রাস্তা-ফুটপাত-ড্রেন মেরামতে সীমাহীন গাফিলতি

0
202

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: রাজধানীর অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। প্রতিদিন অজস্র যানবাহন ও মানুষের চলাচল এ পথ দিয়ে। প্রায় চার মাস আগে সড়কের দু’পাশে ফুটপাত খোঁড়াখুঁড়ি করে ইটের ড্রেন (সারফেস ড্রেন) লাইন নির্মাণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঠিকাদার। এরপর প্রায় দু’মাস অতিবাহিত হলেও সেখানে ঢাকনা বসানো হয়নি। লোকজন চলাচল করেছে ঝুঁকি নিয়ে। সর্বশেষ গত সপ্তায় ঢালাই করে ড্রেন লাইনের উপরিভাগ বন্ধ করা হয়েছে। এ সময় ড্রেন লাইনের ময়লা পরিষ্কার করার জন্য জায়গায় জায়গায় ম্যানহোল রাখা হয়েছে। ঠিকাদার এসব ম্যানহোলের ঢাকনা নির্মাণ করেনি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। মেরামত কাজ নিয়ে এই গাফিলতি শুধু গুলিস্তানেই নয়, নগরীজুড়েই  এ দৃশ্য দেখা যায়, হোক তা ফুটপাত মেরামত বা উন্নয়ন, ড্রেনের নির্মাণ কিংবা প্রধান সড়কের মেরামত। প্রভাবশালী কোনও ঠিকাদার কার্যাদেশ পেলে সহসা কাজ শুরু করেন না। কোথাও শুরু করার আগে যেখানে-সেখানে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখেন মাসের পর মাস। কাজ শুরু হলে যেন আর শেষ হতে চায় না। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের মিরহাজীর বাগ আবু হাজী স্কুল রোডে ড্রেনেজ পাইপ লাইন স্থাপনের নামে চলছে চরম গাফিলতি। ঠিকাদার একদিন কাজ করলে তিন দিন করে না- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে। আবদুল করিম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ‘আবু হাজী স্কুল রোডে ড্রেনেজ লাইন স্থাপনের জন্য চার মাস আগে মোটা মোটা পাইপ এনে রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়। প্রায় দেড় মাস পাইপগুলো রাস্তার ওপর পড়ে থাকে। এরপর উন্নয়নের কাজ শুরু হয় আড়াই মাস আগে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর ঠিকাদারের লোকজন কাজ ফেলে চলে যায়। সিটি করপোরেশনকে বলাবলির পর গর্তে পাইপ ফেলে ম্যানহোল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু রাস্তাটি ঢালাই করা হয়নি।’ আবদুল করিম বলেন, ‘রাস্তাটি ঢালাই না হওয়ায় ভোগান্তির শেষ নেই।’ স্থানীয় কাউন্সিলর নাজমা খোকন ”মিরর বাংলা নিউজ”কে বলেন, ‘ঠিকাদার তার কাজে ঢিলেমি করছে। উন্নয়ন কাজ দ্রুত করার জন্য তাকে অনুরোধ জানিয়েছি। দেখি তিনি কি করেন।’ যোগাযোগ করা হলে ওই কাজের ঠিকাদারের প্রতিনিধি লেবার সরদার আলাউদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তিনি সরে যাওয়ায় কাজটি আটকে যায়। এরপর আমরা কাজ শুরু করি।’ আলাউদ্দিনের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয় গত শুক্রবার। সেদিন তিনি কাজ শুরুর দাবি করলেও পরদিন শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তাকে বা তার লোকজনকে কাজ করতে দেখা যায়নি। রেলগেইট থেকে জুরাইন কবরস্থান যাওয়ার পুরনো রাস্তাটি খুঁড়ে ড্রেনেজ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। অথচ রাস্তাটি মেরামত করা হয়নি। তাই এখানকার বাসিন্দাদেরও পায়ে হেটে চলাচল করতে হচ্ছে। কাকরাইল-শান্তিনগর সড়কের ড্রেনেজ লাইনের উন্নয়ন কাজ দু’মাস ধরে চলছে। রাস্তার মাটি এখন যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কর্ণফুলী গার্ডেন সিটিতে আসা এক ব্যবসায়ী আবুল হোসেন খান।  যাত্রাবাড়ী-দোলাইরপাড় সড়কের উন্নয়ন কাজও যেন শেষ হতে চাইছে না। মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের প্রশিকা মোড় থেকে শিয়ালবাড়ি পর্যন্ত সড়কের এক পাশে পনের দিন আগে গর্ত করে রাখা হয়েছে। গর্তের মাটি পড়ে আছে রাস্তায়। ড্রেনেজ লাইন স্থাপনের পর বেহাল ফেলে রাখা হয়েছে মহাখালী থেকে সেতু ভবন পর্যন্ত সড়কের একাংশ। প্রগতি সরণির শাহজাদপুরের বাশতলা থেকে বারিধারার কোকাকোলা পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে প্রায় ছয় মাস ধরে। রাস্তা খুঁড়ে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে রামপুরা সড়কেও। জানা গেছে, বর্তমানে ডিএসসিসির অর্থায়নে ৫০ কিলোমিটার সড়ক, ৫৪ কিলোমিটার নর্দমা ও ১৪ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়নের কাজ চলছে। অন্যদিকে ডিএনসিসির অর্থায়নে ৯৫ কিলোমিটার সড়ক, ৮৫ কিলোমিটার ফুটপাত ও ২৩ কিলোমিটার নর্দমা উন্নয়নের কাজ চলছে। এর পাশাপাশি রয়েছে চারটি প্রকল্পের অধীনে আরও ১৭৫ কিলোমিটার রাস্তা, ২১৩ কিলোমিটার নর্দমা এবং ১১৮ কিলোমিটার ফুটপাত ও সাড়ে ৫ কিলোমিটার মিডিয়ান উন্নয়ন কাজ। দুই সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি জরুরি সেবা দিতে ওয়াসা, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, ডেসকো, বিটিসিএলসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থা সড়ক কেটে তাদের লাইন বসাচ্ছে। নিয়মানুযায়ী সড়ক কাটার পর নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলো সঠিকভাবে মেরামত করে দেওয়ার কথা। কিন্তু একটা কাজেও নিয়ম মানা হচ্ছে না। যোগাযোগ করা হলে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী ফরাজি সাহাবুদ্দিন আহমেদ ”মিরর বাংলা নিউজ”কে বলেন, ‘মেরামত কাজ নিয়ে কতিপয় ঠিকাদারের গাফিলতির অভিযোগ আমরাও পাচ্ছি। এ জন্য তাদেরকে ওয়ার্নিং দেওয়া হচ্ছে। এরপরও কাজ শেষ না করলে কার্যাদেশ বাতিলসহ জরিমানা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘কার্যাদেশ দেওয়ার সময় প্রত্যেক ঠিকাদারকে কাজের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে তারা কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য।’ ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো.কুদরতউল্লাহ সোমবার  ”মিরর বাংলা নিউজ”কে বলেন, ‘রাস্তা দ্রুত মেরামত না হওয়ার প্রধান কারণ হলো, যেসব সংস্থা ইউটিলিটি সার্ভিস লাইন স্থাপনের জন্য রাস্তা কাটে,তারা সময় মতো কাজ শেষ করে না। কাজ শেষ হলেও কেউবা আমাদের ক্লিয়ারেন্স দেয় না। ফলে আমরা মেরামত করতে পারি না। তবে  যেসব ঠিকাদারের কাজে ঢিলেমি রয়েছে,তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আমরা  ব্যবস্থা নিয়েছি।

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY