রেশম কারখানায় কাপড় উৎপাদন শুরু

0
61

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: দীর্ঘ ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরল রাজশাহী রেশম কারখানা। সোমবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে কারখানার একটি লুমে পরীক্ষামূলকভাবে রেশম কাপড় উৎপাদন শুরু হয়। রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা কাপড় উৎপাদন কাজের উদ্বোধন করেন।

এ সময় তার সঙ্গে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মূলধন না থাকার অজুহাতে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন বিএনপি সরকার কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে দিয়েছিল। সেই থেকে কারখানাটি বন্ধ ছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা কারখানাটি চালুর উদ্যোগ নেন।

সম্প্রতি তিনি রেশম কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে বন্ধ লুমগুলো চালুর উপযোগী করে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এরপর শুরু হয় পুরনো লুমগুলোর মেরামতের কাজ। একটি লুম চালানোর উপযোগী হলে সংসদ সদস্য বাদশা গিয়ে সেটি পরীক্ষা করে দেখেন।

রাজশাহী রেশম কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারখানায় এখন মোট ৬৩টি লুম আছে। আগামী দেড় মাসের ভেতর কারখানার অন্তত পাঁচটি লুম চালু করা হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে রেশম কারখানার সবগুলো লুমই চালু করা হবে। এর ফলে রাজশাহীতে রেশমের হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে।

৬৩টি লুমের মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করার আগে উৎপাদন চলতো পুরনো ৩৫টি লুমে। নতুন ২৮টি লুম চালুর আগেই কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বন্ধের আগে কারখানাটি বছরে এক লাখ ৬ হাজার মিটার রেশম কাপড় উৎপাদন করতো। এখন ৬৩টি লুম চালু হলে বছরে কাপড় উৎপাদন হবে দুই লাখ ৮৭ হাজার মিটার।

রাজশাহী রেশম কারখানার পরিচালক আনিসুল হক ভুঁইয়া জানান, বন্ধ করার আগে কারখানাটিতে ৩শ’ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি কাজ করতেন। বন্ধের পর সব শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে যারা এখনও কাজ করতে পারেন, তাদের কারখানায় কাজের সুযোগ দেয়া হবে। লুমগুলো চালুর সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে এসব কর্মীদের ডাকা হবে।

রাজশাহী নগরের শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ১৯৬১ সালে সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর স্থাপিত হয় রাজশাহী রেশম কারখানা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকার নতুন যন্ত্রপাতি কিনে কারখানাটির আধুনিকায়ন করে। লোকসান থাকলেও কোম্পানিটি তখন ভালোই চলছিল।

কিন্তু মূলধন না থাকার অজুহাতে বিএনপি সরকার ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। ওই সময় কারখানাটির কাঁধে ছিল ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার ঋণের বোঝা। ওই সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ৩শ’ স্থায়ী শ্রমিক। বন্ধের পর স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে চার শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন।

পাশাপাশি বিপাকে পড়েন আরো প্রায় ৫০ হাজার রেশমচাষি। সে সময় আন্দোলন করেও কারখানাটি চালু করতে পারেনি রাজশাহীবাসী। বিক্রির জায়গা না পেয়ে এ অঞ্চলের রেশম চাষিদের অনেকেই চাষ কমিয়ে দিতে বাধ্য হন। দীর্ঘদিন পর আবার সেই কারখানায় রেশম কাপড়ের উৎপাদন শুরু হলো।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY