বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল পাস

0
212

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: বিশেষ প্রেক্ষাপটে নারী-পুরুষের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ছাড় দেওয়ার বিধান রেখে বহুল আলোচিত ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল-২০১৭’ সংসদে পাস হয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি সোমবার বিলটি সংসদে পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো হয়। এসময় সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা হলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে’ মেয়েদের বিয়ের বয়সে ছাড় দেওয়ার বিধান রেখে বিলটি সংসদে ওঠে। পরে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলটি নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল আপত্তি তুলেছে। পরীক্ষা শেষে প্রস্তাবিত আইনে, ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে’ বিয়ের বয়সে ছাড়ের বিষয়টি শুধু নারীদের মধ্যেই আটকে না রেখে, পুরুষকেও এ সুবিধার আওতায় আনার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিলের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন হয়। সংসদে উত্থাপিত বিলে বিশেষ বিধান সম্পর্কে বলা হয়, এই আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনও বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনও নারীর সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশনাক্রমে এবং বাবা-মায়ের সম্মতিক্রমে বিধান দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ে হলে, তা এই আইনে অপরাধ বলে গণ্য হবে না। এখানে সংসদীয় কমিটি ‘কোনও নারীর’ শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ এবং ‘মাতা-পিতা’র সঙ্গে ‘প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের’ সম্মতির শব্দটি যোগ করেছে। বিলটি সংসদে স্থায়ী কমিটির সুপারিশসহ পাস হয়। ফলে নারীর পাশাপাশি পুরুষের ক্ষেত্রেও বিশেষ প্রেক্ষাপটের বিধান প্রযোজ্য হবে। একইসঙ্গে ওই বিধানে বাবা-মা বা যেখানে প্রয়োজন সেখানে অভিভাবকের সম্মতির বিধান রাখাও রাখা হয়েছে। এছাড়া পাস হওয়া বিলে ‘বিশেষ প্রেক্ষাপট’ বিধি দ্বারা নির্ধারিত রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে, যা সংসদে উত্থাপিত খসড়া আইনে উল্লেখ ছিল না। প্রস্তাবিত আইনে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স আগের মতো ১৮ বছর রাখা হলেও ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে’ অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের সুযোগ রাখা হয়।
এই বিধানের সুযোগে বাংলাদেশে বাল্য বিয়ে উৎসাহিত হবে আশঙ্কা করে তা বাতিলের দাবি তুলেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। বিলটির জনমত যাচাই ও সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বিশেষ বিধানটি সুস্পষ্ট করার সংশোধনী প্রস্তাব করে বলেন, ‘বলা হচ্ছে মানবিক কারণে এই বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। তবে এটা কোন কোন ক্ষেত্রে তা সুস্পষ্ট থাকা দরকার। না হলে এটার অপব্যবহার হতে পারে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনও ব্যক্তি অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোনও কন্যাকে বিয়ে করতে চাইলেন। কিন্তু আইনে অনুমতি দেয় না। এক্ষেত্রে ওই লোকটি ফুসলিয়ে কোনও মেয়ের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার মাধ্যমে যদি তাকে গর্ভবতী করে, তাহলে ওই লোক তো ওই বিশেষ বিধানের সুযোগ নিতে পারবে। কোর্টের অনুমতি ছাড়া বিশেষ বিধান নয় সংশোধনী প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ বিধানের এই সুযোগ যে কেউ চাইলেই পাবে না। কোনও অনভিপ্রেত ঘটনার ক্ষেত্রে পিতামাতা বা বৈধ অভিভাবক এবং আদালতের সম্মতি লাগবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কেউ বিয়ে দিতে পারবে না।’ বিশেষ বিধানের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার নারীবান্ধব সরকার। আমরা কন্যাদের সুরক্ষার জন্যই এই ধারা রেখেছি।’ এদিকে বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বলেন, ‘বাল্যবিবাহ সারা বিশ্বের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এ সমস্যাটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাল্যবিবাহ মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’ এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাল্যবিবাহ বন্ধে একটি যুগোপযোগী আইন থাকা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের দেশের মানুষ বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জানেন কিন্তু মানেন না। বাল্যবিবাহ বন্ধে সংসদে উত্থাপিত আইনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।’
পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, কোনও অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ বাল্য বিয়ে করলে, তিনি সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজারের বদলে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। সংসদে উত্থাপিত বিলে ১৫ দিনের আটকাদেশ বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের সম্মুখীন হওয়ার বিধান রাখা হয়। সংসদীয় কমিটি দণ্ডের বিধান পরিবর্তনের সুপারিশ করে।

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY