জীবনে সবচেয়ে বাজে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ম্যারাডোনা

0
182

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: আর্জেন্টিনার ফুটবল গ্রেট দিয়েগো ম্যারাডোনার খেলোয়াড়ি জীবন কম বিতর্কিত ছিল না। স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি, ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, মাদকাসক্তির কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন। তবে দেশকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপাজয়ে নেতৃত্ব দিয়ে রাজার আসনে বসলেও তার আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ হয় মাদকাসক্তির কারণে, যার শুরু ৮০’র দশকের মাঝামাঝি থেকে। আর এই মাদকে আসক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তকে জীবনের সবচেয়ে বাজে স্বীকার করলেন ম্যারাডোনা। এই মাদকের কারণেই জাতীয় দল থেকে বিতর্কিত হয়ে বিদায় নেন ৮৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচ খেলে বহিষ্কৃত হন ইফিড্রিন টেস্টে ধরা পড়ায়। এরপর আর কখনও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়া হয়নি। এর তিন বছর আগে ইতালিতে ড্রাগ টেস্টে তার শরীরে কোকেইনের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে ১৫ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হন ম্যারাডোনা। ১৯৯২ সালে ফিরলেও নাপোলি ছেড়ে যোগ দেন সেভিয়ায়, এরপর স্বদেশী ক্লাব নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজে খেলে ১৯৯৭ সালে ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ করেন বোকা জুনিয়র্সে। স্বাভাবিক বয়সে (৩৭) ফুটবলকে বিদায় জানালেও ম্যারাডোনার কীর্তি কিছুটা হলেও ম্লান হয়েছে ওই মাদকাসক্তির কারণে। বুটজোড়া একবারে তুলে রাখলেও আরও প্রায় এক দশক ভুগেছেন এ বাজে আসক্তিতে। আর্জেন্টিনার সাবেক এ অধিনায়ক বুঝতে পেরেছিলেন মাদক তার জীবনের কাল হয়ে এসেছিল। আর তাই মাদকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ে সফল হয়ে জীবন সম্পর্কে নতুন করে জেনেছেন তিনি। বয়স ২০ এর কিছুটা পার হতেই মাদকে জড়িয়ে পড়ার কথা ক্যানাল ৫’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন ম্যারাডোনা। শেষ পর্যন্ত ২০০৪ সালে সুস্থ জীবনে ফিরে আসেন তিনি। এজন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ ৫৬ বছর বয়সী, ‘যখন আমি মাদক নিতে শুরু করি তখন বয়স ছিল ২৪ বছর। আমি ছিলাম বার্সেলোনায়। আমার জীবনে নেওয়া সবচেয়ে বাজে সিদ্ধান্ত ছিল এটা।’ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের অনুভূতিও জানালেন ম্যারাডোনা, ‘যখন আমি কোমায় ছিলাম তখন আমার মেয়ে প্রার্থণা করছিল যেন তার জন্য বেঁচে থাকি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ কারণ তিনি তার কথা শুনেছেন এবং আমাকে জাগিয়ে তুলেছিলেন।’ বর্ণিল ও বিতর্কিত ক্যারিয়ারে অর্থ, মেয়ে ও মাদকের মধ্যে কোনটা সবচেয়ে বড় ধরনের হুমকি ছিল জানতে চাইলে একবাক্যে ম্যারাডোনা বলেছেন, ‘মাদক ছিল সবচেয়ে বড় সমস্যা- এটা মেরে ফেলে। আমি ভাগ্যবান যে এখানে আপনার সঙ্গে কথা বলছি। যদি এটা চালিয়ে যেতাম তাহলে আমি মারা যেতাম, কোনও সন্দেহ নেই। ১৩ বছর হলো মাদক ছেড়েছি এবং খুব ভালো আছি।’

সূত্র- গোলডটকম

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY