যেভাবে অপরাধী খুঁজবে সিসিটিভি ক্যামেরা

0
119

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: অপরাধ করে পালিয়ে বাঁচার কোনও উপায় নেই। পুলিশের সিসিটিভি ক্যামেরা খুঁজে বের করবে অপরাধীদের। ‘ডেভেলপমেন্ট অব ঢাকা সিটি ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ নামের একটি মেগা প্রকল্পের আওতায় অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। ক্যামেরার সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীকে শনাক্ত করে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টার ও কাছাকাছি থানার মনিটরে ছবি পাঠিয়ে অ্যালার্ম দিতে থাকবে। তখনই সেই অপরাধীকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড নজরদারি করতে ক্লোজ সার্কিট টিভি ক্যামেরা (সিসিটিভি) এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দুই কোটিরও বেশি নাগরিকের এই ঢাকা শহরে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে প্রতিদিন। পর্যায়ক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো ও টহল অব্যাহত রাখা হলেও প্রতিটি রাস্তায় ও অলিগলিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করা সম্ভব নয়। তাছাড়া, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যার অনেক ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে। সিসিটিভি ক্যামেরার গুরুত্ব অনুধাবন করে ব্যক্তিগত পর্যায়েও এখন এর ব্যবহার বাড়ছে।
পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) গাজী মোজাম্মেল হক  বলেন, ‘ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে- ছিনতাই, রাহাজানিসহ প্রকাশ্য অপরাধগুলো। এতে রাজধানীর মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে। তাছাড়া, এত বেশি জনসংখ্যার একটি শহরে এসব অপরাধ শনাক্ত করতে পুলিশের জন্যেও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের চিহ্নিতই করা যায় না। এ ধরনের প্রকাশ্য অপরাধগুলো মোকাবিলার সারাপৃথিবীতে এখন সিসিটিভি ও এ সংক্রান্ত টেকনোলজি ব্যবহার করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর আধুনিক শহরগুলোতে এখন সিসিটিভি সিস্টেমের মাধ্যমেই সার্ভিলেন্স করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর, চীন, টোকিও, লন্ডনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে মনিটরিং করা হয়। মনিটরিং সেন্টার বসিয়ে যদি তদারকি করা হয়, তাহলে খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ যেতে পারে।’
গাজী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ডেভেলপমেন্ট অব ঢাকা সিটি ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ প্রজেক্টের আওতায় রাজধানীতে চার ধরনের ১৬ হাজার ক্যামেরা বসানো হবে। এরমধ্যে এক ধরনের ক্যামেরা থাকবে, যা চেহারা শনাক্তকরণের কাজ করবে। ক্রাইম ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিডিএমএস) ডেটাবেইসের সঙ্গে থাকবে এসব ক্যামেরার সংযোগ। পালিয়ে থাকা কোনও অপরাধী ওই ক্যামেরার সামনে আসা মাত্রই তার চেহারা শনাক্ত করে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারে অ্যালার্ম দিতে থাকবে। এতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’
পুলিশের সদর দফতরের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আমরা চার ধরনের সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর চিন্তা করেছি। এরমধ্যে কোনোটি বুলেট ক্যামেরা, কোনোটি লং ভিশন ক্যামেরা থাকবে। আবার কোনোটি থাকবে ড্রোন ক্যামেরা। এই ক্যামেরা একই সঙ্গে ৩৬০ ডিগ্রি কাভার করতে পারবে। কোনোটি হবে চেক পয়েন্টের ক্যামেরা। কোনও ঘটনা যখন ঘটবে, সেটি সঙ্গে সঙ্গে আমরা মনিটরে দেখতে পারবো।কন্ট্রোলরুমসহ আমাদের সবগুলো মনিটরিং সেন্টারে থাকা লোকজন দেখতে পাবেন।
তিনি জানান, আমরা যদি ঠিক করি যে, এই জায়গায় কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি ঢুকবে না। তাহলে ওই জায়গাটিকে যদি ক্যামেরার পর্দায় মার্কিং করে রাখি, সেই নির্দিষ্ট স্থানে কোনও ব্যক্তি ঢোকা মাত্রই অ্যালার্ম বাজতে থাকবে। সে ধরনের সিস্টেম করে রাখা হবে। আবার ধরা যাক, কয়েক ব্যক্তি মিলে একটি বস্তু কোনও একটি জায়গায় যদি ফেলে যায়, অথবা কেউ কোনও একটি স্থানে কিংবা বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে, একটির পর একটি বাস আসছে-যাচ্ছে, অথচ সে সেখানে বসেই আছে। তখন আমরা তার গতিবিধিটা পর্যবেক্ষণ করতে পারবো। ক্যামেরাই সিগন্যাল দেবে যে, এই লোকটি আধাঘণ্টা ধরে এখানে বসে আছে। এক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করার জন্য, কিংবা গতিবিধি সন্দেহজনক হলে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ক্যামেরাই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে আমাদের ইনস্ট্রাকশন দেবে, যে এখানে এই ব্যক্তিটি সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করছে।
গাজী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা এখন প্রায়ই বোমাতঙ্কে ভুগি। কিন্তু কোনও জায়গায় পরিত্যক্ত অবস্থায় কিছু পড়ে থাকলে ক্যামেরাই আমাদের অ্যালার্ম দেবে যে, এখানে একটি বস্তু পড়ে আছে। আবার ধরা যাক,একটি গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে গেল, বা একটি গাড়ি থেকে অপরাধ সংঘটিত হলো। বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ খুঁজতে গিয়ে আমরা দীর্ঘ সময় ব্যয় করি। কারণ,ক্যামেরার মধ্যে সারাদিনে অনেক গাড়ি থাকে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে এই সমস্যা থাকবে না। ক্যামেরা তখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ওই নির্দিষ্ট গাড়িটি শনাক্ত করে দেবে। এতে মনিটরিং ও সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও অ্যানালাইসিস করে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা খুবই সহজ হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে একটি ঘটনা ঘটলো। সেই ঘটনাটিকে যখন মোকাবিলা করতে গেলাম, তখন হাজার হাজার ফুটেজ দেখতে হয়েছে। তিন মাস সময় লেগেছে শুধু সেই ফুটেজ বের করতে। কিন্তু প্রস্তাবিত এসব ক্যামেরা বসানো হলে তিন মাসও লাগবে না। পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেই ফুটেজ বের করে দিতে পারবো। এমনকি সংশ্লিষ্টরা যদি আগেও কোনও অপরাধ করে থাকে, সেটাও একই সঙ্গে বের করে নেওয়া সম্ভব হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘ডেভেলপমেন্ট অব ঢাকা সিটি ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ প্রকল্পটি চালুর জন্যে ২০১৫ সালে পরিকল্পনা গ্রহণ করে পুলিশ প্রশাসন। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য এরপর আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হয়। দরপত্রে ১৭টি দেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও চীনের হুয়াজিন নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। প্রায় এক বছর জরিপ চালানোর পর তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY