রাণীনগরের প্রবাসীর মেয়েকে যৌতুকের দায়ে নির্যাতন করে হত্যা

0
156

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: নওগাঁর রাণীনগরের এক প্রবাসীর মেয়েকে তার স্বামী শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘটনাটি থানা পুলিশের সহায়তায় ভিন্ন দিকে প্রবাহের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিকট্রিমের মা সালমা বিবি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুবিচার চেয়ে চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল, ঢাকা এর বরাবরে একটি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার মধুপুর গ্রামের প্রবাসী সাইফুল ইসলামের মেয়ে মোছা: শাকিলা (২৪) কে আনুমানিক ৮ খেকে ৯ বৎসর পূর্বে বগুড়া জেলার আদমদীঘির বাহাদুরপুর গ্রামের মো: আলেফের ছেলে মো: মিঠু (২৮) এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন ঘর সংসার চলাকালীন সময় তাদের সংসারে ওমর ফারুক নামে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। তারপর যৌতুক লোভী মিঠু স্ত্রী শাকিলাকে তার বাবার নিকট থেকে যৌতুকের টাকা নিয়ে আসার জন্য তাগাদা দিতে থাকে। শাকিলার মা অন্যান্য লোকজন নিয়ে তার মেয়ের বাড়িতে যায় এবং মিঠুর যৌতুক চাওয়া বিষয়ে আলোচনা করলে মিঠুর পরিবারের সদস্যরা ও অন্যান্য আত্মীয়রা যৌতুকের টাকা না দিলে তার মেয়ের সংসার হবে না বলে জানিয়ে দেয়।

অবশেষে নিরুপায় হয়ে শাকিলার মা তাদের চাপে পড়ে মেয়ের সুখের জন্য ১ম দফায় ১লক্ষ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এতেও থেমে থাকে না যৌতুক লোভী মিঠু। পুনরায় আবারও মিঠু দেশের বাইরে যাবার জন্য খরচ বাবদ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। শাকিলার বাবা মেয়ের সুখের জন্য বহু কষ্টে নিজের জমি-জমা বিক্রয় করে মিঠুকে বিদেশ যাবার জন্য ২য় দফায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেয়। মিঠু ওই টাকায় রোমানে যায় কিন্তু এক বৎসর থেকেই আবার দেশে ফিরে আসে। এরপর মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচার শুরু হয় শাকিলার উপর। যৌতুক লোভী মিঠু পুনরায় ৩য় দফায় ২ লক্ষ টাকা দাবি করে শাকিলার কাছে। শাকিলা উক্ত টাকা এনে দিতে ব্যর্থ হলে শাকিলার সংসারে নেমে আসে অন্ধকার। কারণে-অকারণে মিঠু, তার পরিবারের সদস্যরা ও আত্মীয়-স্বজনরা শাকিলাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা অব্যাহত রাখে। এর এক পর্যায়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মিঠু ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুক আদায়ে ব্যর্থ হয়ে শাকিলার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। তাদের নির্যাতনে ওই দিনই মিঠু ও তার পরিবারের লোকজন শাকিলার গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মামলা থেকে বাঁচার জন্য সুকৌশলে আত্মহত্যা নাটক সাজিয়ে শাকিলার মাকে সংবাদ দেয় যে তার মেয়ে গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে মারা গেছে। এ সংবাদ পেয়ে শাকিলার মা অন্যান্য লোকজন সঙ্গে নিয়ে মিঠু বাড়িতে গিয়ে দেখে তারা বাড়িতে কেউ নাই, শুধু তার মেয়ে শাকিলার মরদেহ মাটিতে লুটে পড়ে আছে। শাকিলার মা সালমা ও তার লোকজন শাকিলার শরীরের পড়নের কাপড় খুলে দেখে শাকিলার শরীরে, দুই পাজরে ও গলায় কালো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

প্রতিবেশীদের মুখে শুনে জানতে পারে শাকিলাকে তার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন মারপিট ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। শাকিলার মা সালমা নিশ্চিত হয় যে মিঠু ও তার লোকজন শাকিলাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় শাকিলার বাবা দেশের বাহিরে থাকায় তার মা সালমা আদমদীঘি থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ শাকিলার মাকে পাত্তা না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এর ফাঁকে মৃত শাকিলার স্বামীর মামা শামসুল হক বাবু থানায় একটি ইউডি মামলার আবেদন করে। থানা পুলিশ শাকিলার পরিবারের কোন কথার কর্ণাপাত না করে অজানা কারণে ওই আবেদনই একটি ইউডি মামলা হিসাবে গ্রহণ করে দায়িত্ব সম্পন্ন করে এবং পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্টের সময় মিঠুর পরিবারের সদস্যদের দ্বারা সুরতহাল রিপোটে তৈরী করে।

পরে শাকিলার মা থানায় বার বার ধর্ণা দিয়েও থানা পুলিশের কোন সাহায্য পায়নি। অবশেষে শাকিলার মা শাকিলার মৃত দেহ তার নিজ বাড়িতে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করে। থানা পুলিশ শাকিলার মাকে বলে তোমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য থানায় ১/১৮ তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ নম্বর একটি ইউডি মামলা হয়েছে। শাকিলার মা অবশেষে সুবিচারের জন্য বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে পাষান্ড যৌতুক লোভী মিঠুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদমদীঘি থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) ফজলুল হক বলেন, লাশের ময়না তদন্ত করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সায়িদ মো: ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, লাশের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY