বরিশালে স্কুলছাত্র হত্যা: মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৬

0
186

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: বরিশালে স্কুলছাত্র সাইদুর রহমান হৃদয় গাজী হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত নগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- সায়েম (১৬), সাঈদ আবেদিন আব্দুল্লাহ ওরফে রাহাত (১৭), মুরাদ হোসেন (১৭), ইমন সিকদার (১৭). নুরুন্নবি নাহিদ (১৫) ও সৈয়দ মো. ইয়াসিন শান্ত। ছুরিকাঘাত করা আসামি মুরাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শান্তর ভাড়াটিয়া বাসার পাশ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে সবাই হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘শনিবার রাতেই হৃদয়ের বাবা শাহীন গাজী বাদী হয়ে একজনের নাম উল্লেখ এবং ৮/১০জনকে অজ্ঞাত রেখে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ এ হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত এবং মূল হোতাসহ ৬ জনকে আটকসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরিও উদ্ধার করেছে । এদের মধ্যে সাঈদ ও রাজুকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান নগর পুলিশ, কমিশনার। ৬ আসামি গ্রেফতার হওয়াতে মামলার ৮০ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সাইদুর রহমান হৃদয়ের সঙ্গে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (আলেকান্দা সরকারি কলেজের ) দশম শ্রেণির ছাত্র সাঈদ আবেদীন আব্দুল্লাহর দুটি বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। প্রথম দ্বন্দ্ব হলো, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দফতরি সাব্বির সরকারকে বিদ্রুপ করা নিয়ে এ দুই গ্রুপের মধ্যে অর্থাৎ হৃদয় ও তার বন্ধু এবং সাঈদ ও তার বন্ধুদের মারামারি হয়। অপরটি হচ্ছে, হৃদয় গাজীর বন্ধু আহাদ একই স্কুলের একটি মেয়েকে পছন্দ করতো, যাকে সাঈদও কয়েকদিন আগে পছন্দ করে প্রেম নিবেদনও করেছিল। এ সমস্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় স্কুল সংলগ্ন পরেশ সাগরের মাঠে হৃদয়কে একা পেয়ে সাঈদ ও তার সহপাঠী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭/৮জন অজ্ঞাতনামা কিশোর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে আহতাবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশের এ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম আজাদ, উপ পুলিশ কমিশনার (সদর) হাবিবুর রহমান, উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) আব্দুর রউফ খান, উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) উত্তম কুমার পাল প্রমুখ।

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY