নড়াইলে মাদকের নামে আটক বাণিজ্যের অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

0
156

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: নড়াইলের লোহাগড়ায় মাদক অভিযানের নামে আটক করে টাকা আদায়ের অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।  শনিবার (২৬ মে) রাতে তাদের লোহাগড়া থানা থেকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে।ক্লোজড হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, লোহাগড়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ইসমাইল হোসেন ও এএসআই সুজন ফকির।

লোহাগড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জয়পুর গ্রামের আবু সাইদ বাবুলের ছেলে আবু নাইম আকাশকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়। তার কাছে বিক্রির জন্য রাখা ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানায়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লোহাগড়া বাজারের পশ্চিম পাশে জয়পুর মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আবু নাইমের মা রেকসোনা পারভীন অভিযোগ করে বলেন, ‘নাইমের ও তার এক বন্ধু গল্প করছিল। এ সময় পুলিশ তাদের দু’জনকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাত ১০টার দিকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নাইমের বন্ধুকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নাইমকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে চার হাজার টাকা নেয়। কিন্তু নাইমকে না ছেড়ে আমার কাছে আরও টাকা দাবি করে। এ অবস্থায় আমি ফোনে এএসআই সুজন ফকিরের সঙ্গে বললে তিনি আমাকে বলেন চার হাজার টাকা দেওয়ায় ১০ পিস ইয়াবার মামলা হয়েছে, টাকা না দিলে তো ৫২ পিস ইয়াবার মামলা হতো। পরে এ বিষয়টি আমি নড়াই পুলিশ সুপারকে জানাই।  তার নির্দেশে ওই দুই পুলিশ অফিসার টাকা ফেরত দিতে আমার বাড়িতে আসেন কিন্তু আমাকে না পেয়ে তারা ফিরে যান।

রেকসোনা পারভীন আরও বলেন, আমার ছেলে নাইম মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না। সে ঢাকায় পড়াশোনা করে। কয়েকদিন আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেছে। আমরা গরীব মানুষ। আমার একমাত্র সন্তান নাইমের জীবন পুলিশ শেষ করে দিল।

নাইমের প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন জানান, তারা কখনো নাইম নামে এ ধরণের কোনও কথা শুনেননি। সে মাদকের সঙ্গে জড়িত না। ওইদিন একই সঙ্গে নাইমসহ দুইজনকে ধরে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম বলেন, ‘চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুই সহকারি উপ-পরিদর্শককে লোহাগড়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই সুজন ফকির ও এএসআই মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমাদের নাম ভাঙিয়ে তৃতীয় পক্ষ এই চার হাজার টাকা নিয়েছে। আমরা কোনও টাকা নেইনি।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY