন বিভিন্ন চেয়ার ম্যানেজ করতে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে ভিসি হওয়ার তালিকায় নাম তুলতে না পারলেও তিনি ট্রেজারার হওয়ার তালিকায় নিজের নাম তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাহাবুবুল আরেফিন কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পরিচয় গোপন করে তার আপন ভাইকে অবৈধ ভাবে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করায় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য চিঠি দেয়া হয়। যে ব্যক্তি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পান তার কাছের মানুষ হয়ে যান মাহাবুবুল আরেফিন। ভিসিদের প্রভাবিত করে তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে এর আগে বসেছেন। কিন্তু ভিসি প্রফেসর হারুণ অর রশিদ আসকারীর কাছে সুবিধা করতে না পেরে তিনি শুরু করে তার বিরোধিতা। এব্যাপারে মাহাবুবুল এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি এই সবের মধ্যে নাই। ভিসি কে হবে আর না হবে এই নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *