রূপসায় কয়লা তৈরির অবৈধ চুল্লি, হুমকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

0
201

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: খুলনার রূপসা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুল্লিতে দেদারসে কাঠ পুড়িয়ে বানানো হচ্ছে কয়লা। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছ কেটে এখানে কাঠ সরবরাহ করা হয়। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। হুমকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। কারণ চুল্লির ধোয়ায় শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বৃক্ষ শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে, জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শিরগাতি এলজিইডি রাস্তার কাছে বাগানের ভেতর নির্মাণ করা হয়েছে চুল্লি ঘর। চুল্লির মধ্যে সারিবদ্ধভাবে কাঠ সাজিয়ে একটি মুখ খোলা রেখে অন্য মুখগুলো মাটি এবং ইট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। খোলা মুখ দিয়ে আগুন দেওয়া হয় চুল্লিতে। আগুন দেওয়া শেষ হলে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিটি চুল্লিতে প্রতিবার ২৫০/৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। কাঠ পুড়ে কয়লা হতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ দিন। পরে কয়লা ঠাণ্ডা করে চটের বস্তায় ভরে ট্রলার, কার্গো বা  ট্রাকে করে চালান করা হয়। খুলনা সিভিল সার্জন এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কাঁচা কাঠ পোড়ানোয় কার্বন নির্গত হয়। তাই এ চুল্লির ধোয়ায় মানুষের শ্বাস কষ্টজনিত রোগ, পাকস্থলির রোগ, ব্রঙ্কাইটিস, স্নায়ুরোগ, এলার্জি সমস্যা ও চোখের সমস্যাসহ নানা রোগ হতে পারে। এছাড়া পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়।’ শিরগাতি সরদার পাড়ার জনৈক বৃদ্ধা জামিলা বেগম বলেন, ‘কয়লা ভাটার মালিক সামাদ আজাদ ১৬/১৭ বছর ধরে কাঠ পুড়িয়ে আসছেন। ফলে গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাই কষ্ঠকর। আর রাতে কয়লার গন্ধে ঘুমানো যায় না।’ স্থানীয় আমজাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘ইটভাটা ও কয়লার চুলার কালো ধোঁয়ায় শিশুসহ সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করায় ধোয়ায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।’ স্কুল ছাত্র মো. বাপ্পি বলেন, ‘চুল্লির ধোয়ায় চোখ জ্বালাপোড়া করে, কাশি লাগে। সন্ধ্যায় প্রচণ্ড গন্ধে পড়া যায় না।’ স্থানীয় কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘চুল্লি সংলগ্ন জমিগুলোতে ধানসহ অন্যন্যা ফসল উৎপদন ব্যহত হচ্ছে।’ রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, ‘কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি সম্পূর্ণ অবৈধ। এসব চুল্লী নির্মাণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন এ সমস্ত অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শিগাতির কয়লা চুল্লির মালিক সামাদ আজাদ বলেন, ‘প্রতি মণ কাঠ ১৩০ টাকায় কিনে তা থেকে কয়লা তৈরি করি। প্রতি কেজি কয়লা বিক্রি হয় ২৫/৩০ টাকা কেজি দরে।’ যুগিহাটির কয়লা চুল্লির মালিক মো. রুবেল বলেন, ‘চুল্লি তৈরি করতে ইউনিয়ন পরিষদের লাইসেন্স নিতে হয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের সঙ্গে মামলা চলছে। আমরা খারাপ কোনও কাজ করছি না। বিকল্প জ্বালানি তৈরি করছি।’ খুলনা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ড. মো. সোহরাব আলী বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি জানলাম। এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, ‘আমরা চলতি মাস থেকেই অভিযানে নামবো। এসব অবৈধ কাঠ কয়লার চুল্লী কেউ নির্মাণ করলে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY