আ.লীগের তৃণমূলকে ডিজিটাল করতে ল্যাপটপ

0
83

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: তৃণমূল পর্যন্ত ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেলা পর্যায়ে ল্যাপটপ সরবরাহ করা হলেও তা কাজে আসেনি। চার মাস আগে ল্যাপটপ দেওয়া হলেও বেশিরভাগ জেলায় তা চালু করা হয়নি। অনেক জেলায় ল্যাপটপ অফিসে না নিয়ে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকদের বাসায় রেখে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি জেলায় চালু হলেও সেগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়নি। পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি জেলার নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সংগঠনের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে জেলা আওয়ামী লীগকে চার মাস আগে ল্যাপটপ সরবরাহ করা হয়েছে। গত ২০ মে অনুষ্ঠিত দলের বর্ধিত সভায় প্রত্যেক জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সৌজন্যে এই ল্যাপটপগুলো দেওয়া হয়। বিতরণকালে শেখ হাসিনা এগুলো নিয়মিত ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এগুলো ঘরে ফেলে রাখার জন্য নয়, দলের সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে।’ ওই সময় দলের সবাইকে ল্যাপটপ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নেওয়ারও নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার ডিজিটাল হলেও সরকারি দল আওয়ামী লীগ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। এককভাবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ মোটামুটি ডিজিটাল হলেও পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রম ‘এনালগ’ পদ্ধতিতেই চলছে। অধিকাংশ জেলা-উপজেলায় দলীয় কার্যলয়ে কোনও ই-মেইল আইডি নেই। ফলে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হয় অথবা কুরিয়ার সার্ভিসই তাদের ভরসা। এসব বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ করতেই জেলা অফিসগুলোকে ল্যাপটপ দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ জেলাগুলোতে ল্যাপটপ ব্যবহার করা হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে জেলা নেতারা তাদের নিজস্ব অফিস না থাকা আর অফিস থাকলেও নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছে। কয়েকটি জেলায় ল্যাপটপ মাঝেমধ্যে চালু করা হলেও তাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই। হাতে গোনা কয়েকটি জেলায় সাংগঠনিক কাজে ল্যাপটপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ল্যাপটপ এখনও ব্যবহার করেনি নাটোর জেলা আওয়ামী। জেলা অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী না থাকায় তারা অফিসে রেখে ল্যাপটপটি ব্যবহার করতে পারছে না। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা সভানেত্রীর কাছ থেকে ল্যাপটপ গ্রহণ করেছি। কিন্তু অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় চুরির আশঙ্কায় ল্যাপটপটি এখনও চালু করা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জেলা অফিস ভবনে একটি পত্রিকা অফিস আছে। তারা ব্যবহারের জন্য ল্যাপটপটি চেয়েছে। আমরা সেটা দিতে রাজি হয়নি। আগামী ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস কিংবা ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে ল্যাপটপটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার শুরু করা হবে।’

ল্যাপটপ ব্যবহার না করার কথা জানান বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান টুকু। তিনি বলেন, ‘জেলা সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন ল্যাপটপটি গ্রহণ করেছেন। এখনও ওনার হেফাজতে রয়েছে। সেই অর্থে আমাদের কোনও জেলা অফিস নেই। তাই এটা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।’

জয়পুরহাট জেলার ল্যাপটপটি রয়েছে জেলার দফতর সম্পাদকের বাসায়। অফিসে নিরাপদ মনে না করায় তার বাসায় রাখা হয়েছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী বলেন, ‘ল্যাপটপটি পাওয়ার পর এটা আমরা দফতর সম্পাদকের হেফাজতে দিয়েছি। অফিসে তো নিরাপত্তা নেই। এজন্য এটা উনি নিজের কাছেই রখেন। দরকার হলে অফিসের কাজ করেন।’

ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামূল আলম বলেন, ‘ল্যাপটপ পাওয়ার পরই আমরা সেটা চালু করি এবং সার্বক্ষণিক ব্যবহার করছি। তবে এখনও ল্যাপটপে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে পারিনি।’

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা জানান, তারা আগে থেকেই অফিসে কম্পিউটার-ল্যাপটপ ব্যবহার করেন। সেখানে ইন্টারনেট সংযোগসহ সব সুবিধা রয়েছে। দলীয় সভানেত্রী ল্যাপটপ উপহার দেওয়ায় তারা আরও সমৃদ্ধ হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ল্যাপটপটিও এখন তারা ব্যবহার করছেন।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেওয়া ল্যাপটপটি সব সময় ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজনু।

ল্যাপটপ ব্যবহার না করার তথ্য জানান ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেনজির আহমেদ।  তিনি বলেন, ‘আমরা তো আগে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করতাম। এখন সেটা ভেঙ্গে ফেলার কারণে আমাদের কোনও অফিস নেই। এজন্য আপাতত ল্যাপটপটি জেলার সাধারণ সম্পাদকের বাসায় রাখা আছে। আগামী মাসে জেলা কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ডেকে ল্যাপটপটি কোথায় রেখে কিভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের তথ্যমতে ল্যাপটপ পাওয়ার পরে অনেক জেলা অফিস নিজেরাই তার ব্যবহার ‍শুরু করেছে। আর যদি কেউ ব্যবহার না করে থাকে নিশ্চয়ই তারা শুরু করবে। কারণ, ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রযুক্তির বাইরে থাকার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় কমবেশি সবাই কম্পিউটার ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত। এরপরও দরকার হলে আমরা বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো।’

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY