বাংলাদেশে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা উর্দুভাষীদের

0
218

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত নাগরিকত্ব নিয়ে একটি খসড়া আইন সম্পর্কে আশংকা প্রকাশ করেছেন দেশটির উর্দুভাষী জনগোষ্ঠী।

তারা বলছেন প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন ২০১৬ সংসদে পাশ হলে তারা আবারো রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়তে পারেন। বিষয়টি নিয়ে আজ সরকারের কাছে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর একটি সংগঠন।

তবে সরকার বলছে, আইনটি নিয়ে সমাজের বিভিন্ন অংশে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়গুলো নিরসনে সরকার কাজ করবে।

উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর একটি সংগঠন কাউন্সিল অফ মাইনরিটিজ এর নেতা খালিদ হোসেন বলছেন, এই খসড়ার কিছু ধারার ফলে তাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

“এই আইনটির দু’তিনটি জায়গা নিয়েই আমাদের উদ্বেগ। যেমন, ধারা চার এ বলা হয়েছে, জন্মসূত্রে নাগরিক যে হবে, তার পিতামাতাকে এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহন করতে হবে। কিন্তু আমাদের অনেকেরই পিতামাতা ভারত থেকে মাইগ্রেট করে এসেছেন। আবার অপর একটি ধারায় বলা হয়েছে, কারো পিতামাতা দেশের শত্রু হলে তারা নাগরিকত্ব পাবে না। কিন্তু দেশের ‘শত্রু’র কোন সংজ্ঞা পরিষ্কার করা হয়নি। উর্দুভাষী জনগণের একটি অংশ পাকিস্তানে চলে যেতে চেয়েছিল। আমাদের আশংকা এখানে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। ”

বাংলাদেশের উর্দুভাষী যারা বিহারী নামেই বেশি পরিচিত, এদের বেশিরভাগেরই পূর্বপুরুষ ভারত এবং পাকিস্তান থেকে এসেছেন। একটি অংশ নিজেদের আটকে পড়া পাকিস্তানি বলে পরিচয় দেন। এই অংশটি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর পাকিস্তানে ফেরত চলে যেতে চেয়েছিলেন। সেকারণে এখন নতুন প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে এই অংশটিকে দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে বলে আশংকা করছেন মি. হোসেন।

তিনি বলছেন, একইভাবে ২০০৮ সালে হাইকোর্টের একটি রায়ের মাধ্যমে উর্দুভাষীদের যাদের নাগরিকত্বের অধিকার দেয়া হয়েছে, সেটি বাতিল হয়ে যাওয়ারও আশংকা করছেন তারা।

এই উর্দুভাষী মানুষদের বেশির ভাগেরই জন্ম বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর। ফলে উর্দুভাষী জনগণের মধ্যে এই রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার আশংকাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে মন্তব্য করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম। তিনি বলছেন, এই জনগোষ্ঠীর প্রতিও সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে।

“যেহেতু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন ও প্রস্তাবে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে, ফলে দেশের ভেতরে যেকোন নাগরিকের মৌলিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার অস্বীকার করতে পারে না।”

তবে, সরকার বলছে, আইনটির খসড়া মন্ত্রীসভায় অনুমোদনের পর এনিয়ে সমাজের বিভিন্ন অংশে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আইনটির খসড়া যাচাই-বাছাইয়ের এর ক্ষেত্রে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্ন বা নাগরিকদের সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করা হবে।

“বিহারিরা যা বলছেন, তাদের এ ব্যপারটা দেখা হবে। বিহারি, প্রবাসীরা তাদের সন্দেহ ও উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছেন। যেহেতু এটা ভেটিং এর জন্য এসেছে, আমি সকলের সন্দেহ ও উদ্বেগের কথা শুনব এবং চেষ্টা করব এমন একটি আইন প্রণয়ন করতে, যাতে কেউই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

গত চার দশকের বেশি সময় ধরে তাদের বড় অংশটি নির্দিষ্ট কিছু ক্যাম্পে বসবাস করেন। সারা দেশে এরকম ১১৬ টি ক্যাম্প রয়েছে। ক্যাম্পের ভিতরে ও বাইরে আনুমানিক ছয় লাখের মত উর্দুভাষী মানুষ বাস করছেন বাংলাদেশে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY