‘রা’ নেই নূর হোসেনের পরিবারে

0
141

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় থেকে উত্তর দিকে আধা কিলোমিটার ভেতরে শিমরাইল টেকপাড়া এলাকা। খেজুর গাছবেষ্টিত সীমানায় পাশাপাশি কয়েকটি বাড়ি। এর মধ্যে দুই তলা দুটি আর পাঁচ তলা একটি ভবন রয়েছে। দুই তলা ভবনটিতে থাকত নূর হোসেন। বাড়িটিতে এখন বসবাস করছেন তার চতুর্থ স্ত্রী, যিনি সম্প্রতি দুদকের একটি মামলায় গ্রেফতার হলেও পরে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।
নূর হোসেনের ফাঁসির দণ্ডের খবরে পরিবারের সদস্যদের কী প্রতিক্রিয়া, তা জানতে তার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করা হলেও বাধার কারণে সম্ভব হয়নি। বরং গণমাধ্যমকর্মীদের দূরে রাখতেই বাড়ির আশেপাশে রাখা হয়েছে নিজস্ব লোকজনের প্রহরা। কেউ যাতে নূর হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্যই এ পরিস্থিতি, জানান প্রহরায় থাকা কয়েকজন যুবক।
মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ির ছবি তুলতে গেলে বাধা দেন ওই যুবকরা। তাদের সাফ কথা, এখানে ছবি তুলতে পারবেন না। এ বাড়ির ছবি তুলে আর লাভ নেই। বাড়িটির মালিক যে ব্যক্তি তার (নূর হোসেন) ছবি তো প্রতিদিনই ছাপা হচ্ছে।
প্রায় আধাঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নূর হোসেনের বর্তমান স্ত্রীর দুই সন্তান। তাদের একজন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। আরেক সন্তান নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় এবিসি স্কুলের শিক্ষার্থী।

নূর হোসেনের বাড়ির সামনে থাকা যুবকেরা জানান, সোমবার রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় খবর রটে যায় । পরিবারের লোকজনও তখন জেনে যায়। এরপর থেকেই বাড়িতে থাকা লোকজন আর বাইরে বের হচ্ছেন না।
নূর হোসেনের ভাই নুরুজ্জামান জজ কাঁচপুর সেতুর নিচে বালুর ব্যবসা করেন। মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে গিয়ে জজ মিয়াকেও পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাত খুনের পরপর নূর হোসেনের অতীতের কিছু স্ক্যান্ডাল প্রকাশ্যে চলে আসে। সাত খুনের আগে ২০১৩ সালের ১ নভেম্বর মারা যান নূর হোসেনের ছেলে বিপ্লব হোসেন। অভিযোগ ছিল, তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে বিপ্লবকে পিটিয়ে হত্যা করে পিতা নূর হোসেন। পরে তড়িঘড়ি করে বিপ্লবের নিহতের ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়। বিপ্লব ভারতের দার্জিলিংয়ে একটি কলেজে পড়াশোনা করতেন। তিনি ছিলেন নূর হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। বিপ্লবের মা বর্তমানে দুবাইতে অবস্থান করছেন।

নূর হোসেনের তৃতীয় স্ত্রীর বাড়ি ডেমরার সারলিয়ায়। তিনিও এখন স্বামীর সংসারে নেই। নূর হোসেনের বাড়িতে এখন আছেন তার চতুর্থ স্ত্রী।

এছাড়া সাত খুনের পর নূর হোসেনের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত আসনের এক সাবেক নারী কাউন্সিলরের সম্পর্কের খবরও রটে যায়। সাত খুনের আগে নূর হোসেনের গাড়িতে দেখা যেত তাকে। ওই নারী কাউন্সিলরকে একটি গাড়িও উপহার দিয়েছিল নূর হোসেন। রায় ঘোষণার পর নারী কাউন্সিলর সাংবাদিকদের জানান, আল্লাহ বিচার করেছে। আমি চাই সবার ফাঁসি কার্যকর হোক।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY